সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোকজ উৎসব শুরম্ন কালসোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারম্নশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে কাল রোববার থেকে শুরম্ন হচ্ছে মাসব্যাপী লোক কারম্নশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব-২০১৮।
এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরি ভবনের সেমিনারকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইতোমধ্যে উৎসবের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবারের উৎসবের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও উৎসবের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লোকজ উৎসব উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এবারের উৎসবে গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম 'কাঠের কারম্নশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন' শিরোনামে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী উপলক্ষে গবেষণামূলক একটি ক্যাটালগ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
উৎসবে আগত দর্শনার্থীরা খাবারের মূল্য নিয়ে যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন সে জন্য এ বছর খাবারের দোকানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং খাবারের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য তালিকা করে দেয়া হয়েছে। যারা এটি অমান্য করবেন তাদের স্টল বাতিল করা হবে বলে জানান, ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পলস্নী অঞ্চল থেকে ৬০ জন দক্ষ কারম্নশিল্পী লোকজ উৎসবের প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহ ও মা-রার শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, চট্টগ্রামের নকিশিপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের হাতি, ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারম্নশিল্প, নকিশিকাঁথা, নকিশি হাতপাখা, মুন্সীগঞ্জের শীতল পাটি, মানিকগঞ্জের তামা-কাঁসা-পিতলের কারম্নশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কারম্নপণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটাশিল্প, সোনারগাঁওয়ের পাটের কারম্নশিল্প, নাটোরের শোলার মুখোশ শিল্প, মুন্সীগঞ্জের পটচিত্র, ঢাকার কাগজের হস্ত্মশিল্পসহ মোট ১৮০টি স্টল থাকছে।
এছাড়াও উৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি গান, জারিসারি ও হাছন রাজার গান, লালন সংগীত, মাইজভা-ারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গায়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তি-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথিপাঠ, গ্রামীণখেলা, লাঠিখেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে।
কাল সকালে লোকজ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুলস্নাহ আল কায়সার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খাঁন ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।
উৎসব প্রাঙ্গণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত্ম খোলা থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত্ম চলবে এ উৎসব।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close