পাঠক মতমানবতা হোক মানুষের জন্যশামীম শিকদার ভাকোয়াদী, কাপাসিয়া, গাজীপুর মানবতা তখনই সর্বউৎকৃষ্ট পর্যায়ে অবস্থান করে যখন তা পরিপূর্ণভাবে যথার্থ স্থানে প্রয়োগ করা যায়। অন্যথায় মানবতা কথাটির প্রকৃত কোনো অর্থ প্রকাশ পায় না। সবার অন্ত্মরে যেমন মানবতা বিরাজমান থাকে না তেমনই সব ক্ষেত্রে মানবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো ঠিক নয়। মানুষ থেকে মানবতার সৃষ্টি আবার মানুষ দ্বারাই সেই মানবতার ধ্বংস করা হয়। সর্ব অবস্থায় একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের সবচাইতে দুর্বল দিকটি খুঁজে আর সময় সুযোগ বুঝে তাতে চরমভাবে আঘাত করে। তখন মানুষের গায়ে শত জোর থাকলেও মানুষ ও মানবতা হিংস্র রূপ ধারণ করে। চলমান সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবতার দোহাই দিয়ে চলে হাজারো নৈতিকতাবিরোধী কর্মকা-। মানবতা শব্দের সঙ্গে গভীরভাবে যে শব্দটি জড়িয়ে আছে তা হচ্ছে নিস্বার্থ। কারণ কোনো ব্যক্তি যখন মানুষের কল্যাণে কাজ করে তখন তা থাকে সম্পূর্ণ স্বার্থের বাহিরে। কিন্তু বর্তমানে একেবারে স্বার্থের বাহিরে মানুষ কাজ করে তা স্থিরভাবে বলা কিছুটা বোকামির পরিচয় দেওয়া হবে। তাতে প্রত্যক্ষভাবে নিজেস্ব কোনো স্বার্থ না থাকলেও পরোক্ষভাবে রয়েছে নানান ধরনের স্বার্থ। বর্তমানে আমাদের দেশে মানবকল্যাণ, মানবসেবা, মানবাধিকার নামে যে সংগঠনগুলো ভাসমান তারা কি তাদের নির্ধারীত নীতি অনুযায়ী কাজ করে না কি অন্য পথে হাঁটে তা ভাবার বিষয়। শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে কোথায়ও বাদ নেই মনবতাপ্রেমী ব্যক্তির উপস্থিতি। শুধু মুখে মুখে তারা মানবতাপ্রেমী না কি কর্মেও তার পরিচয় মিলে তা চিন্ত্মার বিষয়। শহর থেকে গ্রামে যেখানেই চোখের দৃষ্টি ফেলি না কেন, মানবকল্যাণ নামে আমরা যে দিকটি আমাদের চোখের সামনে ভাসে তা হচ্ছে, নিজের বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রসারের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বড় বড় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, লিফলেট, ব্যানার টানিয়ে মিডিয়া ডেকে মানুষকে সাহায্য করার নাম কোনোভাবে মানবতা হতে পারে না। মানুষ আজ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী নয় মাস যুদ্ধ করেছিল অধিকার আদায়ের জন্য তা সম্ভব হলেও আজ তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সবাই বঞ্চিত নয় ক্ষমতা ও অর্থের জোরে অনেকেই কিনে নিয়েছে তাদের নিজস্ব অধিকার। যাদের ক্ষমতার কাছে বিক্রি হচ্ছে আইন ও মানবতা। চোখের সামনে যে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঘুরে বেড়ায় তার অধিকাংশই অচল বলা যায়। মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে দেখেও তারা একদম নীরব। সরকারি লাইসেন্স ও নিবন্ধন ব্যাতিত অনেক মানবাধিকার সংস্থা দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠন করে নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে তাদের খুশিমতো কার্যক্রম। দেশ ও বিদেশ থেকে আসা অর্থ ও সাহায্য কতটা দরিদ্র মানুষের নিকট পৌঁছাচ্ছে নাকি আগেই ভোগ হয়ে যাচ্ছে, তা তারা ব্যতিত অন্য কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারবে না।
কিছু কিছু মানুষ সমাজে নিজের প্রভাব বিস্ত্মার করার জন্য উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিটুকু নিভিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করে নিজে দূরে অবস্থান করে তার স্বাদ উপভোগ করে। যেখানে অর্থ ও অসচ্ছ ক্ষমতার কাছে সকল কিছু হেরে যেতে শিখেছে সেখানে মানবতা কিভাবে রেহাই পাবে?
যার ক্ষমতা ও অর্থ নেই সে প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত এ যদি হয় সমাজ, তবে মানুষ কিভাবে করবে বাস। এই ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আইন ও বিচার বিভাগসহ সংশিস্নষ্ট বিভাগকে সচেতন থাকতে হবে। যারা ক্ষমতার মাধ্যমে মানবতা ভঙ্গ করে তাদের প্রতি রাষ্টের সূক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলতে হবে। ভুয়া মানবধিকার সংস্থাগুলো আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন, অন্যথায় মানুষ পথে পথে প্রতারিত হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin