আফগানিস্তানে অস্থিরতা

কান্দাহার বিমানবন্দরে রকেট হামলা

ম দুই রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ ম সাড়ে ১৩ হাজার তালেবান হত্যার দাবি সরকারের
কান্দাহার বিমানবন্দরে রকেট হামলা

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার বিমানবন্দরে তিন দফা রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে ওই হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দুটি রকেট বিমানবন্দরের রানওয়েতে আঘাত হেনেছে। এ কারণে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে মার্কিনসহ সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেশজুড়ে তালেবানের হামলা জোরদারের মধ্যেই কান্দাহার বিমানবন্দরে রকেট হামলার এ ঘটনা ঘটল। সংবাদসূত্র : এএফপি, বিবিসি

কয়েক সপ্তাহ ধরেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা দখলের চেষ্টা করছে তালেবান। এরই মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে। তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে ক্রমেই পিছু হটছে আফগান সেনারা।

কান্দাহার বিমানবন্দরের প্রধান মাসউদ পাশতুন বলেন, 'শনিবার রাতে বিমানবন্দরে তিনটি রকেট আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি রকেট রানওয়েতে আঘাত হানে। যার কারণে বিমানবন্দর থেকে সিডিউল অনুযায়ী, নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।' পাশতুন আরও বলেন, রানওয়ে মেরামতের কাজ চলছে এবং রোববার দিনের শেষ ভাগে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ফের শুরু হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।' রাজধানী কাবুল থেকে আফগান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তাও এই হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কান্দাহারের বেশ কিছু এলাকাও দখল করে নিয়েছে তালেবান। সেখানে তালেবানকে হটাতে আফগান সেনাদের রসদ ও অস্ত্র আসছিল কান্দাহার বিমানবন্দর দিয়েই। সে কারণে ওই বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছে আফগান সেনারা। তালেবান মুখপাত্র জবিউলস্নাহ মুজাহিদ বলেন, 'আমরা কান্দাহার বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছি, কারণ শত্রম্নরা আমাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাতে এটিকে একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল।'

এদিকে, সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় আফগানিস্তানের দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি প্রধান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধাদের তুমুল লড়াই চলছে। আফগান সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে এসব শহরের দখল নিতে তালেবান সেখানে তীব্র হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিমের হেরাত শহরে বিদ্রোহীরা তাদের হামলা জোরদার করেছে এবং খবর পাওয়া যাচ্ছে, তালেবান যোদ্ধারা শহরের ভেতর ঢুকে পড়ছে। লস্করগাহ এবং কান্দাহারেও লড়াই চলছে। ফলে দুইপক্ষের তুমুল লড়াই চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার ঘোষণা আসার পর তালেবান ক্রমশ গ্রামীণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

তবে দেশটির প্রধান শহরগুলোর ভাগ্য নিয়ে ভীষণ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উভয়পক্ষ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সরকারি সেনারা কতদিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। স্থানীয়রাও বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন। লড়াইয়ে কান্দাহার শহরে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ এরই মধ্যে ঘরছাড়া হয়েছে। খাদ্য ও পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তালেবান কান্দাহার দখল করলে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি প্রদেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

তালেবান এরই মধ্যে অর্ধেক আফগানিস্তান নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গে ?'বর্ডার ক্রসিং' রয়েছে। তবে তালেবান অবশ্য দেশের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। তালেবান এখন আগের মতোই আবার একটি 'ইসলামিক আমিরাত' প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে।

সাড়ে ১৩ হাজার তালেবান হত্যার দাবি সরকারের

এদিকে, আফগানিস্তানে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আফগান সরকার বলছে, তাদের সেনারা গত চার মাসে তালেবানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

আফগানিস্তানের শান্তি-বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত চলা যুদ্ধে ১৩ হাজার ৫৫৫ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। একই সময় আহত হয়েছে আরও ১১ হাজার ৫৪ জন। তবে এতে সরকারি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

তালেবানের পক্ষ থেকে অবশ্য সরকারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির একজন প্রতিনিধি বলেছেন, সরকারের দাবি প্রচারণার জন্য চালানো মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবে তালেবানের খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে