ভূলুণ্ঠিত না হয় যেন স্বাধীনতার ইতিহাস

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস যেন ভূলুণ্ঠিত না হয়। আগামী প্রজন্মের জন্য এখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রচনা বাঞ্ছনীয়
ভূলুণ্ঠিত না হয় যেন স্বাধীনতার ইতিহাস

২০২০ সাল বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, ইতিহাসের মহানায়ক বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিজয়ের পঞ্চাশ বছর এ সালেই। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক। বাংলাদেশের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু- এ দেশের ধমনি ও শিরায় বঙ্গবন্ধুর শোণিত প্রবহমান। আর বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষী ও বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিরজাগরূক। বাঙালির মন ও মনন বাংলাদেশের জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে স্নাত।

বাংলার আকাশে একটু-আধটু মেঘ জমলেই, স্বাধীনতার লাল সূর্য সামান্যতম আড়াল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেই মুজিব আদর্শে উজ্জীবিত বাংলার মানুষ যূথবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে। সমস্ত বৈরিতা ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে মুজিবের প্রিয় বাংলাকে নিষ্কণ্টক রাখতে এক মুহূর্তে দেরি করে না মুজিবের প্রিয় মানুষ। স্বাধীন বাংলার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শই পথের অবিকল্প সঞ্চয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শই তার সোনার বাংলার একমাত্র পাহারাদার। এদেশের শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সাতচলিস্নশে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাংলার মানুষের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছেন। বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের দাবি জানাতে গিয়ে, বাংলার মানুষের স্বাধীনতার পথ মসৃণ করে তুলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তার রাজনীতির বেশির ভাগ সময় জেলে অন্ত্যরীণ থাকতে হয়েছে। কিন্তু তবু দমে যাননি বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান। জেলে অন্ত্যরীণ থেকেই তিনি ভাষা-আন্দোলনে নেতৃত্বদানসহ বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়েই শেখ মুজিব এদেশের মানুষকে সংগঠিত করতে থাকেন তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে। সাতচলিস্নশ থেকে একাত্তর সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন সময় শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলার মানুষের আস্থার নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। ভাষা-আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা গণ-অভু্যত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা ও নেতৃত্ব দিয়ে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেছিলেন বাংলার মুক্তিকামী মানুষের ভাগ্যনিয়ন্তা; হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের মহানায়ক। তবে বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে খলনায়কও কম নেই। পাকিস্তানের দোসর ঘৃণ্য রাজাকার আলবদরদের কথা তো আমাদের সবারই জানা। এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিতে বঙ্গবন্ধুকে তার নিজের গড়া দল আওয়ামী লীগের ভিতরে ও বাইরেও কম বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিলেন। একাত্তরের আগে ইতিহাসের খলনায়করা যেমন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আন্দোলনের ষড়যন্ত্র করে তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে, তেমনি স্বাধীনতার পরেও স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শকে নস্যাৎ করে দিতে সেসব খলনায়কের প্রেতাত্মারা তৎপর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের পরও পরাজিত অপশক্তি, পাকিস্তানের আদর্শপুষ্ট এদেশের ও বিদেশের চর, দোসররা আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিকে ধ্বংস, এমনকি স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে একাত্তরের পরাজয়ের গস্নানি মোচন, প্রতিশোধ ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে ইতিহাসের সেই সব খলনায়ক ও তাদের ভাবশিষ্যরা। তারা বঙ্গবন্ধু মুজিবের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালির ভাষা ও সাহিত্যকে বদলে ফেলার গোপন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে- এমনকি পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িকতার ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে মিশে থেকে বাংলার স্বাধীনতার এ খলনায়করা বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত ও বিনষ্ট করার সব রকম আয়োজন করেছে। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির এ ঘৃণ্য কাজে তারা কিছুটা সফলও বলা যায়। তাই সময় এসেছে স্বাধীনতার শত্রম্ন-মিত্রদের আরও ভালোভাবে চিনে নেয়ার। মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে স্বাধীনতার খলনায়কদের প্রতিহত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস রচনায় সময় এখনই।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের 'বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি' গ্রন্থটি কলেবরে ছোট হলেও আমার বিবেচনায় এ বইটা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ জীবনী। জিনিয়াস পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর এ জীবনী গ্রন্থটিতে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বসবাসের সূত্রে এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক হিসাবে নিজের চোখে দেখা বঙ্গবন্ধুর মহার্ঘ্য স্মৃতির কথা লিখেছেন। তৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সে সময় নিয়ে একাধিকবার তিনি বঙ্গবন্ধু সঙ্গে একাধিকবার নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য দেখা করেছেন। কীভাবে একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ থেকে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বের গুণে ইতিহাসের মহানায়ক হয়ে উঠেছিলেন, তা তার দেখা বিভিন্ন ঘটনা ও সান্নিধ্য প্রাপ্তির বিবরণের মধ্যদিয়ে এ বইয়ে জীবন্ত। 'বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি' শিরোনামে রফিকুল ইসলামের বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক মহার্ঘ্য স্মৃতি ও জীবনীগ্রন্থটির পাঠপ্রতিক্রিয়া জানাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় তার বাসভবন 'দোলনচাঁপা'য় গিয়েছিলাম কিছুদিন আগে। সঙ্গে জিনিয়াস পাবলিকেশন্সের কর্ণধার হাবিবুর রহমান ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে বরেণ্য এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, নজরুল গবেষক, মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস রচনার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন। উলেস্নখ্য, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মুজিববর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত স্বাধীনতার ইতিহাস রচিত না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করলেন। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে, এমনকি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেটির পর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ক্ষমতার পিঠে সওয়ার হয়ে যেভাবে স্বাধীনতার ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে, তাতে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস রচনা কষ্টকর হবে বলেই তার ধারণা। বিকৃতির হাত থেকে ছেঁকেছেনে সন্তর্পণে সঠিক ইতিহাস লিখতে তিনি পরামর্শ দেন আমাদের। আর এ কাজটি করার সময় এখনই বলে তিনি মনে করেন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে বিকৃতির হাত থেকে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভু্যদয় ছিল ১৯৪৭ সালের পর ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার চেতনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত। বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে এদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক, সংস্কৃতিভিত্তিক চেতনায় সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে একপেশে ধর্মীয় ভেদবুদ্ধিহীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অভু্যদয় ঘটালেন। স্বপ্নের সোনার বাংলায় স্বাধীনতার সোনালি শস্য ঘরে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করতে থাকলেন। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি, স্বাধীনতার খলনায়করা, তাদের আন্ডা-বাচ্চা ও ভাবশিষ্যরা ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ওতপেতে নিরন্তর চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তারা সুগম করে। অতপর, সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রীয়নীতিতে পরিণত করা হয় সংবিধানে ৫ম ও ৮ম সংশোধনীয় মাধ্যমে। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন করা হয় বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার সবরকম ব্যবস্থা করা হয় পাঠ্যপুস্তকে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনাকে ও বিনষ্ট করা হয় ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে। এমনকি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অস্বীকার হয়। বঙ্গবন্ধুর নাম রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্থানে অন্য ব্যক্তির নাম বসিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার চক্রান্ত চলতে থাকে। বাঙালি জাতীয়তার জায়গায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে তত্ত্ব জুড়ে দেয়া হয়, তা ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদেরই নামান্তর।

মুজিব আদর্শে স্নাত বাঙালি জাতির দুর্দিনে প্রতিরোধ গড়তে জানে, জাতির অস্তিত্বেও প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াতে জানে। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে। এরপরই তার প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার, একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বটে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া বাংলাদেশ এখনো নিষ্কণ্টক নয়। স্বাধীনতার ইতিহাসের খলনায়করা, তাদের আন্ডা-বাচ্চা ও ভাবশিষ্যরা এখনো চক্রান্তে লিপ্ত। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার দৃষ্টতাসহ বাঙালি সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রবিরোধী অসংখ্য কর্মকান্ড এদের উপস্থিতি প্রমাণ করে। এদের টুঁটি চেপে ধরার সময় এখনই। ক্ষমতায় এখন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার হাতে। তার হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশের উন্নয়ন থেমে নেই। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। দেশের জন্য এ ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং পূরণ করার ক্ষমতা কেবল বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। তবে এটা সত্য, দেশের যতই উন্নয়ন হোক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার খলনায়কদের, পাকিস্তানের ভাবশিষ্য ও তাদের আন্ডা-বাচ্চাদের দেশ থেকে বিতাড়িত না করলে সব উন্নয়ন ভেস্তে যাবে। এদেশ থেকে জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতার মূল্যোৎপাটন করার এখনি সময়। সেই সঙ্গে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস রচনার দায়িত্ব স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী সরকারকেই নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস যেন ভূলুণ্ঠিত না হয়। আগামী প্রজন্মের জন্য এখনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রচনা বাঞ্ছনীয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে