ট্রাম্পের জেরম্নজালেম ঘোষণায় সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড়যাযাদি ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরম্নজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্ত্মাম্বুলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন -ইন্টারনেটজেরম্নজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ট্রাম্পের জেরম্নজালেম ঘোষণায় কে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, এএফপির প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, তার সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত্মকে সমর্থন করছে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্ত্মি আলোচনার জন্য সহায়ক নয়। ট্রাম্পের জেরম্নজালেম ঘোষণায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সুরে বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত্মকে সমর্থন করে না।
জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্ত্মিন-ইসরাইল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন, তা তিনি সমর্থন করেন না। 'পৃথক দুই রাষ্ট্র'-নীতির মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান বলে তিনি মনে করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফিদেরিকা মোগেরিনিও ট্রাম্পের জেরম্নজালেম ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্ত্মোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। তিনি এই বলে সতর্ক করেছেন যে, জেরম্নজালেমের কী হবে, তা কেবল ইসরাইল-ফিলিস্ত্মিন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, 'জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আমি এখন থেকেই এ সিদ্ধান্ত্মের বিপক্ষে আমার অবস্থানের কথা জানিয়ে যাব।'
ট্রাম্পের জেরম্নজালেম ঘোষণার সমালোচনা করে এককাতারে এসে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডান। সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি 'অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন'। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত্ম ফিলিস্ত্মিনিদের ঐতিহাসিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। ইরান ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছে, এ সিদ্ধান্ত্ম ইসরাইলের বিরম্নদ্ধে ফিলিস্ত্মিনিদের নতুন ইন্ত্মিফাদা বা গণঅভু্যত্থানের সূচনা করতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত্ম মুসলমানদের নতুন ইন্ত্মিফাদা, উগ্রবাদ, ক্ষুব্ধ ও
সহিংস কর্মকা-ের দিকে উসকে দেবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদের কার্যালয় থেকে ট্রাম্পের জেরম্নজালেম সিদ্ধান্ত্মের নিন্দা জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তার কার্যালয় থেকে বলা হয়, 'জেরম্নজালেমের ভবিষ্যৎ কোনো রাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্টের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না।' লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি স্বাধীন ফিলিস্ত্মিন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্ত্মিনিদের চাওয়া ও অধিকারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আরব বিশ্ব কখনোই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত্ম মেনে নেবে না। আর জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ মোমানি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প জেরম্নজালেম ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ ও আন্ত্মর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত্মের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের মধ্যে ঠেলে দেবে বলে তিনি মন্ত্মব্য করেন। তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, 'হে ট্রাম্প, আপনি কী করতে চান? এটা কী ধরনের আচরণ। রাজনৈতিক নেতা শান্ত্মি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা কোনো বিষয়কে অচল করেন না।' মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত্মের বিরম্নদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জেরম্নজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ, আরব ও মুসলমান-অধু্যষিত দেশ, এমনকি মার্কিন মিত্রদের আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে তিনি নিজের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত্মেই অনড় থাকেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরম্নজালেমে সরিয়ে নেয়ার কথা জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত্মকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু 'ঐতিহাসিক', 'সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত্ম' বলে মন্ত্মব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই শহরের স্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে আশ্বস্ত্ম করেছেন।
এমন সিদ্ধান্ত্মে ক্ষুব্ধ ফিলিস্ত্মিনের সরকার ও জনগণ। ফিলিস্ত্মিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক ভাষণে বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত্মের পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই ফিলিস্ত্মিন-ইসরায়েল শান্ত্মি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে না। দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য এই সিদ্ধান্ত্ম শান্ত্মি আলোচনার সব ধরনের উদ্যোগ ভেস্ত্মে দিয়েছে।
ফিলিস্ত্মিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) প্রধান সায়েব ইরেকাত বলেছেন, ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্ত্মিন সংকটের 'পৃথক দুই রাষ্ট্র' সমাধানের শেষ আশাটুকুও নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ফিলিস্ত্মিন-ইসরাইল সংকট সমাধানে ফিলিস্ত্মিনের পক্ষে শান্ত্মি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। আর ফিলিস্ত্মিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইসমাইল রেদোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে 'নরকের দরজা' খুলে গেল।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close