বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

আইটি সোসাইটির সঙ্গে ইউটিউব ভিলেজে একদিন

পিয়াসা আক্তার আম্বিয়া
  ০৮ জুলাই ২০২৩, ০০:০০

'বয়সের সঙ্গে যেমন বুদ্ধি আসে ভ্রমণের সঙ্গে তেমন অভিজ্ঞতা আসে।' ভ্রমণের কথা মনে পড়লেই মন গেয়ে ওঠে আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!' এমনটা ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ মোবাইলে টুং করে আওয়াজ হলো মেসেজ আসার। দেখলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি থেকে ইউটিউব ভিলেজ ঘুরতে যাওয়া হবে। যদিও মেসেজটা প্রথমে দেখে অবাক হয়েছিলাম। কারণ মনে মনে বলা চলে এটাই আমি চাচ্ছিলাম। যেই কথা সেই কাজ। পরদিন সকালে সবাই রওনা হলাম ইউটিউব ভিলেজের উদ্দেশে। প্রথমে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বাসে করে কুষ্টিয়া পৌঁছালাম। এরপর ছিল ভিন্ন রাস্তা তাই আমরাও গাড়ি পরিবর্তন করলাম। প্রথমে আমরা ভাবছিলাম বাকিটা পথও বাসে যাব হয়তো কিন্তু আমাদের আইটি সোসাইটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ভাইয়া সবার সুবিধার জন্য একটা সিএনজি নিলেন। যেহেতু সিএনজিটি আমরা কয়েকজন মিলে রিজার্ভ করেছিলাম তাই বাকিটা পথ যাওয়ার সময় গান আর আড্ডা দিতে দিতে পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত ইউটিউব ভিলেজে। গাড়ি থেকে নেমেই সবাই ফটো তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল বলা যায়। আর ভাইয়ারা আমাদের ভিতরে প্রবেশের জন্য টিকিট কেটে নিলেন। তারপর আমরা প্রবেশ করলাম ইউটিউব ভিলেজ পার্কের ভেতরে। প্রথমেই চোখে পড়ল আম ঝোলানো আমগাছ, পানির ফোয়ারা সেখানে রয়েছে রং-বেরঙের মাছ। এসব দেখতে দেখতে ভিতরের দিকে চলতে শুরু করলাম। চারদিকে সবুজের সমারোহ। তবে দিনটা ছিল অনেক গরমের তাই আমরা ঘুরে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলাম না। প্রকৃতির মধ্যে নির্মল বাতাস বইছে। চারদিকে আম দুলছে আমগাছে, ফুলে ফুলে প্রজাপতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা চলে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। ফেসবুকে আগে দেখেছি সবাই ইউটিউব ভিলেজের লোগোর সঙ্গে ছবি তুলে আপলোড দিতে। তাই আমরাও এর ভিন্ন পথে না গিয়ে এরসঙ্গে কয়েকটি ফটো নিলাম। এরপর আমরা পার্কের মধ্যেই একটা রেস্টুরেন্টে এসে বসলাম কিছুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার জন্য। সবাই পস্ন্যান করলাম এই গরমে আইসক্রিম খেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে। তেমনটিই হলো আলামিন ভাইয়া বলে উঠলেন তিনি আইসক্রিম খাওয়াবেন। তখন সবাই চেঁচিয়ে বলল ওয়াও। আমরা ছিলাম মোট ১৩ জন। এমন মুহূর্তে দেখি যে আমাদের আইটি সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক মৃত্তিকা আপুর ফোন কল। আমরা সবাই আপুর সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হলাম। আমরা আপুকে মিস করছিলাম কোনো কারণবসত তিনি আজকে আমাদের সঙ্গে আসতে পারেননি। এরপর ঘোরার মধ্যে আবারও কিছু নাশতা করে নিলাম। তবে আমরা হঠাৎ জানতে পারি সিরাজুল ভাইয়ার বান্ধবীর বাসা এখানেই। আপুর নাম হলো তুহুরা। তার ভাইপো সজীব ভাইয়া ওখানকার একজন সহকর্মী। সিরাজ ভাইয়ার সঙ্গে সজীব ভাইয়ার ফোনে যোগাযোগ হয়। এরপর আমদের আমন্ত্রণ করেন ইউটিউব ভিলেজের সেই বিখ্যাত রান্নাঘরে। সেখানে গিয়ে দেখি ৪ জন বৃদ্ধ লোক রান্না করছেন সঙ্গে ৩ জন মহিলা তাদের সাহায্য করছেন। দেখলাম যেখানে রান্না হচ্ছে কাঁঠালের এঁচোড়, মুরগির মাংস, চাল দিয়ে বিরিয়ানি। জানতে পারলাম এই রান্নাগুলো সজীব ভাইয়ার রিলেটিভ যারা এর মালিক এবং তার সহযোগীদের নিজ উদ্যোগে করা হয় প্রতি সপ্তাহে যে কোনো একদিন। বিরিয়ানি রান্না করা হচ্ছিল প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য। এমন রান্নার ভিডিও আমরা দেখছি ইউটিউব থেকে। তবে সরাসরি এভাবে দেখব ভাবতে পারিনি। তাই অনেক ভালো লাগছিল। আমরা অনেক ফটো তুললাম, ভিডিও করলাম। সত্যি বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমরা ইউটিউবে যে জায়গা দেখি এখন সেই জায়গাটাতে বসে সরাসরি দেখছি। এরপর আবার আমরা ঘুরতে লাগলাম। দেখলাম যে কিছু তাদের হাতে তৈরি গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, ছোট লেক, লেকে নৌকা গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি ঘোড়ার গাড়িতে উঠলাম আঁখি আমার কয়েকটা পিক তুলে দিল। আমিও আঁখিকে কয়েকটা পিক তুলে দিলাম। মুস্কু এসে যোগ দিল আমাদের সঙ্গে ওর সঙ্গেও পিক তুললাম। আমি যখন গরুর গাড়িতে ছবি তুলছিলাম তখন একটা গান আমার মনে পড়ল 'আমরা গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে তুরতুর তুরতুর সানাই বাজিয়ে যাবো তোমায় শ্বশুরবাড়ি নিয়ে।' তারপর আমাদের দুপুরের খাবারের সময় হলে আমরা ইউটিউব ভিলেজের সেই ভাইরাল খাবার খাওয়ার জন্য যাচ্ছি এমন সময় দেখা হলো আমাদের সোসাইটিরই বাসু ভাইয়া। তিনি বলছিলেন আসবেন না হঠাৎ এসে সারপ্রাইজ দিলেন সবাই তো ভিষণ খুশি! এরপর সবাই একসঙ্গে খাওয়া শুরু করলাম। এইরকম বিরয়ানি রান্নাটা প্রথম খেলাম। সত্যিই স্বাদটা অসাধারণ ছিল। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষে রাঁধুনিদের সঙ্গে ফটো তুললাম। আরও কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করার পর আবারও রওনা হলাম ক্যাম্পাসের উদ্দেশে। তবে যাওয়ার সময় আমার মনে দাগ কেটে রইল পার্কের মনোরম পরিবেশ, ফুলে ফুলে প্রজাপতির সেই আনাগোনা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, নির্মল প্রকৃতি, সেই স্বাদের বিরিয়ানি আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দিনশেষে মনে হলো ইস! যদি মাঝেমধ্যেই এমন ভ্রমণ আমাদের আইটি সোসাইটি আয়োজন করত!

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে