শ্রমিকরা কাজ করেন সভাপতির ক্ষেতেদুর্গাপুরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচিদুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা রাজশাহীর দুর্গাপুরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের সভাপতির বিরম্নদ্ধে শ্রমিকদের দিয়ে নিজের পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া রাস্ত্মা সংস্কারের কাজ না করিয়ে ওই শ্রমিকদের দিয়ে নিজের পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে ওই প্রকল্পের কাজ দেখতে যাওয়া হলে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এ সময় দেখা গেছে, শ্রমিকদের কেউ কেউ কাজেই আসেননি। আবার কেউ কাজ করছেন প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জিয়ার পেঁয়াজ ক্ষেতে। বিষয়টি উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েও কোনো ব্যবস্থাই নেননি।
জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিওরকুড়ি, লক্ষিপুর ও দেলুয়াবাড়ি গ্রাম নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ২০ দিন আগে ওই ওয়ার্ডের বিভিন্ন কাঁচা রাস্ত্মা সংস্কারের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ওই ওয়ার্ডের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়াকে। ৩৪ জন নারী ও পুরম্নষ শ্রমিক ওই কাজে অংশ নেন। এক সপ্তাহ ধরে ৫ জন নারী শ্রমিককে নিজের পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করাচ্ছেন প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জিয়া। স্থানীয়দের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে যাওয়া হলে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এ সময় দেখা যায় প্রকল্পের কয়েকজন শ্রমিক কাজেই আসেননি। আর ৫ জন নারী শ্রমিককে নিজের পেঁয়াজ ক্ষেতে নিড়ানীর কাজে লাগিয়েছেন ইউপি সদস্য জিয়া। কাজের ফাঁকে সকালের খাবার খাচ্ছিলেন ওই ৫ নারী শ্রমিক।
এ সময় ওই ৫ নারী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউপি সদস্য জিয়া তাদের দিয়ে ইচ্ছেমতো কাজ করান। তার কথা না শুনলে প্রকল্পের তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেন। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে তার (জিয়ার) পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজে লেগেছেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, অন্য শ্রমিকরা তিওরকুড়ি গ্রামের একটি কাঁচা রাস্ত্মায় মাটি ফেলার কাজ করছেন। অথচ তাদের মধ্যে আরও ৫ জন শ্রমিক কাজেই আসেননি। ইউপি সদস্য জিয়ার কাছের লোক হওয়ার সুবাদে মাঝেমধ্যে এসে তারা শুধু হাজিরা দিয়ে টাকা নিয়ে চলে যান।
স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা রবিউল আলমকে জানালে তিনি মঙ্গলবার পৌনে ১২টার দিকে সরেজমিনে তদন্ত্মে যান। এ সময় অনুপস্থিত শ্রমিকদের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানোর কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্থানীয়দের আশ্বাস দেন। তবে শ্রমিকদের অনুপস্থিত না দেখিয়ে উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা রবিউল আলম দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের পুনরায় কাজে লাগিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। অথচ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত্ম শ্রমিকদের কাজ করার বিধান রয়েছে কর্মসৃজন কর্মসূচির প্রকল্পে।
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া ৫ জন নারী শ্রমিককে তার পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজে লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সকালে ও দুপুরে খেতে দেয়ার শর্তে শ্রমিকদের কাজে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমাকে জানানো হলে পুনরায় তাদের রাস্ত্মার কাজে লাগানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি প্রকল্প সভাপতি জিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রকল্পের কাজ দেখতে যাওয়া হয়। এ সময় ৫ জন শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত থাকায় তাদের ডেকে এনে কাজে লাগানো হয়েছে। সময়মতো কাজে না আসার বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প সভাপতি জিয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রকল্প সভাপতি জিয়ার পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করা ওই ৫ নারী শ্রমিকের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close