তালেবানবিরোধী অভিযানযুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে পাকিস্ত্মানপাকিস্ত্মানের আশঙ্কা, তালেবানের সঙ্গে প্রথমে কোনো ধরনের আলোচনার চেষ্টা না করে সরাসরি তাদের বিরম্নদ্ধে সামরিক অভিযানে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এই অভিযানে টিকে যেতে পারে তালেবান। পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে তারা এ যাত্রায়ও পার পেয়ে যেতে পারে, যেভাবে অতীতে টিকে গেছে ...যাযাদি ডেস্ক আফগান তালেবান -ফাইল ছবিপাকিস্ত্মান জানিয়েছে, সীমান্ত্ম এলাকার উভয় পাশে তালেবানের বিরম্নদ্ধে যদি বড় ধরনের অভিযান চালানো হয় এবং সেই অভিযান যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে এই অঞ্চলে তার গুরম্নতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংবাদসূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর, ডন
দেশটি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আফগান নীতি হলো তালেবানের বিরম্নদ্ধে দ্বিমুখী আক্রমণ চালিয়ে তাদের পরাস্ত্ম করা এবং তাদের কাবুলের শর্ত মেনে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা।
মার্কিন যুক্তির সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই পাকিস্ত্মানের। কিন্তু তাদের একটা উদ্বেগ রয়েছে। সেটা হলো, অভিযান ব্যর্থ হলে কী হবে? নতুন কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, 'দক্ষিণ এশিয়া নীতি নিয়ে আমরা পাকিস্ত্মানের সঙ্গে কাজ করছি। সন্ত্রাসীদের বিরম্নদ্ধে এভাবেই আমরা কাজ করি।' সম্প্রতি তিনি বলেন, এই নীতি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই প্রযোজ্য। পাকিস্ত্মানি কর্মকর্তা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদেরও যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই লক্ষ্য- এই অঞ্চল, বিশেষ করে আফগানিস্ত্মানকে জঙ্গিমুক্ত করা। তারা বলেছেন, পাকিস্ত্মানের মতো আর কোনো দেশই জঙ্গিদের কারণে এত ভুক্তভোগী হয়নি। আর অন্য কোনো দেশও পাকিস্ত্মানের মতো জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এত সাফল্যও পায়নি। এ দুটি বিষয়ের স্বীকৃতি দিলেও ম্যাটিস পেন্টাগনে তার ব্রিফিংয়ে আফগান তালেবানকে পরাস্ত্ম করতে মার্কিনিদের সহযোগিতা করার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের কথা উলেস্নখ করে ম্যাটিস বলেন, তারা পাকিস্ত্মানে নিরাপদ অবস্থান থেকে সংগঠিত হয়ে আফগানিস্ত্মানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, 'ন্যাটোর কোয়ালিশান ফোর্সের সব সেনার তুলনায় পাকিস্ত্মান এককভাবে অনেক বেশি সেনা হারিয়েছে। তবে আমাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু বিষয়ে শক্ত মতভেদ রয়েছে। এগুলো কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।' এই যুদ্ধে জেতার জন্য পাকিস্ত্মানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উলেস্নখ করেন তিনি।
হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিরাপদে তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি পাকিস্ত্মান সত্যিকার অর্থে যেটা জানতে চায়, সেটা হলো তালেবানকে কীভাবে পরাস্ত্ম করবে যুক্তরাষ্ট্র?
পাকিস্ত্মানের আশঙ্কা, তালেবানের সঙ্গে প্রথমে কোনো ধরনের আলোচনার চেষ্টা না করে সরাসরি তাদের বিরম্নদ্ধে সামরিক অভিযানে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এই অভিযানেও টিকে যেতে পারে তালেবান। পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে তারা এ যাত্রায়ও পার পেয়ে যেতে পারে, যেভাবে অতীতে টিকে গেছে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্ত্মানের বর্তমানে যেটুকু প্রভাব রয়েছে, সেটুকুও হারিয়ে যাবে। সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে, তালেবান তখন পাকিস্ত্মানের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। হামলাকারীদের জায়গায় রাশিয়া থাক বা যুক্তরাষ্ট্র, এর আগে সবসময় সেটা হয়েছে।
পাকিস্ত্মানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, আফগানিস্ত্মানে যুক্তরাজ্যের 'অ্যাডভেঞ্চারের' ফল এখনো পাকিস্ত্মানকে ভুগতে হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্ত্মানের ব্যাখ্যা-বিশেস্নষণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অন্ত্মত এই মুহূর্তে তো নয়ই। তবে তারা আগ্রহ ঠিকই দেখাবে, তালেবান এই দফা হামলাতেও যদি টিকে যায়- এমটাই মনে করছেন পাক বিশেস্নষকরা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin