মৃতু্য ওঠানামা, শনাক্ত নিম্নমুখী

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৯৫ মৃতু্য শনাক্ত ৪২৮০
মৃতু্য ওঠানামা, শনাক্ত নিম্নমুখী

একটানা চার দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতু্যর সংখ্যা শতাধিক ছাড়ালেও গত দু'দিন ধরে একশ'র নিচে নেমে এসেছে এ সংখ্যা। আর নতুন শনাক্তের সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে প্রতিদিন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯৫ জনের মৃতু্য হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৯১। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চার জন বেশি মারা গেছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ৬৮৩ জনে দাঁড়াল।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪ হাজার ২৮০ জন। ফলে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৫৫৯ জন। একদিনের ব্যবধানে ২৭৯ জন রোগী কম শনাক্ত হয়েছে।

গত ১৬ ও ১৭ এপ্রিল প্রাণ সংহারক করোনায় ১০১ জন করে মারা যান। ১৮ এপ্রিলে মারা যান ১০২ জন। এর মধ্যে গত সোমবার করোনায় একদিনে রেকর্ড ১১২ জনের মৃতু্যর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃতু্যর রেকর্ড ছিল।

প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশসান) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে থেকে ২৮ হাজার ৫৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ৩৩৫টি ল্যাবে ২৮ হাজর ৪০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেশে এ পর্যন্ত করোনা সন্দেহে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৫টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৮টি।

তবে একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭ হাজার ৭২ জন। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৩ জন হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী দেশে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

এদিকে গত এক দিনে করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ আর নারী ৩৬ জন। তাদের ৬০ জন সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৪ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে

৫৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং ৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ৫৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন বরিশাল বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের, ২ জন রংপুর বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ৬৮৩ জনের মধ্যে ৭ হাজার ৮৮৬ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৯৭ জন নারী।

গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃতু্য হয়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল।

এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতু্য সাড়ে ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ জন। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারি কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১২ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৭ জন। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে।

কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রম্নয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে