কোরাম সংকটপ্রাণবন্ত্ম সংসদই কাম্যগণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থার মধ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আর জাতীয় সংসদই হলো সেই প্রাণকেন্দ্র, যেখানে সমবেত হয়ে আইনপ্রণয়নসহ জাতীয় গুরম্নত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত্ম নেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এ জন্য জাতীয় সংসদকে কার্যকর রাখা জরম্নরি। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকবে- এ বোধ থাকলেই কেবল হবে না, সংসদকে কার্যকর রাখার সদিচ্ছাও থাকতে হবে। শুক্রবার গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, দশম সংসদের ঊনবিংশতম অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে কোরাম সংকট ঘটে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, এর বিকাশ ও চর্চাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাওয়ার যে তাগিদ বোধ, এটা কি আমাদের সংসদ সদস্যরা হারিয়ে ফেলছেন- সংগত কারণে এমন প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়? পবিত্র সংসদ নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদাসীনতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার বেসরকারি সদস্য দিবসে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদ অধিবেশন শুরম্ন হয়ে অধিবেশনের একপর্যায়ে কোরাম সংকট ঘটলেও তা কারও নজরে না থাকায় বিরতিহীন অধিবেশন চলে। অথচ সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে কোরাম পূর্ণ করতে অন্ত্মত ৬০ সদস্যের উপস্থিতি থাকতে হয়। কোরাম সংকট হলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়। যদি কোনো সদস্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তবে স্পিকার কোরাম হওয়ার জন্য ৫ মিনিট ধরে ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন। এর মধ্যে কোরাম না হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি করেন। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত্ম প্রস্ত্মাব জমা দেন পাবনার সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, চট্টগ্রামের মোস্ত্মাফিজুর রহমান চৌধুরী ও দিদারম্নল আলম, ঢাকার এমএ মালেক এবং ফেনীর রহিম উলস্নাহ। এর মধ্যে প্রথম তিনজনই অধিবেশন কক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বেও প্রশ্নকারী একাধিক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী রোববার পর্যন্ত্ম সংসদ মুলতবি করেন ডেপুটি স্পিকার।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশে সংসদীয় সংস্কৃতি এমনভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, সরকারি কিংবা বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্র বিকাশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উদাসীন থাকে। বর্তমান বিরোধী দল ছাড়া এর আগের সব বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত্ম স্থাপন করেছে। লক্ষ্যণীয় যে, দেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরলেও প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি ও অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা চালু হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে 'ছায়া-সরকার' বলা হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে 'ছায়া-সরকার'; অভিধাটিও যেন হাস্যকর ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। অতীতে সরকার যেমন বিরোধী দলকে মর্যাদা ও গুরম্নত্ব দেয়নি। তেমনি বিরোধী দলও সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেনি। আর এভাবেই চলেছে দেশ এবং আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র। তাছাড়া সংসদে দাঁড়িয়ে অশালীন ভাষা প্রয়োগের মতো লজ্জাজনক ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত্ম পরিতাপের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সংসদ আদর্শ লোকদের এক বিরাট সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। উন্নত দেশের সংসদ সদস্যদের নীতি-নৈতিকতা, শিক্ষা-দীক্ষা, রম্নচি ও সংস্কৃতি, কর্তব্যবোধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি মূল্যায়ন করলে এ কথার যথার্থতা পাওয়া যায়। সন্দেহ নেই, জাতীয় সংসদ একটি পবিত্র স্থান। ফলে জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধি পবিত্র এই স্থানে যথা নিয়মে সমবেত হবেন এমনটিই কাম্য। প্রস্ত্মাব জমা দেয়ার পরও যখন সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকেন, এবং তাদের অনুপস্থিতির ফলে সংসদ কোরাম সংকটে পড়ে তখন বিষয়টি শুধু পরিতাপেরই নয়, চরম লজ্জার বলেও আমরা বিবেচনা করতে চাই। পাশাপাশি এ পরিস্থিতির নিরসনও প্রত্যাশা করি।
সর্বোপরি বলতে চাই, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, জাতি হিসেবে নিজেদের ছোট মনে হয়- এ ধরনের হীন মানসিকতা ও সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এমন হবেন, যাদের দ্বারা গণ-উপেক্ষা ও বঞ্চনা বৃদ্ধি না পায়। মনে রাখা দরকার, জাতীয় সংসদ কার্যকর রাখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যদেরই। সংসদ সদস্যরা নিয়মানুবর্তিতা, ভাষা প্রয়োগ এবং উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিবেদিত থাকবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin