সানিয়া সুলতানা লিজা

আপন আলোয় উজ্জ্বল

আপন আলোয় উজ্জ্বল

এ প্রজন্মের নতুন ক্রেজ বলা হয় সানিয়া সুলতানা লিজাকে। একাধারে যিনি কণ্ঠশিল্পী ও উপস্থাপক। এ দেশে যখন থেকে সংগীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো'য়ের প্রচলন হয় অনেক কণ্ঠশিল্পী চ্যাম্পিয়ন/রানারসআপ হয়ে বেরিয়ে আসেন। তাদের অনেকে নিজস্ব স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল আছেন কেউ বা বাস্তবতার শিকার হয়ে ম্স্নান হয়ে গেছেন। কিন্তু লিজা যেন ক্রমশ দিনে দিনে আরো বেশি একান্ত স্বকীয়তায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন। সেই যে ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন 'ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ' রিয়েলিটি শো'তে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর আর থামতে হয়নি তাকে। বরং এক স্টেজ শো আর একক ও দ্বৈত গান মাতিয়ে চলেছেন। প্রকাশ করছেন নিজস্ব চ্যানেল 'লিজা' বা অন্যান্য পস্ন্যাটফর্মে। পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ারটাকেও গর্বিত করার পথে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়াশোনা করে।

দেখতে দেখতে এই কণ্ঠশিল্পী গানের ক্যারিয়ারের ১৪ বছরে পদার্পণ করলেন। মাস কয়েক আগে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়েছেন। এমন একটি মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে সানিয়া সুলতানা বলেন, 'বিটিভিতে তো আমি সেই ২০০৮-০৯ সালের দিকেই তালিকাভুক্ত হই। কিন্তু বেতারে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এর কারণও আছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্টেজ শোসহ অন্যান্য মাধ্যমে ব্যস্ত থাকাতে বেতারে অডিশন দেয়ার মতো সময় পাচ্ছিলাম না।

পরে তারা যখন আমাকে ডাকলেন আমার তো ভীষণ ভালোই লাগল। কারণ এটা একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের অনেক বড় বড় শিল্পী গান করেছেন বেতারে। ২ মার্চ এখানে প্রথমবারের মতো দুটি মৌলিক গান গাওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে আমার নামটি তালিকাভুক্ত হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। গান দুটিতে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় কামাল আহমেদ ভাই। আমি এ ছাড়া বেসরকারি চ্যানেলগুলোসহ বিভিন্ন এফএম রেডিওতেও গেয়ে থাকি। তবে বিশেষ অনুষ্ঠানে হলেই গাই, নয়তো হরদম কোনো গান করি না।'

নতুন কোনো গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নে লিজা বলেন, 'ঈদে কয়েকটি চ্যানেলে গান করেছি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও নতুন গান ছাড়া হয়েছে। চলতি মাসেই আসিফ ভাইয়ের (আসিফ আকবর) সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছর পর আবার ডুয়েট গান করলাম। 'ফেরে না হারানো দিনগুলো, পথে ওড়ে স্মরণের ধুলো/যে ছিল কাছেই একদিন, তার মুখ স্মৃতিতে মলিন, মলিন স্মৃতির ফুলগুলো'- গানটির কথাসহ সুর করেছেন ওপার বাংলার শিল্পী কবীর সুমন। সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। কোরবানির ঈদে গানটি প্রচার হয়। এখন আসিফ ভাইয়ের নিজস্ব চ্যানেলে দেখতে পাবেন।'

স্টেজ শো এবং নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে লিজা বেশ জনপ্রিয় হলেও গানের এত বছরের ক্যারিয়ারে পেস্ন-ব্যাকে যেন অনেকটা পিছিয়েই আছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা মাত্রই লিজার সহজ সরল অকপট কথা- 'আমাদের তো বাধ্য হয়েই স্টেজ শোতে পড়ে থাকতে হয়। নয়তো আমিও চাই নিয়মিত পেস্ন-ব্যাক করতে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০টির বেশি পেস্ন-ব্যাক করেছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, এখন আগের মতো প্রচুর সিনেমা হচ্ছে না। প্রচুর সিনেমা যদি হতোই আমাদের পেস্ন-ব্যাকের কাজও বেশি থাকত। যেসব সিনেমা হচ্ছে তাতেও খুব বেশি গান থাকে না। কোনো কোনো সিনেমায় তো গানই থাকে না। বলতে পারেন পেস্ন-ব্যাকের ক্ষেত্রে আমাদের প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই একটা আফসোসের জায়গা; দুর্ভাগ্য, আমরা সিনেমার স্বর্ণালি সময়টা পেলাম না। অথচ দেখেন স্বর্ণালী যুগের শিল্পীরা পেস্ন-ব্যাক দিয়েই স্মরণীয় হয়ে আছেন। যত কালজয়ী গান হয়েছে তার বেশির ভাগই এসেছে পেস্ন-ব্যাকের মাধ্যমে। এ বছর মাত্র একটি- কিছুদিন আগে এস ডি রুবেল পরিচালিত 'বৃদ্ধাশ্রম' ছবিতে 'কে তুমি এলে জীবনে'- গানে কণ্ঠ দিয়েছি।'

তাহলে তো সেই স্বর্ণালী সময়টা আপনাদের জন্য প্রচন্ড একটা আক্ষেপের জায়গাও- কী বলেন?- এমন কথায় হতাশ না হয়ে অনেকটা আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গেই যেন জবাব দিলেন লিজা- 'না, এই সময়টা সবসময়েই একইরকম যাবে- এমন নয়। আমাদেরও অনেক সিনেমা হবে। এখন তো এফডিসিতে রেনোভেশন চলছে। সিনেপেস্নক্স হচ্ছে, সিনেমা হলগুলো সুন্দর হচ্ছে। আশা করছি, আবার নতুন করে সিনেমা হবে। নায়ক-নায়িকারা আবার আগের মতো আসবে। আমরাও আগের মতো ব্যস্ত হয়ে উঠবো। দিন তো সবসময় একই রকম যায় না। এরও পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক নতুন কিছু সিনেমা মুক্তি পেল এবং আরও যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে- এসব দেখেও বোঝা যাচ্ছে সেই পরিবর্তনটিই আবার আসছে।'

স্টেজ শো'তে যেসব গান হয় বেশির ভাগই প্রচলিত - তাতে মৌলিক গান কেমন হয় জানতে চাইলে লিজা বলেন, 'আমরা তো সারভাইব-ই করছি। স্টেজে আমি নতুন পুরাতন মিলিয়েই গান করি। যদি সাতটি গান গাই তাতে চারটি গানই থাকে নিজের। যেসব গান গাই ভালোই রেসপন্স পাই।

আসলে স্টেজে যে রেসপন্স পাওয়া যায় পেস্ন-ব্যাক, অডিও, টিভি, ইউটিউব বা অন্য কোথাও সরাসরি এমন রেসপন্স পাওয়া যায় না।' এখনকার গানে তো বেশ পরিবর্তনও এসেছে, এটাকে কেমন মনে করছেন- এমন প্রসঙ্গে লিজা বলেন, 'আমি মনে করি যত সময় যাবে ততই এই পরিবর্তন হতে থাকবে। আগে মানুষ যেভাবে ধান কাটতো এখন তো কেউ সেভাবে ধান কাটে না। এরকমই তো। পরিবর্তন ইতিবাচকভাবেই নিতে হবে। আমার নিজের ভালো লাগার কথা যদি বলেন, ৩০/৪০ বছর আগের সব গানই আমার ভালো লাগতো। সে গানগুলো আসলেই ডিফারেন্ট। আমি সবসময়েই পুরনো গানগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনি। আর আমাদের গানের কথা যদি বলেন, আমরাও খুব অস্থির। তবে আমাদের গানগুলোও বোঝার জন্য ৩০/৪০ বছর সময় দিতে হবে। সেই সময়ের পরে যেসব গান ঝরে গিয়ে যা থাকবে- আসলে সেগুলোই আমাদের গান।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে