বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

আলো ঝলমলে সজল

আব্দুন নূর সজল- বিনোদন জগতের আলোকিত একটি নাম। শোবিজের প্রায় সব শাখাতেই যার অবাধ বিচরণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মডেলিং, নাটক, টেলিছবিতে পারফর্ম করে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। টেলিভিশন, ওয়েব পস্ন্যাটফর্মের পাশাপাশি এখন চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত বেশ। বলা চলে অভিনয় জীবনের আলো ঝলমলে সময় পার করছেন এই মডেল-অভিনেতা। বৈচিত্র্যময় চরিত্র দিয়ে দর্শককে হাসি-কান্নার মধ্যে রাখলেও অভিনয়ের বাইরে সবার কাছে তিনি হাসিমুখের অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। সদাহাস্যোজ্জ্বল এই অভিনেতার বর্তমান হালহকিকত নিয়ে লিখেছেন মাসুদুর রহমান
নতুনধারা
  ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
হেমন্তের মধ্য দুপুরে যোগাযোগ করা হয় এই তারকার সঙ্গে। কুশলাদী বিনিময়ের পর জানালেন ভীষণ ব্যস্ত আছেন শুটিং নিয়ে। নাটক কিংবা চলচ্চিত্র নয়, নতুন একটি ওয়েবের কাজ। শুটিং চলছে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে। টানা শুটিং চলবে প্রায় সপ্তাহখানেক। তবে নতুন এই কাজটি নিয়ে তেমন কিছু বলতে রাজি হননি। হেসে হেসেই বলেন, 'একটি ওয়েবের শুটিং করছি। তবে এর নাম বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখন কিছু বলা মনে হয় ঠিক হবে না। কো-আর্টিস্ট কে বা কারা সেটাও বলতে চাইছি না। থাক না বিষয়টি একটু চমক হয়ে!' এর আগে গত বছরে ওয়েব ফিল্ম 'ব্যাচ-২০০৩' দিয়ে চমকই দেখিয়েছিলেন সজল। রোমান্টিক ইমেজের বাইরে অভিনেতা সজল যে সত্যিই অনবদ্য- তা আবারো প্রমাণ করছেন এই চলচ্চিত্র দিয়ে। সাইকোলজিক্যাল-এ থ্রিলার চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেছে খলচরিত্রে। চরিত্র খল হলেও মূল গল্পের নায়ক হয়েই বাজিমাত করে দিয়েছেন তিনি। সজলের খল অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয় সজল ও তার অভিনীত চলচ্চিত্রটি। সজলের দুর্দান্ত অভিনয়ের বিষয়টি অনেকেই ফেসবুকের ওয়ালে লিখে জানান দেন- যা একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। নতুন এই ওয়েবে সজলের বিপরীতে কে অভিনয় করছেন, সেটি জানা না গেলেও ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন সারিকা, জাকিয়া বারী মম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, বিদ্যা সিনহা মিম, সুমাইয়া শিমু, আনিকা কবীর শখ, মেহজাবিন চৌধুরী, আফসান আরা বিন্দু ও অপি করিম থেকে শুরু করে হালের প্রায় সব উঠতি অভিনেত্রীর সঙ্গেই। প্রতিষ্ঠিত অনেক অভিনয়শিল্পী নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে বাদ সাধলেও ব্যতিক্রম সজল। এ ব্যাপারে বরাবরই উদারতা দেখিয়ে নিজেকে বড় মনের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নাটকে তার এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নতুনদের সঙ্গে পর্দায় শেয়ার করতে কোনো আপত্তি নেই এই তারকার। বরং নতুনদের সঙ্গে কাজ করে তাদের উৎসাহিত করেন। শুধু তাই নয়, অনেকে নতুনদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও তার মন্তব্য- 'আমি এ পর্যন্ত যেসব নতুনদের সঙ্গে কাজ করেছি সবার মধ্যে আন্তরিকতা, চিন্তা, মনোভাবনা ও আগ্রহটা অনেক শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে। ওরা সুযোগ পেলে আরও ভালো করবে। ওদের থেকেই এক সময় বড় বড় তারকা তৈরি হবে।' নতুনদের নিয়ে প্রশংসা করলেও পাশাপাশি তাদের পরামর্শ দিতেও ভুলেননি সজল। বাস্তবতার আলোকে তিনি বলেন, 'তারকা হওয়ার নেশায় তাড়াহুড়ো না করে মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে ওরা ভালো করবে। আসলে কোনো কিছুই তাড়াহুড়ো ভালো না। তাড়াহুড়ো করলে ফসকে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কোনো কিছু আস্তে-ধীরে অর্জন করাই ভালো। সেটা স্থায়িত্ব পায়। শুধু অভিনয়ের বেলায় নয়, সব ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে অধ্যাবসায়, সাধনা থাকতে হবে। সজল প্যাকেজ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৬ সালে ছোট পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক নাটকের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। রোমান্টিক নাটকে তার চাহিদা থাকলেও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। তাতে সফলতাও পান। গত কয়েক বছরের ভিন্ন ধারার নাটকে তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। হৃদয় ছুঁয়ে যায় এসব নাটকে তার অভিনয়। এ নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, 'কয়েক বছর ধরেই আমি বার্তা প্রধান নাটককে গুরুত্ব দিচ্ছি। অপেক্ষায় থাকি বার্তা প্রধান নাটকের। যে সব নাটকে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক বার্তা থাকবে। জীবনযাত্রায় আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই। নাটকে সেইসব কিছু সমস্যার সমাধান থাকবে। আসলে নাটক শুধু বিনোদন নয়, এর থেকে আমাদের শেখারও অনেক কিছু থাকতে পারে এবং সেটাই হওয়া উচিত। কিন্তু সে ধরনের নাটকের খুব অভাব। তবে বর্তমানে খুব কম হলেও বার্তা প্রধান নাটক তৈরি হচ্ছে। আমিও আগ্রহ নিয়ে এমন নাটকে কাজ করছি। নাটকগুলো থেকে দর্শক কিছু না কিছু বার্তা পেয়েছেন। আমিও এসব নাটকে অভিনয় করে পরিতৃপ্তি অনুভব করেছি।' বর্তমান সময়ের নাটক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। খুব কম নাটকই ভালো করছে। মানসম্মত নাটকে পছন্দের শিল্পীকে দেখতে চান দর্শক। কিন্তু মানহীন নাটকে প্রায়ই দেখা যায় মানের শিল্পীদের। সজল বলেন, 'সব শিল্পীই মানসম্মত কাজ করতে চান। কিন্তু নানা কারণে হয়তো দর্শক মানহীন নাটকেও আলোচিত অভিনেতা/অভিনেত্রীদের দেখতে পান। আসলে নাটকের মানটা নির্ভর করে সব কিছুর সমন্বয়ে। নাটকের গল্প, অভিনয়, নির্দেশনা, ক্যামেরার কাজ, সম্পাদনা, আবহ, শব্দ সবকিছু মিলে। কোনো একটির ত্রম্নটির কারণে মান কমে যায়। দেখা গেল চিত্রনাট্যটির সবকিছুই ভালো কিন্তু শুটিং করতে গিয়ে সেভাবে আসেনি। অভিনয় ভালো হলেও সম্পাদনা ভালো হয়নি। শব্দ সংযোজন কিংবা মিউজিকে মান পড়ে গেছে। এভাবে নানা কারণে নাটকের ভালো-মন্দ নির্ভর করে। টিভি নাটকে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও ক্যামেরার পেছনে দেখা যায়নি সজলকে। অনেক অভিনেতা/অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এই অভিনেতা ক্যামেরার সামনেই থেকেছেন সব সময়। পরিচালনায় আসার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পরিচালনার কাজটা অনেক কঠিন। আপাতত ইচ্ছে নেই। তবে সময়েই বলে দেবে পরিচালনায় আসা হবে কিনা। এখন অভিনয়টাই চালিয়ে যেতে চাই।' ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক নাটকের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই মডেল-অভিনেতা। রোমান্টিক নাটকে তার চাহিদা থাকলেও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। তাতে সফলতাও পান। তবে বেশ কিছু দিন ধরে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দিয়ে চলচ্চিত্রেই বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নাটক-ওয়েব পস্ন্যাটফর্মেও অভিনয়ের সৌরভ ছড়িয়েছেন সজল। তার অভিনয়ে মুগ্ধ সব শ্রেণির দর্শক। ছোটপর্দার নির্মাতারা নতুন কাজে সজলকে নিয়ে ভাবেন বারবার। ইদানিং চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও এই অভিনেতাকে গুরুত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে। তবে সজল বলেন, 'চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ আমার অনেক আগে থেকেই। এর আগে একাধিক চলচ্চিত্রে কাজও করেছি। এখন হয়তো চলচ্চিত্রে আগের চেয়ে একটু বেশি সময় দিচ্ছি। কারণ, আমি যেমন গল্প ও চরিত্র খুঁজছিলাম তেমনটি পেয়ে যাচ্ছি বলেই একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করছি। 'সুবর্ণভূমি', '১৯৭১ সেই সব দিনগুলি' ও 'ডজন' চলচ্চিত্রগুলোতে আমি আমার চাওয়াটা পেয়েছি।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে