নব্য জেএমবির হামলার টার্গেট ছিল ঢাকাউত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৪স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া বৃহস্পতিবার বগুড়ার মোকামতলা বাজার এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের সামরিক প্রধানসহ নব্য জেএমবির ৪ সদস্যকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ -যাযাদিনিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার, শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি মিজান, সক্রিয় সদস্য আলমগীর ওরফে আরিফ, সক্রিয় সদস্য আফজাল ওরফে লিমন।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্ত্মল, ১৫টি গুলি, ম্যাগাজিন, ১টি চাপাতি ও ৪টি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল আক্তার নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান। তার সাংগঠনিক নাম বাবুল মাস্টার। বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়। ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের পর নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বাবুল। রাজীব গান্ধী গ্রেপ্তার আছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলার পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য মো. বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টারসহ চারজন বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। হামলার টার্গেট ছিল রাজধানী ঢাকা। সেই পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের অংশ হিসেবে তারা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্ত্মুতি নেয়। কিন্তু তার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
হমো. আসাদুজ্জামান জানান, বাবুল ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগ দেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত্ম উত্তরাঞ্চলে দাওয়াতি কার্যক্রম চালান। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন। ২০১৭ সালের প্রথমদিকে উত্তরাঞ্চলের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৭ সালে মে মাসে নব্য জেএমবির শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রংপুর জেলার কাউনিয়া থানাধীন খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার অন্যতম চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।
তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে বড় ভাই ইউসুফ হাজীর (২০১৬ সালে বগুড়ায় গ্রেপ্তার) মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেন দেলোয়ার হোসেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত্ম জেএমবিতে অবস্থান করে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় দাওয়াতি কার্যক্রম চালান। ২০১৩ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জুনুদ আত তাওহীদ আল খিলাফাহ-এ যোগ দেন। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার দায়িত্বশীল হিসেবে কার্যক্রম শুরম্ন করেন। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলার বাঘমারা থানার আহম্মদীয়া মসজিদে বাংলাদেশে প্রথম আত্মঘাতী হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
দেলোয়ারের আপন ছোট ভাই মোয়াজ্জেম ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন।
এসপি মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেলোয়ার ওই গ্রামের পলি আক্তারের বাসা ভাড়া নেন। সেখানে জঙ্গি আস্ত্মানা গড়ে তোলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত্ম থেকে ইউরো বিস্ফোরক জেল, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারম্নদ সংগ্রহ করতেন তিনি।
হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরি করে দেলোয়ার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জঙ্গি আস্ত্মানায় সরবরাহ করতেন। পাশাপাশি হিজরতকারী অনেক জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতেন।
এ জঙ্গি আস্ত্মানায় নব্য জেএমবির তামিম চৌধুরী, মারজান, সাগর, রাজীব গান্ধী, বাবুল মাস্টার, রিপন, কাওছার, ওসমান, মমিন ও রজবসহ অনেকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এখান থেকেই ২০১৫-১৬ সালে উত্তরাঞ্চলে সংগঠিত বিভিন্ন টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়।
এ সময় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ম-ল, সনাতন চক্রবর্তীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close