অভিষেকের অপেক্ষায় ঐশী

অভিষেকের অপেক্ষায় ঐশী
জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী

ছোটবেলা থেকেই ছোট-বড় নানা স্বপ্ন দেখে মানুষ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে স্বপ্নের। মনের মধ্যে জায়গা করে নেয় নতুন কোনো স্বপ্ন। কেউ কেউ আবার মনের মধ্যে দৃঢ় আবদ্ধ করে রাখেন একটি স্বপ্ন। বয়স যত বাড়ে ততই যেন স্বপ্নটা আরও মজবুত হতে থাকে। তেমনই এক স্বপ্নবাজ তরুণী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট জিতে যিনি নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। যেদিন মাথায় উঠেছিল সুন্দরীর মুকুট, সেদিন থেকেই সিনেমার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ঐশীর। এ কারণে কয়েকটি বিজ্ঞাপনে তাকে দেখা গেলেও নাটক কিংবা টেলিফিল্মে দেখা যায়নি তাকে। এর কিছুদিন পরই স্বপ্নটা চলে আসে হাতের মুঠোয়। প্রত্যাশামতো ডাক পান 'মিশন এক্সট্রিম' নামক একটি সিনেমায়। এটিতে তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল গত বছরের রোজার ঈদে। কিন্তু অভিষেকের আগেই তিনি মুখোমুখি হলেন মহামারি করোনার থাবায়। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর কেটে গেছে এক বছর। ছবির নির্মাতাপক্ষ 'মিশন এক্সট্রিম' প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গত রোজার ঈদে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে আবারও বেড়ে গেছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। বেড়ে যাওয়ায় আবার স্বপ্ন পূরণ থেকে অনেকটা দূরেই সরে যান এ সুন্দরী। জীবনের প্রথম সিনেমা বলে কথা। এ কারণে

স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ার কথা ঐশীর। বললেন, 'প্রথম সিনেমা, প্রত্যাশাও অনেক। পরীক্ষার আগে যেমন চাপ থাকে তেমন চাপ মুক্তির তারিখ ঘোষণার পরে অনুভব করেছি। কিন্তু বারবার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই একটু মন খারাপ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সময়টাতো মহামারির। এখন অনেক কিছুই আগের মতো হবে না। অনেক কিছুই নানাবিধ সংশয় ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে। মেনে নিয়েছি। সিনেমা মুক্তির চেয়ে স্বাভাবিক পৃথিবীতে ফেরার আকুতি এখন অনেক বেশি। অন্য কোনো কারণে মুক্তির তারিখ পেছালে হয়তো ভেঙে পরতাম। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি তো প্রতিটি মানুষের সংকট। সংকটে স্বপ্ন ভাঙলে খুব বেশি চাপ লাগে না। 'আমার বিশ্বাস মানুষ সচেতনতা দিয়ে করোনাভাইরাসকে জয় করবে। তখন হয়তো মুক্তি পেতেও পারে সিনেমাটি'।

কিন্তু উলেস্নখযোগ্য প্রচারণা ছাড়া সিনেমা মুক্তি পেলে তা কতটুকু সাড়া ফেলতে পারবে? এ প্রশ্নের জবাবে ঐশী বলেন, 'প্রচার মাধ্যমের সোনালি যুগে এসে প্রচারণা অবশ্যই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লকডাউনের আগে সিনেমার প্রযোজকের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি দেশের বাইরে আছেন। বলেছিলেন, দেশে ফিরে পুরোদমে প্রচারণার কাজ শুরু হবে। কিন্তু শুরু হয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধকতা আরেকবার। আমার বিশ্বাস এরপরেও এটি দর্শকদের হলে টানতে পারবে। কারণ, মিশন এক্সট্রিমের গল্প, চিত্রনাট্য, অভিনয় সব মিলিয়ে দুর্দান্ত কিছু একটা হয়েছে। এই সিনেমার প্রচারক হবে দর্শকরাই। একবার যিনি সিনেমাটি দেখে বের হবেন তার মুখের গল্পে আরও ১০ জন এটি দেখতে আসবেন। ছবিতে আমার চরিত্রটি মরুভূমির মাঝে ঝর্ণার মতো।'

তিনি আরও বলেন, 'সিনেমাটি মুক্তির জন্য এক বছরের এই অপেক্ষা আমাকে মানসিকভাবে একটুও দুর্বল করেনি। এটা ভেবে অবাকও হয়েছি মাঝে মাঝে। এই সাহস কীভাবে জন্মালো- জানি না। তবে এটা আমার জীবনের জন্য একটা ধৈর্যের পাঠ। আশা করছি, যেদিন দর্শকের সামনে মিশন এক্সট্রিমের পর্দা উন্মোচিত হবে সেদিন জন্ম নেবে এক অন্য ঐশীর।'

আদনান আল রাজীবের নির্দেশনায় গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে মিডিয়াতে যাত্রা করা ঐশী অভিনীত আরও দুটি ছবি মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এরই মধ্যে। এটি মীর সাব্বিরের পরিচালনায় সরকারি অনুদানের সিনেমা 'রাত জাগা ফুল' অন্যটি আবু তাওহীদ কিরণের 'আদম'। সিনেমাগুলোতে যথাক্রমে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে আছেন আবু হুমায়রা তানভীর ও ইয়াশ রোহান। তিনটি সিনেমা নিয়েই ভীষণ প্রত্যাশা ঐশীর। ঐশী বলেন, 'এখনো মাঝে মাঝে যখন ভাবি যে, আমি মীর সাব্বির ভাইয়ের মতো একজন মেধাবী অভিনেতা, নির্মাতার পরিচালনায় সিনেমাতে অভিনয় করেছি, তখন আমার নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। একজন নির্মাতা হিসেবে সত্যিই সাব্বির ভাই অন্যরকম, অসাধারণ একজন নির্মাতা। সিনেমার গল্পটা যেমন একেবারেই ভিন্ন, ঠিক তেমনি তিনি এত যত্ন করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন যে, সত্যিই সিনেমাটি দেখার জন্য ভীষণ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। তার সব কাজ এত নিখুঁত ছিল যে, শুটিংয়ের সময় সব প্রস্তুত থাকত, আমি বা আমরা যারা শিল্পী তার নিজেরা তৈরি থেকে শুধু ক্যামেরার সামনে গিয়ে অভিনয় করতাম। অন্যদিকে 'আদম' সিনেমাতে আমাকে আশির দশকের গ্রামের এক মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে। এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে আমাকে নির্মাতা অনেক সহযোগিতা করেছেন। কারণ আশির দশকে আমার জন্মই হয়নি। মিশন এক্সট্রিমে আমাকে শহুরে এক মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে 'রাত জাগা ফুল', 'আদম' এবং 'মিশন এক্সট্রিম' তিনটি তিন ঘরানার গল্পের সিনেমা। এখন শুধু অপেক্ষা সিনেমা তিনটি মুক্তির। দোয়া করছি, আলস্নাহ যেন দ্রম্নত করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেন। আমরা যেন নতুন স্বাভাবিক একটি পৃথিবী পাই দ্রম্নত।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে