বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জ্যোতি ছড়াচ্ছে 'স্ফুলিঙ্গ'

জাহাঙ্গীর বিপস্নব
  ০১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০
'স্ফুলিঙ্গ' চলচ্চিত্রে তিন অভিনয়শিল্পী পরীমনি, শ্যামল মাওলা ও জাকিয়া বারী মম
প্রথম চলচ্চিত্র 'দারুচিনি দ্বীপ'-এর মাধ্যমে দক্ষ চলচ্চিত্র নির্মাতার পরিচয় দিয়েছিলেন টিভি অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। দর্শকের পাশাপাশি সুধীমহল, চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিলেন তিনি। সেই থেকে তার ক্যারিয়ারে যোগ হয় চলচ্চিত্র নির্মাতার তকমা। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে থাকেন তিনি। একে একে নির্মাণ করেন 'রূপকথার গল্প', 'জয়যাত্রা, 'অজ্ঞাতনামা', 'হালদা', 'ফাগুন হাওয়ায়' চলচ্চিত্রগুলো। সবগুলো চলচ্চিত্রই অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে তাকে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে দেশের মাথা উঁচু করেছেন এ পরিচালক। সেই ধারাবাহিকতায় মহামারি করোনার মাঝেই বড়-সড় একটা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমেছেন তার সপ্তম চলচ্চিত্র নিয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত তৌকীর আহমেদ পরিচালিত 'স্ফুলিঙ্গ' সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে চলতি সপ্তাহে (গত শুক্রবার)। রাজধানীর স্টার সিনেপেস্নক্স, সীমান্ত স্কয়ার ও মহাখালী শাখা, যমুনা ফিউচার পার্কের বস্নকবাস্টার সিনেমা, নিউ মেট্রো, শ্যামলী, আনন্দ, চিত্রামহল, সেনা অডিটরিয়াম, বিজিবি, চন্দ্রিমা, নিউ গুলশান, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ, রংপুরের শাপলা, বগুড়ার সোনিয়া, পাবনার রূপকথা, বরিশালের অভিরুচি, সিলেটের নন্দিতা, চট্টগ্রামের সুগন্ধা, ময়ময়নসিংহর পূরবী, দিনাজপুরের মডার্ন, ফরিদপুরের বনলতা, টাঙ্গাইলের মালঞ্চ ও খুলনার লিবার্টি, সংগীতাসহ দেশের ৩৫টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। বিভিন্ন সিনেমাহল পরিদর্শন ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার এই আতঙ্কের সময়েও বেশ দর্শক সমাগম রয়েছে। সব মিলিয়ে ভালোই ব্যবসা করছে চলচ্চিত্রটি। বরাবরের মতো এবারও সুধীমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে তৌকীরের 'স্ফুলিঙ্গ'। চলচ্চিত্রটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন পরিচালক তৌকীর আহমেদ নিজেই। 'স্ফুলিঙ্গ'র সিনেমার প্রেক্ষাপট একটি ব্যান্ড দলকে ঘিরে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মূলত চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৌকীর আহমেদ। তিনি বলেন, 'এটি আমার সপ্তম ছবি। এর আগে ছয়টি ছবি নির্মাণ করে প্রশংসা পেয়েছি। ছবিটি দেখার পর ভালো লাগলে ভালো বলবেন আর খারাপ লাগলে খারাপটাও বলবেন। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা নিতেও আমি প্রস্তুত।' চলচ্চিত্রে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, পরীমনি ও শ্যামল মাওলা। এতে মম আইরিন চরিত্রে, শ্যামল মাওলা পার্থ চরিত্রে ও পরীমনি অভিনয় করছেন দিবা চরিত্রে। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, শহীদুল আলম সাচ্চু, হাসনাত রিপন ও রওনক হাসান। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তৌকীরের পরিচালনায় প্রথমবারের মতো কাজ করলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। 'স্ফুলিঙ্গ' নিয়ে অনেকটা আশাবাদী কণ্ঠে পরীমনি বলেন, 'সিনেমাটিতে অভিনয়ের আগেই তৌকীর ভাই আমাকে বলেছিলেন- চলচ্চিত্রের দিবা চরিত্রের জন্যই নাকি আমি তৈরি ছিলাম, তাই আমাকেই দিবা চরিত্রে নেওয়া। শুধু আমার কালার করা চুল কালো করতে হয়েছে দিবাতে রূপ দেওয়ার জন্য। আমি আমার অভিনয় দিয়ে দিবাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমার প্রতি দর্শকের যে ভালোবাসা আছে, সেই ভালোবাসা আজীবন পেতে চাই। আগামী দিনে আরও ভালো ভালো চরিত্র ও চলচ্চিত্র উপহার দিতে চাই।' অন্যদিকে এ সময়ের ভার্সেটাইল অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম এক যুগেরও বেশি সময় পর তৌকীর আহমেদের চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। ১৩ বছর আগে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করার পর জাকিয়া বারী মমকে নিয়ে 'দারুচিনি দ্বীপ' নির্মাণ করেন তৌকীর আহমেদ। তারপর লম্বা বিরতির পর ফের তৌকীরের পরিচালনায় কাজ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মম। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় পর তৌকীর ভাইয়ের নির্দেশনায় কাজ করতে এসে তার প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে গিয়ে ভয় পাই। তারপরও নিজেকে যথাযথভাবে এই সিনেমাতে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চরিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তৌকীর ভাই নিঃসন্দেহে এই সময়ের অন্যতম মেধাবী পরিচালক, যিনি জেনেবুঝে কাজ করেন। বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে বারবার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। আর আইরিন চরিত্রটিই শুধু নয়, পুরো গল্পটাকে মাথায় রেখে চরিত্রটির জার্নির মধ্যেই ছিলাম।' সবাইকে চলচ্চিত্রটি দেখার আহ্বান জানিয়ে মম বলেন, কাজটা করার সময় খুব সক্রিয় ছিলাম। দারুণ উপভোগ করেছি। তৌকীর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। অদ্ভুত সুন্দর গান আছে সিনেমায়। আছে বন্ধুত্ব, বোঝাপড়ার গল্প। গল্পটা বিনোদিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। সবাই সিনেমাটি দেখতে যাবেন।' চলচ্চিত্রটি নিয়ে শ্যামল মাওলা বলেন, 'স্ফুলিঙ্গতে আমি পার্থ চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই চরিত্রটিতে রূপদানের জন্য নিজেকে বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে। আমাকে যথেষ্ট শুকাতেও হয়েছে জিম করে। মূল কথা, এই গল্পের পার্থ চরিত্রটি আমার জন্য ভীষণ চ্যালেঞ্জের। অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হচ্ছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা তৌকীর ভাইকে যে, তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে