জন্ম ও মৃত্যুর হিসাব রাখার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারযাযাদি ডেস্ক জন্ম ও মৃত্যুর হিসাব রাখতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি্লউএইচও)। বুধবার ঢাকায় আঞ্চলিক কমিটির এক অধিবেশনে এই আহ্বান জানানো হয়।
৬৭তম এ অধিবেশনে সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকগণ কীভাবে একটি শক্তিশালী সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, এ ব্যাপারে আলোচনা করেন।
সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৬ লাখ অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু
মারা যায়, কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর তথ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রত্যয়িত বা স্বাস্থ্যকর্মী সূত্রে জানা যায় কিংবা কোনো হাসপাতালে নথিবদ্ধ আছে। কার্যকর স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, নাগরিক নিবন্ধন জনজীবনের মূল বিষয়গুলো, যেমন- জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ ও বিবাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান। এসব সংরক্ষিত তথ্য সবার হাতে হাতে পেঁৗছে দিতে হবে, যাতে এটা জাতীয় উন্নয়নের মূল্যায়ন এবং সামনে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, একটি জাতীয় সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এবং ক্রমাগতভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যা আইনি নির্দেশনার দ্বারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়, পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, 'জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণের মধ্যদিয়ে আমাদের প্রতিটি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর হিসাব রাখতে হবে।' তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সিআরভিএস ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।'
সংস্থাটি মনে করে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলো, যেমন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করার ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ৬০টি সূচকের মধ্যে ৪২টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং ২০১৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশকে সহযোগিতা করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবি্লউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি সদস্য রাষ্ট্র হলো বাংলাদেশ, ভুটান, গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin