প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ মানুষকে জিম্মি করে স্বার্থ আদায় এবং নানারকম অপরাধমূলক ঘটনা একের পর এক ঘটছেই। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না, এই ধরনের ঘটনা রোধ না হলে তা সামগ্রিক অর্থেই উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে, চাকরির প্রলোভনে দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা সামনে এসেছে। তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানের নাম 'আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড'। কিন্তু যত কাজ করেছে তারা, তার মধ্যে শুধু অনাস্থাই ফুটে উঠেছে। জানা যায়, অপকর্মে সিদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটির অধিকর্তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিত। সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ও জাল নিয়োগপত্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা- এমন তথ্য উঠে আসছে। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। মিথ্যা প্রলোভনসহ নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে যখন মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সঙ্গত কারণেই এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

জানা যাচ্ছে, বুধবার রাজধানীর ভাটারায় এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যান ও এমডিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইমেক্স ম্যানপাওয়ার রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৪টি ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের আবেদন ফরম, চাকরি প্রার্থীদের নিবন্ধন ফরম, জীবনবৃত্তান্ত, ভিজিটিং কার্ডসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। অপকর্মে জড়িত এই দুজনসহ পাঁচজনকে আসামি করে ভাটারা থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভুয়া কোম্পানি খুলে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। এরপর আগ্রহীরা যোগাযোগ করলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। টাকার বিনিময়ে কখনো ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছে এই চক্রটি।'

আমরা বলতে চাই, এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা কতটা ভয়ানক হতে পারে তা আমলে নেওয়া জরুরি। যখন প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে তৎপর, তখন আইন মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। মনে রাখতে হবে, অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে আরও বেশি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। এছাড়া এমন অপরাধপ্রবণ ঘটনা কতটা ভয়ানক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভিন্ন সময়েই নানা ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয় আলোচনায় এসেছে। যারা প্রতারণার অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং নানাভাবে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করেন। এছাড়া ভয়ঙ্কর বস্ন্যাকমেইলিং চক্র গড়ে তোলার বিষয়টিও এর আগে জানা গেছে। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বস্ন্যাকমেইলিং করা, চাকরির নামে অর্থ আদায়, ফাঁদে ফেলাসহ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ঠকানোর মতো নানা ধরনের অপতৎপরতার বিষয় সামনে এসেছে। আমরা মনে করি, সামগ্রিকভাবে এ ধরনের ঘটনা আমলে নিতে হবে এবং যারা এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই- এবারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের যে ঘটনা সামনে এলো তা আমলে নিতে হবে এবং মনে রাখতে হবে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা সময়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। মানুষের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করেছে অপরাধী চক্র। ফলে যারা স্বার্থ উদ্ধারে এমন প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর তাদের লাগাম টেনে ধরতে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এবারের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের আইন মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক পাশাপাশি এ ধরনের কুচক্রীরা যেন জালিয়াতি বা প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিতে সাহস না পায় সেই বিষয়টিকে সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে