একাত্তরের গণহত্যা

হ্যারাল্ড ইভান্স তার স্মৃতিকথায় মানবতাবিরোধী সেই সব ঘটনার কথা লিখেছেন। লিখেছেন, কীভাবে ঘর বন্ধ করে নারী ও শিশুকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কীভাবে পাকিস্তান বাহিনীর স্থানীয় দোসররা এসব নির্মমতায় সৈন্যদের সহায়তা করেছে। অ্যান্থনি সৈন্যদের এটিও বলতে শুনেছেন বন্দুকের নল দিয়ে তারা পূর্ব পাকিস্তানকে দমাবে, মুক্তিবাহিনীকে ধ্বংস করবে
একাত্তরের গণহত্যা

পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার ইমরান আহমদ সিদ্দিকীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান বাহিনীর ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। হাইকমিশনার দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, যে বর্বরতা পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশের মাটিতে চালিয়েছে তা কখনই ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়কে, সেই সত্যকে তুলে ধরার জন্য। কারণ নয় মাসের যুদ্ধের পর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটেছে বটে, কিন্তু সেই মহাবিজয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকার-আলবদরদের নিষ্ঠুরতার ইতিহাস। সে ইতিহাস নির্বিচার বাঙালি গণহত্যার, নির্বিচার বাঙালি নারী ধর্ষণের ইতিহাস। আরও সত্য এই যে, সেই গণহত্যার খবর সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর কাছে সবিস্তারে তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানেরই এক সাংবাদিক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাংবাদিকতার সঙ্গে যে কয়েকজন বিদেশির নাম জড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের নাম সে কারণেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য।

অ্যান্থনি নিজের চোখে সেদিনকার পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনা দেখেছেন, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে, সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলে নিজের কানে শুনেছেন কীভাবে নির্দয় সব হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে সৈন্যরা। তারপর নিজের ও পরিবারের জীবন বিপন্ন করে তিনি সেই বিবরণ লিখেছেন লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকায়। সেই প্রতিবেদন পড়ে বিশ্ববাসী ভয়াবহ গণহত্যার খবর প্রথম জানতে পেরেছে।

তবে অ্যান্থনির প্রতিবেদনটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিককালের। পরে পাকিস্তানিদের বর্বরতার স্বরূপ হয়ে উঠেছিল আরও ভয়ঙ্কর। তারা বাংলাদেশের মাটিতে ৩০ লাখ মানুষকে খুন করেছে, তিন লাখেরও বেশি বাঙালি নারীকে ধর্ষিত করেছে, চালিয়েছে নির্মমতম এক মানবতাবিরোধী অভিযান। আর এ সব করেছে তারা রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়, যাতে বাঙালি জাতিকে চিরকালের মতো দাবিয়ে রাখা যায়।

মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেন। 'গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'-এ বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার অন্যতম বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'নিরাপত্তাবিষয়ক আর্কাইভ' তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যাযজ্ঞকে ংবষবপঃরাব মবহড়পরফব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমনকি সেদিন ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে বস্নাড পাকিস্তান বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক বার্তা পাঠান। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক জ. ঔ. জঁসসবষ লেখেন : ঞযবংব 'রিষষরহম বীবপঁঃরড়হবৎং' বিৎব ভঁবষবফ নু ধহ ধনরফরহম ধহঃর-ইবহমধষর ৎধপরংস, বংঢ়বপরধষষু ধমধরহংঃ :যব ঐরহফঁ সরহড়ৎরঃু. 'ইবহমধষরং বিৎব ড়ভঃবহ পড়সঢ়ধৎবফ রিঃয সড়হশবুং ধহফ পযরপশবহ ৃ. অহফ :যব ংড়ষফরবৎং বিৎব ভৎবব :ড় শরষষ ধঃ রিষষ.

রবার্ট পাইন তার গধংংধপৎব, ঞযব ঞৎধমবফু ড়ভ ইধহমষধফবংয বইতে ইয়াহিয়া খানের উদ্ধৃতি দেন : 'করষষ :যৎবব সরষষরড়হ ড়ভ :যবস ধহফ :যব ৎবংঃ রিষষ বধঃ ড়ঁঃ ড়ভ ড়ঁৎ যধহফং'. ১৯৮১ সালে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, 'অসড়হম :যব মবহড়পরফবং ড়ভ যঁসধহ যরংঃড়ৎু, :যব যরমযবংঃ হঁসনবৎ ড়ভ ঢ়বড়ঢ়ষব শরষষবফ রহ ষড়বিৎ ংঢ়ধহ ড়ভ :রসব রং রহ ইধহমষধফবংয রহ ১৯৭১. অহ ধাবৎধমব ড়ভ ৬,০০০ (ংরী :যড়ঁংধহফ) :ড় ১২,০০০ (ঃবিষাব :যড়ঁংধহফ) ঢ়বড়ঢ়ষব বিৎব শরষষবফ বাবৎু ংরহমষব ফধুৃ. ঞযরং রং :যব যরমযবংঃ ফধরষু ধাবৎধমব রহ :যব যরংঃড়ৎু ড়ভ মবহড়পরফব'ং.'

মোটকথা, মাত্র ৯ মাসে এবং যে দ্রম্নততায় বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দৈনিক গড়ে ৬ হাজার মানুষ খুন করা হয়েছে মাত্র ২৬০ দিনে। কম্বোডিয়ার এ হার ছিল ১ হাজার ২০০। অ্যান্থনি মাসকারেনহাস সরকারের অতিথি হয়ে ঢাকায় আসেন একটি পাকিস্তানি সাংবাদিক দলের সঙ্গে। তাদের আনা হয় সৈন্যদের কাজের প্রশংসা লিখতে। কারণ ২৫ মার্চের 'অপারেশন সার্চলাইট' চালানোর আগে ঢাকা থেকে প্রত্যেক বিদেশি সাংবাদিককে জোর করে বের করে দেওয়া হয়, যাতে সেনাবাহিনীর হাতে যে নির্বিচারে গণহত্যা চলছিল তার কোনো খবর বাইরের বিশ্বে না ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যে ঘটনাবলি অ্যান্থনি নিজে দেখেন এবং শোনেন, তাতে বিবেকের কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হয়।

এ বিবেকবান পাকিস্তানি সাংবাদিকের আদর্শিক ও পেশাগত অবস্থানকে তুলে ধরতে বিবিসি পরবর্তী সময়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। সাংবাদিক মার্ক ডামমেট কথাও বলেন অ্যান্থনির স্ত্রী ইভন মাসকারেনহাসের সঙ্গে। 'জেনোসাইড' শিরোনামে লন্ডনের সানডে টাইমসের ১৩ জুন, ১৯৭১ প্রকাশিত অ্যান্থনির সেই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর বর্বরতার প্রথম প্রকাশ্য দলিল। বেরিয়ে আসে কীভাবে ২৪ বছরের তরুণ আব্দুল বারিকে সৈন্যরা হত্যা করে উঠে আসে বহু গণহত্যা ও বর্বরতার প্রত্যক্ষদর্শী এমন সব বিবরণ যা বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়। বিবিসি অ্যান্থনির সেই রিপোর্টকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংবাদিকতার নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করে।

বিবিসি বলেছে, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের রায় বানচাল করতে পাকিস্তানি সৈন্যরা যেভাবে বন্দুকের নল দিয়ে বাঙালিদের শায়েস্তা করার উদ্যোগ নিয়েছিল, সে ব্যাপারে বাইরের বিশ্বের খুব কমই জানা ছিল। অবশ্য পাকিস্তানিদের সে কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত এগিয়ে এসেছিল, তারা একদিকে এক কোটি রিফিউজিকে আশ্রয় দিয়েছে, অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহায়তা করেছে। ফলে ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সামরিক কমান্ডের কাছে তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে, বাংলাদেশ হানাদার সেনা মুক্ত হয়েছে।

মূলত অ্যান্থনির এ প্রতিবেদন ১৯৭১-এর গণহত্যার ঘটনাকে প্রথম জনসম্মুখে আনে। এ রিপোর্ট বিশ্ববাসীকে পাকিস্তানবিরোধী করে তুলে, ভারতের পক্ষেও বাঙালিদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র তৈরি করে। এ বহুল আলোচিত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সানডে টাইমসের সম্পাদক হ্যারাল্ড ইভান্সের কাছে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী একবার বলেন, 'প্রতিবেদনটি পড়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়েছিলাম, পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় গিয়েছিলাম বাংলাদেশের মাটিতে গণহত্যার সত্যিকার স্বরূপ বোঝাতে।' এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতেও এ রিপোর্টটি তাকে প্ররোচিত করেছে বলে হ্যারাল্ড ইভান্স তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন। তবে ইভান্স বলেন, অ্যান্থনির মধ্যে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেনি। প্রতিবেদনটি তিনি লিখেছেন একজন আদর্শবাদী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবেই। এ বীর সাংবাদিক ১৯৮৬ সালে মারা যান। তার স্ত্রী ও সন্তানরা আছেন। এ সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সম্মানিত করেছে। দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা।

পাকিস্তান থেকে যে ৮ জন সাংবাদিককে ঢাকায় আনা হয়েছিল তারা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যান। পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে সেই ৭ জন সাংবাদিক সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে প্রতিবেদন লেখেন। কিন্তু অ্যান্থনি কিছু লিখতে পারেন না। বিবেক তাকে দংশাতে থাকে। তিনি জানেন পাকিস্তান থেকে কিছু তার পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব, দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যান্থনির স্ত্রী বলেন, 'আমি ওকে আগে কখনো এতটা ভেঙে পড়তে দেখিনি। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে অ্যান্থনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে আমি বোঝাতে পারব না। প্রচন্ড শোক আর হতাশায় ভুগতে থাকে। আমাকে বলেছিল, এ নির্মম গণহত্যার কথা লিখতে না পারলে আমার হাত দিয়ে আর কোনোদিন লেখা বেরোবে না।'

এরপর বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস লন্ডন চলে যান। সেখানে গিয়ে সরাসরি সানডে টাইমসের সম্পাদক হ্যারাল্ড ইভান্সের সঙ্গে দেখা করে গণহত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। কোথায় কখন কী কী দেখেছেন তার বিবরণ তুলে ধরেন। কিন্তু তার পরিবার তখনো পাকিস্তানে। হ্যারাল্ড ইভান্সের পরামর্শে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তারপর প্রকাশ করেন সেই বহুল আলোচিত 'জেনোসাইড' শিরোনামের প্রত্যক্ষদর্শী রিপোর্ট। এতে বেরিয়ে আসে রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে পাকিস্তানি সৈন্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে বাঙালি নারীদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একজন পাকিস্তানি সাংবাদিকের কলমেই প্রকাশ পায় কীভাবে মুক্তিবাহিনী বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

হ্যারাল্ড ইভান্স তার স্মৃতিকথায় মানবতাবিরোধী সেই সব ঘটনার কথা লিখেছেন। লিখেছেন, কীভাবে ঘর বন্ধ করে নারী ও শিশুকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কীভাবে পাকিস্তান বাহিনীর স্থানীয় দোসররা এ সব নির্মমতায় সৈন্যদের সহায়তা করেছে। অ্যান্থনি সৈন্যদেরও এটিও বলতে শুনেছেন বন্দুকের নল দিয়ে তারা পূর্ব পাকিস্তানকে দমাবে, মুক্তিবাহিনীকে ধ্বংস করবে।

ইভন মাসকারেনহাসের এখনো মনে আছে কীভাবে অ্যান্থনির টেলিগ্রাম পেয়ে তারা আফগানিস্তান হয়ে লন্ডনে গিয়ে পৌঁছলেন এবং সেখানে নতুন জীবন শুরু করলেন। অনিশ্চিত জীবনে অসংখ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কিন্তু স্বামীর প্রশংসা করে ইভন বলেন, 'এতকিছুর পরেও অ্যান্থনি মনোবল হারাননি। নিজের পেশাগত সততার সঙ্গে আপস করেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান বাহিনীর নিষ্ঠুরতার বিবরণী।'

বলা বাহুল্য, এ রিপোর্ট বেরোনোর পর এ সাহসী সাংবাদিকের জীবনে অনেক দুর্যোগ নেমে আসে। চিরতরে বিচ্ছিন্ন হতে হয় পাকিস্তান থেকে। মূল্য দিতে হয় অনেক। কিন্তু অ্যান্থনির স্ত্রী ইভনের কোনো আক্ষেপ নেই তাতে। তিনি বলেন, 'সেদিনকার পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যরা যে গণহত্যা চালিয়েছে তার কিছু কিছু বিবরণ আমিও শুনেছি। আমার স্বামীর পক্ষে এ সব গোপন করা সম্ভব ছিল না। সে তা করেওনি। আমরা তার জন্য গর্ববোধ করি। এমনকি পাকিস্তানের বিবেকবান মানুষও এ রিপোর্টের জন্য অ্যান্থনির সত্যকথনকে সম্মান করেছেন।'

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের গণহত্যা স্মরণ করে, সে কারণেই গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। এ দিবস এই কারণে যে, মানবতার বিরুদ্ধে যারাই নিকৃষ্টতম অপরাধ করে তাদের ঘৃণা করতে হবে। জাতিসংঘকে সে কারণেই বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে হবে। যেমন বিশ্ব সংস্থাটি ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। কাজেই বাংলাদেশের মাটিতে ৩০ লাখ মানুষের হত্যাকান্ডের ইতিহাস বিস্মৃত হতে পারে না।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসে জেনারেল নিয়াজিসহ ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা অফিসারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাদের বিচার করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিসহ এ সব যুদ্ধাপরাধী দেশে ফিরে যায়। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে পাকিস্তান সরকার যে বিবৃতিটি প্রচার করে তা ছিল এ রকম :চধশরংঃধহ বীঢ়ৎবংংবং রঃং ৎবধফরহবংং :ড় পড়হংঃরঃঁঃব ধ লঁফরপরধষ :ৎরনঁহধষ ড়ভ ংঁপয পযধৎধপঃবৎ ধহফ পড়সঢ়ড়ংরঃরড়হ ধং রিষষ রহংঢ়রৎব রহঃবৎহধঃরড়হধষ পড়হভরফবহপব :ড় :ৎু :যব ঢ়বৎংড়হং পযধৎমবফ রিঃয ড়ভভবহংবং.'

কিন্তু সেই বিচার আজও পর্যন্ত হয়নি। কাজেই পাকিস্তানকে বাঙালি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে