মোমিন হত্যা: হাইকোর্টে ৮ আসামির সাজা বহালযাযাদি রিপোর্ট কলেজছাত্র মোমিন হত্যা মামলার মূল আসামী ওসি রফিক (পুলিশের পোশাক পরিহিত) -ফাইল ছবিঢাকার কাফরম্নলের কলেজছাত্র কামরম্নল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃতু্যদ- এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্ত্মফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক যুগ আগের এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র মোমিন জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাকে হত্যার এই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন মতিঝিল থানার সাবেক ওসি একেএম রফিকুল ইসলাম।
রফিককে 'রক্ষার জন্য' পুলিশের নানা তৎপরতার কারণে মামলাটি ছিল আলোচিত। ঢাকার দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনাল ২০১১ সালে এ মামলার রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃতু্যদ- এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন দেয়।
ওই রায়ের পর কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রফিকের মৃতু্য হয়। হাইকোর্টের রায়ে বাকি সব আসামির সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।
তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়ার হয়েছে প্রাণদ-ের রায়। আর হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিনের হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদ-।
আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা তাজ ও বাবু হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। বাকি ছয়জন পলাতক বলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহম্মেদ জানিয়েছেন।
হাইকোর্টের রায়ে সন্ত্মোষ প্রকাশ করে মোমিনের বড় ভাই শামসুল ইসলাম সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমরা বারবারই পুলিশ প্রশাসন দ্বারা প্রতারিত হয়েছি। তারা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করেছিল। এখন পর্যন্ত্ম পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক। সুমন বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী তাজের বাহিনী এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফাঁসির আসামিদের গ্রেপ্তারে বারবার থানায় গিয়েও কোনো ওয়ারেন্ট বের করতে পারিনি।
আসামিরা আপিল করলে সর্বোচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোমিনের ভাই।
বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর ইব্রাহিমপুরে বাসার সামনে খুন করা হয় মোমিনকে। ওই দিনই তার বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরম্নদ্ধে মামলা করেন।
ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত্ম বিভাগ (সিআইডি)।
এর বিরম্নদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন দিলে পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্ত্মের দায়িত্ব দেয় আদালত। ডিবিও তদন্ত্ম শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়।
তাতেও বাদী আপত্তি জানালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত্ম হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত্ম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
এরপর ওই বছরের ১১ নভেম্বর অভিযোগপত্র গৃহীত হয়; ঢাকার দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনাল-৩ এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিচার শুরম্ন হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনাল-৪ এ স্থানান্ত্মর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরম্নদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। এ আদালতই বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় দেয়।
নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর গত ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শুরম্ন হয়।
হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, একেএম তৌহিদুর এবং রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close