শীতের সবজির ভালো দাম পেয়ে খুশি শ্রীপুরের চাষিশ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শিরিশগুরী গ্রামে একটি সবজিক্ষেত -যাযাদিঅতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে গত দুই মৌসুমে ফলন ভালো হয়নি, তবে এবার সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের কৃষকরা। শ্রীপুরে এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় ওই এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে, উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে এবার শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, টমেটো ও বিভিন্ন জাতের শাক রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে কৃষকদের কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাই এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, গত কয়েক বছর ধরে দেশে কোনো হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি না থাকায় পণ্য পরিবহনে কৃষকের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে না। এছাড়া বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুর ও মাওনা চৌরাস্ত্মার কয়েকটি আড়ৎ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে শ্রীপুরের উৎপাদিত সবজি।
শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের শিরিশগুড়ি গ্রামে ভাড়ায় ২৫ বিঘা জমি নিয়ে তাতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জিলস্নুর রহমান। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি বিভাগ থেকে অবসর নিয়ে একই বিভাগের মেজর (অব.) তানভীর হায়দারের কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ দেখে উৎসাহিত হয়ে জিলস্নুর রহমান কৃষিতে বিনিয়োগ করেন। প্রথমে পেঁপে চাষের মাধ্যমে কৃষিকাজ শুরম্ন করেন। আর চলতি মৌসুমে বাঁধাকপির চাষ করেছেন। জিলস্নুর রহমান জানান, প্রায় লক্ষাধিক বাঁধাকপি চাষ করেছেন, যা এখন বিক্রির উপযোগী। লক্ষাধিক বাঁধাকপি চাষে তার খরচ হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বাজারে সবজির দাম ভালো। তাই তিনি আশা করছেন, তার লাভের অঙ্ক পাঁচ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
মুলাইদ গ্রামের কৃষক সিরাজউদ্দিন জানান, ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধের সময় তার ক্ষতি হয়েছিল তিন লাখ টাকা। এবার ৭ বিঘা জমিতে লাউ ও ফুলকপি চাষ করেছেন তিনি। দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। ইতোমধ্যে তিনি লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরও একলাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন তিনি।
হগোদারচালা গ্রামের গৃহবধূ কমলা আক্তার। তিনি নিজের শ্রমেই বাড়ির পাশের অব্যবহৃত ১০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত্ম বাজারে ৫০ টাকা দরে প্রায় আটশ' লাউ বিক্রি করেছেন। মাচা তৈরি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে তার ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, কীটনাশকমুক্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে সবজি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভালো দাম ও সবজির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসান জানান, কৃষি বিভাগের নজরদারিতে শ্রীপুরে উৎপাদিত সবজির বেশিরভাগই কীটনাশকমুক্ত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এদিকে, বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close