এবার চলচ্চিত্রেও উজ্জ্বল সজল

এবার চলচ্চিত্রেও উজ্জ্বল সজল

অভিনয় ও মডেলিং জগতের শীর্ষতম এক তারকা আব্দুন নূর সজল। দেখতে দেখতে ক্যারিয়ারের দুই দশক পার করেছেন এ মডেল অভিনেতা। তবে এখনো এতটুকু আবেদন কমেনি তার। ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক নাটকের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। রোমান্টিক নাটকে তার চাহিদা থাকলেও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাতে সফলতাও পান। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দিয়ে চলচ্চিত্রেই বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ হাতে রয়েছে তার। সম্প্রতি ওটিটি পস্ন্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত 'ব্যাচ-২০০৩' নামের একটি ওয়েব ফিল্ম। এটি মুক্তির পরপরই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সজল। রোমান্টিক ইমেজের বাইরে অভিনেতা সজল যে সত্যিই অনবদ্য- তা আবারো প্রমাণ করছেন এই চলচ্চিত্র দিয়ে। সাইকোলজিক্যাল-এ থ্রিলার চলচ্চিত্রে সজল হাজির হয়েছেন খলনায়ক হিসেবে। চরিত্র খল হলেও মূল গল্পের নায়ক হয়েই বাজিমাত করে দিয়েছেন তিনি। সজলের খল অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয় সজল ও তার চলচ্চিত্রটি। সজলের দুর্দান্ত অভিনয়ের বিষয়টি অনেকেই ফেসবুকের ওয়ালে লিখেন। যা একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্য। তবে এই চরিত্রের জন্য সজলকে কাঠখড় কম পোড়াতে হয়নি। নিজেকে প্রস্তুতের জন্য টানা ৬ মাস অন্য কোনো কাজ করেননি। এই সময়টা তিনি চরিত্রে বুঁদ হয়েছিলেন, ৬ মাস দাড়ির গেটআপসহ বেশকিছুর পরিবর্তন আনতে হয়েছিল তাকে।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে সজল বলেন, 'সবার কাছে কাজটি ভালো লেগেছে জেনে সত্যি আমি পরিতৃপ্ত। কষ্ট করার পর যখন সেটার ভালো একটা ফল হাতে পাই, তখনই কিন্তু সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। এখানেও তাই হয়েছে। 'ব্যাচ-২০০৩' চলচ্চিত্রটি যারা দেখেছেন তারা বুঝেছেন কতটা পরিশ্রম ছিল এ কাজটির জন্য। এই চরিত্রটির জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আসলে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি এ রকম চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের প্রতি ব্যাপক আগ্রহী। গতানুগতিকের বাইরে এমন চরিত্র করতে চাই যার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। কারণ পরিশ্রমের ফল মিষ্টি হয়। চলচ্চিত্রের পরিচালক পার্থ সরকারসহ ইউনিটের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সামনে ব্যতিক্রম এমন কিছু কাজ করতে চাই যেসব কাজের গল্পে সামাজিক বার্তা বহন করবে।'

আরেকটি তথ্য হলো, এই চলচ্চিত্রে সজল আরেকটি চমক দেখিয়েছেন গান গেয়ে। চরিত্রের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতেই পরিচালকের একান্ত অনুরোধে 'ধ্বংস আগুন' শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গানটি লিখেছেন এবং সুর করেছেন বাপ্পী খান। এ বিষয়ে সজল বলেন, 'এই প্রথম গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আমার একেবারেই ইচ্ছে ছিল না পরিচালক বললেন চরিত্রের স্বার্থেই আমাকে গানে কণ্ঠ দিতে হবে। রেকর্ডিংয়ে দাঁড়িয়েও আমি না করেছিলাম।'

'ব্যাচ-২০০৩' চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর সজল বেশকিছু নতুন কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন। সব কটি চলচ্চিত্রের। তবে প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো লুফে নেননি তিনি। গল্প-চরিত্র ও অন্যান্য সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কি নাটক ছেড়ে চলচ্চিত্রেই নিয়মিত হচ্ছেন? জবাবে সজল বলেন, 'নাটক-চলচ্চিত্র দুটোই অভিনয়ের জায়গা। দুটোতেই আমি কাজ করতে চাই। তবে গড়পড়তা কাজ করব না।'

এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে সজল অভিনীত 'জ্বীন' নামের একটি চলচ্চিত্র। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করেছেন নাদের চৌধুরী। অপেক্ষায় আছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের 'পাফ ড্যাডি' নামের একটি ওয়েব সিরিজ। চলচ্চিত্রের ব্যস্ততায় এবার ঈদের জন্য সজল টিভি নাটকে অভিনয় করেননি। তবে বিভিন্ন চ্যানেলে আগের শুটিং শেষ করা বেশকিছু নাটক প্রচার হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে আছে মাহমুদ হাসান রানার 'জার্মোফোবিয়া', সরদার রোকনের 'ইজি লাভ বিজি মন' ও শায়দ মামুর কাব্যর 'বিএফ'। ঈদের পর শুটিংয়ে ফিরেছেন সজল। একটি নাটকের শুটিংও শেষ করেছেন।

মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করা সজল প্রথম অভিনয় করেন ২০০৪ সালে তন্ময় তানসেনের পরিচালনায় 'প্রেমা' নাটকে। আফজাল হোসেন পরিচালিত 'হিরা ফুল' ছিল তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক। প্রথম থেকেই নাটকের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। সেই থেকে এখনো সমানতালে অনবদ্য অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন। ক্যারিয়ারের এই লম্বা সময় নিয়ে বলেন, 'কাজের মধ্য দিয়েই ক্যারিয়ারের এই সময়টা পার করেছি। সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা ছিল। দর্শকের ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভিন্নধর্মী কাজের মাধ্যমে অগণিত দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। তাদের ভালোবাসা আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে সহজ করে দিয়েছে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে