পূর্ববর্তী সংবাদ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনআ'লীগের দুর্গে হানা দিতে চায় বিএনপিআবদুর রাজ্জাক বীরগঞ্জ আওয়ামী লীগের কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে নৌকার দুর্গ বলে পরিচিত দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে হানা দিতে চান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ মনজুরম্নল ইসলাম মনজু। এ লক্ষ্যে পাড়া-মহলস্নায় গণসংযোগ করছেন তিনি।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ তাদের আসন ধরে রাখতে বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাকারিয়া জাকা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আবু হুসাইন বিপু বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ও বীরগঞ্জ পৌর মেয়র মওলানা মো. হানিফ এবং জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম গণসংযোগ করেছেন।
জাতীয় সংসদের-৬ দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনটি অত্যান্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ এবং নৌকা মার্কার ঘাঁটি বলে পরিচিত। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালের প্রহসনমূলক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মো. আনিসুল হক রিজু এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুলস্না হেল কাফী জয়লাভ করেন। এ ছাড়া এই আসনটি বেশিরভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। বর্তমানে এমপি ও আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে আবারও আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে ধারণা নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের।
এই আসনে ৬১৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ৩৩৮টি গ্রামের ৩৪০টি মৌজার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১,৮১,০৪৬ জন পুরম্নষ এবং ১,৬৮,৬৩৮ জন মহিলাসহ মোট ৩,৪৯,৬৮৪ জন ভোটার রয়েছেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের জেলা সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল দলীয় প্রার্থী হতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি কৌঁসুলি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুলস্নাহ আল কাফী জয়লাভ করেন। পরে তার মৃতু্যতে আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এরপর আওয়ামী লীগে যোগদান করে ২০০৮ সালে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ফের জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও নির্বাচিত হন তিনি। পরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত ইমেজ এবং উন্নয়নের কারণে এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাজনীতিতে নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাকারিয়া জাকা। দল ক্ষমতায় থাকলে নিজের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে সোচ্চার থাকেন প্রায় সব নেতাকর্মী। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। তিনি নিজের জন্য নয়, নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত সোচ্চার ছিলেন। দলে কোন্দল থাকলেও সব সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি- এ পর্যন্ত্ম কোনো দুর্নীতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। দলের দুর্দিনের বন্ধু, স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ ও দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, সৎ ব্যক্তি হিসেবে সর্বত্রই তার সুনাম রয়েছে। দেশে বন্যা শুরম্ন হয়েছে জানতে পেরে ভারতে চিকিৎসা সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে এসে ব্যক্তিগত অর্থায়নে বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মকা-ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন নির্ভীক কর্মী হিসেবে পরিচিত করেছেন।
এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবু হুসেইন বিপু। তিনি দীঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার কারণে এলাকায় সুপরিচিত মুখ। জাতীয়সহ বিভিন্ন কর্মকা-ে জড়িত থাকার কারণে গ্রামগঞ্জের ভোটাদের ও তরম্নণদের কাছে তিনি বেশ আস্থাভাজন। বন্যায় প্রথম দিনেই ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এলাকায় ছুটে এসে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ছাত্রলীগের বিশাল কর্মী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বানভাসি মানুষের মাঝে গভীর রাত পর্যন্ত্ম ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। সে সময় তার ত্রাণবাহী বহর বানভাসিদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস যুগিয়েছিল। পাশাপাশি তার পরিচিত দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এই এলাকায় ত্রাণ বিতরণে আহ্বান জানিয়েছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ছুটে এসেছিল বন্যার্তদের পাশে। দলীয় এবং সামাজিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এই আসনে জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন বীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম। জাতীয় যুব সংহতির উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে ২০০৪ সালে জাপার ক্রান্ত্মিকালে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করার কাজ করে যাচ্ছেন। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাপার দলীয় প্রার্থীর প্রতীক নিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতির কারণে নির্বাচন করতে পারেননি। আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে তারই নাম মাঠে-ময়দানে রয়েছে।
এদিকে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মনজুর ইসলাম মনজু আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বীরগঞ্জ-কাহারোলে তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। আগামী নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের জনসমর্থন নিয়ে তিনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মানুষকে সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকাও পালন করে থাকেন। বিশেষ করে এবারের বন্যায় তিনি এককভাবে নিজ অর্থায়নে হাজার হাজার দুর্গত মানুষকে সাহায্য করে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। কেউ তার কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি খালি হাতে ফেরান না তার এমন সুনামও রয়েছে এলাকায়। শীতে হাজার হাজার কম্বল বিতরণ করেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক মানুষকে পাকাবাড়ি করে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুলস্নাহ আল কাফী জয়লাভ করেন। এমপি থাকাকালীন সময় তার বিরম্নদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ইমেজ সংকটে পড়ে জামায়াত। তার মৃতু্যর পর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যায় জামায়াত। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের পক্ষে জামায়াত নেতা মওলানা মোহাম্মদ হানিফ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হেরে যান। বর্তমানে দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে জামায়াত যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আবারও মওলানা মোহাম্মদ হানিফ প্রার্থী হবে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র অথবা জোটের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে পারেন।
এই আসনে জাতীয় পার্টির হয়ে আরও মাঠে কাজ করছেন বীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম। এর আগে তিনি জাতীয় যুব সংহতির উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।


আগামীকাল পড়ুন পটুয়াখালী-৩ আসনের
(দশমিনা-গলাচিপা) নির্বাচনী সংবাদ
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close