‘জিবনের থেকে বড় এখন জিবীকা’

‘জিবনের থেকে বড় এখন জিবীকা’

বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনার কষাঘাতে পড়েছে শ্রমজিবীদের জিবন-জিবীকা, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনে দোকান-পাট ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে দিনমজুর রিক্সা-ভ্যান চালকসহ দোকান-পাট ও গণপরিবহনে কর্মরত শ্রমজিবী নিম্ন আয়ের মানুষ।

গত ৭দিনের লকডাউনে ঘরে জমানো খাবার এখন শেষ এরপরেও লকডাউনের ম্যায়াদ বৃদ্ধি করায় মাথায় হাত পড়েছে তাদের।

ফুলবাড়ী পৌরশহরের ষাটউর্দ্ধ বয়সী রিক্সা চালক জব্বার মিয়া বলেন, ভাইরাস নয়, এখন জিবীকা রক্ষা করায় কঠিন হয়ে পড়েছে, হাট-বাজার দোকান-পাট ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট এই কারনে রিক্সার কোন যাত্রী মিলছেনা, এতেকরে তার রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই কথা বলেন ষাটউর্দ্ধ বয়সী রিক্সা চালক শাহ আলম, ভবেশ চন্দ্রসহ অনেকে। শহরের চা-ষ্টল দোকান্দার আলম মিয়া বলেন লকডাউনে তার চা-ষ্টল বন্ধ থাকায় তার রোজগারের পথ বন্ধ, ঘরের খাবারো শেষ এখন কি ভাবে তার সংসার চলবে সে নিজেও জানেনা।

দোকান কমর্চারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাফ্ফর হোসেন বলেন দোকান কর্মচারীগণ অধিকাংশ প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক হাজিরায় কাজ করে, লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের হাজিরাও বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন একদিকে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে রোজগার বন্ধ, এতেকরে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে এই সকল শ্রমজিবী মানুষ। একই কথা বলেন ফুলবাড়ী কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হামিদুল হক। তিনি বলেন দোকান পাটে মালামাল উঠানামা করলে কুলিদের আয় হয়, লকডাউনে তাদের কাজ নাই রোজগাও নাই।

এদিকে লকডাউনের এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোন ত্রান কার্যক্রম শুরু হয়নি। ব্যাক্তিগত ভাবে কোন ত্রান বিতরণের খবরও পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে গত ২০২০ সালে লকডাউনের শুরু থেকে সরকারী ত্রান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, এছাড়া ওই সময় সরকারী ত্রানের পাশাপাশি অনেক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ত্রান দেয়া শুরু করলেও, এই বছর তা চোখে পড়েনি।

কয়েকজন ব্যাবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে গত ২০২০ সালে লকডাউনে যে লোকশান হয়েছে, সেই লোকশান পুশে উঠতে পারেনি ব্যাবসায়ীরা, আবারো লকডাউন শুরু হওয়ায় সেই ব্যাবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। যারফলে গত লকডাউনে অনেক ব্যাবসায়ী ত্রান দিলেও এই বছর তারা দিতে পারছেনা।

পৌর হাট বাজারের ইজারাদার আবুল হাছান মোল্যা বলেন গত ২০২০ সালের লকডাউনে সরকারের ইজারা মূল্য ঘরে উঠেনি, আবারো লকডাউন শুরু হওয়ায় একই লোকশানের মুখে পড়েছেন তিনি।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল লকডাউনের মধ্যে শ্রমজিবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করার দাবী জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন সরকারী ভাবে এখন পর্যন্ত কোন ত্রানের বরাদ্ধ আসেনি।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে