পূর্ববর্তী সংবাদ
আইএস দমনে জোট বাঁধতে মধ্যপ্রাচ্যে কেরিজ্জ কংগ্রেসের কাছে পরিকল্পনা পেশ করলেন ওবামা জ্জ ৪০টি দেশ যুক্ত হতে পারে এই মিশনে জ্জ বিমান হামলাকে সমর্থন করে বেশিরভাগ আমেরিকানযাযাদি ডেস্ক কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বারাক ওবামাকট্টর সুনি্নপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে একটি বৈশ্বিক জোট গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ সফর শুরু করেছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। বুধবার সফরের প্রথম দেশ হিসেবে ইরাকে পেঁৗছেছেন তিনি। এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশটির কংগ্রেসের কাছে আইএস দমনের পরিকল্পনা পেশ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কর্তৃত্ব ওবামার আছে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে না তার। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স
জোট গঠনে বাগদাদে কেরি
বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, ইরাকে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির নেতৃত্বে 'ঐকমত্যের সরকার' গঠন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশটি সফরে গেলেন কেরি। ঐকমত্যের সরকার গঠনের পদক্ষেপ নেয়া মাত্রই আইএসের বিরুদ্ধে আরো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে আমেরিকা। এর আগে মালিকি সরকারের সময় ইরাকের পক্ষ থেকে বারবার আইএস দমনে আমেরিকাকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথা বলা হলেও সুনি্ন ও কুর্দিসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে 'ঐকমত্যের সরকার' গঠনের আগে তা করতে অস্বীকৃতি জানায় ওয়াশিংটন। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইএসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই কেরির এই বাগদাদ সফরের লক্ষ্য।
আইএসের বিরুদ্ধে মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধ অভিযানের জন্য সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন তৈরি করাই কেরির এই মধ্যপ্রাচ্য সফরের উদ্দেশ্য। ইরাকের পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সুনি্ন রাষ্ট্র সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে মিত্র জোটের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে ৯টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় দেশ। তবে গোটা অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে আরো ৪০টি দেশ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফাওয়াজ জার্জেস বলেন, 'আইএস দমনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে জোটবদ্ধ হওয়া। যেহেতু আমেরিকান বাহিনী মাঠে নামছে না, তাই ইরাকি, কুর্দি ও সিরীয় বাহিনীকেই মূল লড়াইটি করতে হবে।' জার্জেস আরো বলেন, 'আইএসের বিরুদ্ধে যে রকম শক্ত লড়াই হওয়া দরকার ছিল, সেটি হচ্ছে না। এর একটা কারণ, আইএস সামাজিক পর্যায়ে 'রক্ষক' হিসেবে নিজেদের একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।' উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা দখল করে আইএস 'খেলাফত রাষ্ট্র' ঘোষণা করে। পাশাপাশি দখলকৃত এলাকায় গণহত্যা ও ব্যাপক বন্দিহত্যাসহ দুইজন আমেরিকান সাংবাদিকের শিরশ্ছেদও করেছে উগ্রপন্থী এই গোষ্ঠীটি।
কংগ্রেসের কাছে পরিকল্পনা পেশ ওবামার
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশটির কংগ্রেসের কাছে আইএস দমনের পরিকল্পনা পেশ করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে তার কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় আজ সকাল) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ওবামা। ওই ভাষণে আইএস দমনের পরিকল্পনার কথা উঠে আসবে, এমন আভাস আগেই দিয়েছিলেন। জনসম্মুখে পরিকল্পনা পেশের আগে তাই কংগ্রেসের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে নিলেন তিনি।
ওবামার সঙ্গে মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে আমেরিকান সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হ্যারি রিড ও ন্যান্সি পেলোসি এবং রিপাবলিকান জন বোয়েনার ও স্পিকার মিক ম্যাককনেল অংশ নেন। ওবামার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বোয়েনার বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা করতে আমেরিকান সামরিক সমাবেশ ঘটানো হলে তিনি তাতে সমর্থন দেবেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসির সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার বেশিরভাগ লোক আইএসকে তাদের দেশের জন্য হুমকি এবং ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলাকে ব্যাপকভাকে সমর্থন করে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে ওবামার ওই আলোচনা 'ফলপ্রসূ' হয়েছে। এ ছাড়া আরো জানানো হয়, আইএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কর্তৃত্ব ওবামার আছে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে না তার।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক বছর পর কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে ওবামার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ওবামা সিরিয়ায় মিসাইল হামলা চালাতে কংগ্রেসের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস ওবামাকে সেই অনুমতি দেয়নি। এ ঘটনার পর কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে আমেরিকার বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ওবামা কংগ্রেসের সঙ্গে আলাপ করলেও কংগ্রেস সদস্যদের কাছে আর অনুমোদন চাইবেন না তিনি।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close