প্রস্তুত হও আগামীর জন্য: প্রধানমন্ত্রীযাযাদি রিপোর্ট বুধবার রাজধানীতে শুরম্ন হয়েছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭। বঙ্গবন্ধু আন্ত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলায় প্রবেশ করতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় -যাযাদিতথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশের ফলে সামনে নতুন শিল্প-বিপস্নবের সুযোগ তৈরি হয়েছে মন্ত্মব্য করে তরম্নণ প্রজন্মকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করে তিনি বলেছেন, 'আগামী প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে- রেডি ফর টুমরো।'
বুধবার সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্ত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুরম্ন হওয়া এই প্রদর্শনীতে এবার চমক হিসেবে এসেছে মানবীর আদলে তৈরি রোবট সোফিয়া।
বাংলাদেশের তরম্নণরা নিজেদের মেধা-যোগ্যতায় বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় শামিল হওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছে মন্ত্মব্য করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আগামীর জন্য বাংলাদেশকে তৈরি করে যেতে চাই। একবার যেহেতু উন্নয়নের চাকা গতিশীল হয়েছে, সেটা আর কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।'
শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। মানুষকে যে কথা দিয়েছি নির্বাচনী ইশতেহারে, তা আমরা রেখেছি।'
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন বাস্ত্মব বলে মন্ত্মব্য করে শেখ হাসিনা ২০০৯ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
২০০৯ সালে দেশের মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত, এখন তা বেড়ে ৮ কোটি হয়েছে।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি সংগঠনের সহযোগিতায় সরকারের আইসিটি বিভাগ ও বেসিস 'ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭'- এর আয়োজন করেছে, যার প্রতিপাদ্য 'রেডি ফর টুমরো।'
এ খাতে গত ৯ বছরে বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরা হবে এ আয়োজনে। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচনও আয়োজকদের লক্ষ্য।
তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের যোগাযোগ আরও সহজ হয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'ডিজিটাল পদ্ধতি আমাদের অনেক কাছে নিয়ে এসেছে।'
প্রান্ত্মিক জনগোষ্ঠীকে 'প্রযুক্তি বিভেদ' থেকে দূরে রাখতে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নাগরিকদের হাতের মুঠোয় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, 'তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের ফলে আমাদের সামনে এক নতুন শিল্প বিল্পবের সুযোগ তৈরি হয়েছে।'
এই খাতে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছর বা তার নিচে। আমাদের এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।'
এ জন্য বাংলাদেশের যুব সমাজকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'এ জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে তোলা হচ্ছে রোবোটিক্স, বিগডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা এনালিটিক্স ল্যাব।'
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রতিবছর ১০ হাজার স্নাতক বের হওয়ার কথা তুলে ধরে জাপানের ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্টকে স্মার্ট করার কাজ বাংলাদেশের তরম্নণদের দেয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, 'উচ্চশিক্ষিত না হলেও আমাদের দেশের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে খুবই পারদর্শী।'
আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের কোম্পানিগুলো এখন আফ্রিকাতেও পদচারণা করতে সক্ষম হয়েছে।'
চলতি অর্থবছরে সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় এক বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালের আগেই পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরম্নণ-তরম্নণীর বাংলাদেশের কর্মবাজারে আসার কথা উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তাদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নিজেরাও যেন তথ্য-প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'
দেশে ২৮টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ঢাকার কারওয়ান বাজার ও যশোরে সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি ১২টি বেসরকারি সফটওয়্যার পার্কও গড়ে উঠেছে। এসব পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১০ বছরের আয়কর মওকুফ ও শতভাগ রিপেট্রিয়েশনসহ বিবিধ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, 'আইসিটিকে সুযোগ দিলে ব্যাপক হারে রপ্তানি আয় আসবে।'
'বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং সাইট আপওয়ার্ক, ইল্যান্স এবং ফ্রিল্যান্সারের প্রথম দশটির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা। বিশ্বে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে আমরা রয়েছি দ্বিতীয় স্থানে।'
এ খাতে বাংলাদেশ এক নম্বর হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশে উদ্ভাবন সক্ষমতা ও গবেষণা একান্ত্ম অপরিহার্য উলেস্নখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আইসিটি বিভাগের আওতায় গবেষণা ফেলোশিপ, বৃত্তি এবং উদ্ভাবন কাজের জন্য অনুদান দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন পস্ন্যাটফর্ম স্টার্টআপ বাংলাদেশের কথাও বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের মধ্য ৩০টি বছর হেলায় হারিয়ে গেছে। সময় অনেক চলে গেছে। আর কালক্ষেপণ করতে চাই না। শুধু বর্তমান না, ভবিষ্যতকে দেখতে হবে।'
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এবং বেসিসের সভাপতি মোস্ত্মফা জব্বার।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতের অগ্রগতির ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধন ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin