কৃষি পর্যটন স্পট নকলারগ্রামীণ ইকোপার্করফিক মজিদ, শেরপুর ইকোপার্ক মানেই জীববৈচিত্র্য, পাখ-পাখালি ও গাছ-গছালির ব্যাপক সমাহার। তবে একটু ব্যতিক্রমী ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে শেরপুরের নকলায়। প্রায় ৭ একর জমির ওপর বালু জমিতে গড়ে উঠেছে এ পার্কটি। যেখানে কোন রকমের গাছ-গাছালি তো দূরের কথা লতা-গুল্মও জন্মাতো না সেখানে কৃষি বিজ্ঞানীরা নানা কৌশলে জন্মিয়েছে আম, জাম, লিচু, কলা, কাঁঠাল, পেঁপে, পেয়ারা, বরই, আতা, তাল, ছফেদাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ এবং বিভিন্ন ঔষধি ও বনজ প্রায় শতাধিক প্রজাতির আড়াই হাজার বৃক্ষ। প্রথম পর্যায় ওই বালু জমিতে কোনো গাছের চারা রোপণ করলে ক'দিন পর তা মরে যেত। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর গবেষণা করে ওই ইকোপার্কে প্রথম বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগিয়ে সফল হন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এরপর শুরম্ন হয় ইকোপার্ক গড়ার কাজ।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের উরফা কোদাল দোয়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ভোগাই ও কালা গাঙ্গ নদী। ২০০৯ সালে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ভোগাই নদীর ওপর রাবার ড্যাম নির্মাণ এবং নদীর নব্যতা বৃদ্ধির জন্য নদী খননের কাজ শুরম্ন করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় নদী খননের বালু ভোগাই ও কালা গাঙ্গের মোহনার তীরে স্ত্মূপাকারে রেখে দেয়। পরে ওই বালুর স্ত্মূপের ওপর প্রায় সাড়ে তিন একর জমিতে কেবল মাত্র স্থানীয় গ্রামবাসীর জন্য ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করে ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
কিন্তু ওই ধূ-ধূ বালুর মধ্যে প্রথম কয়েক বছর গাছ তো দূরের কথা কোনো রকমের লতা-গুল্ম জন্মাতো না। এতে থেমে থাকেনি কৃষি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। জামালপুরের হার্টিকালচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ কৃষি সম্পসারণ বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক মো. এনামুল হক ওই ইকোপার্কে গাছ জন্মানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে নানা গবেষণা করে বিশেষ কায়দায় অবশেষে প্রায় ৪ বছর পর সফল হয়। এরপর আস্ত্মে আস্ত্মে ২০১৪ সালে ওই ইকোপার্কে রোপণ করা হয় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতি ফলদ, ঔষধি ও বনজ ২ হাজার ৫ শতাধিক গাছের চারা। বর্তমানে ওই ইকোপার্কের গাছে ফল ধরতে শুরম্ন করেছে। পাশাপাশি দেশীয় নানা প্রজাতির পাখ-পাখালির অভয়ারণ্যও স্মৃষ্টি হয়েছে। আর ইকেপার্কের গাছগুলোকে সতেজ ও জীবন্ত্ম রাখতে সার্বক্ষণিক দু'জন শ্রমিক নিয়োগ করেছেন কৃষি বিভাগ।
এদিকে ছায়া ঘেরা ইকোপার্কের মনোরম পরিবেশ দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে বিভিন্ন পেশার মানুষ-জন। ইকোপার্কের তিন পাশ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় কোদাল দোয়া বাজার থেকে নৌকা করে নদী পার হয়ে পৌঁছতে হয় পার্কে। স্থানীয়রা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানালেও কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর ইচ্ছে এখানে বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো স্থাপনা তৈরি না করে একেবারেই প্রকৃতির মতো ন্যাচারাল ইকোপার্ক গড়ে উঠুক যাতে জীববৈচিত্র্যে এবং পাখির অভয়াশ্রমের কোনো সমস্যা না হয়। তবে ভবিষ্যতে পার্কে যাতায়াতের জন্য এখানে একটি ফুটব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও ওই বালুর মধ্যে কোনো গাছ জন্মাচ্ছিল না। তাই আমরা অনেক গবেষণা করে বিশেষ কায়দায় মাটি থেকে ৬-১০ ইঞ্চি গভীর করে এবং গাছের চারার পারপাশে ৩-৫ ইঞ্চি ফাঁক রেখে চারাগুলো রোপণ করার পর বালুর তাপ থেকে রক্ষা পেয়ে চারাগুলো বাড়তে শুরম্ন করে। এক পর্যায় ওই ইকোপার্কের সকল চারা সতেজ হয়ে উঠে এবং বর্তমানে বেশ বড় হয়ে উঠেছে। অনেক গাছে ফলও ধরতে শুরম্ন করেছে। আশা করি আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইকোপার্কটি আরও সবুজ হয়ে উঠবে এবং এখানে দেশীয় নানা পাখ-পাখালির আবাসস্থল হয়ে উঠবে। আর ফলদ বৃক্ষ থেকে এলাকাবাসী দেশিয় নানা ফল খেতে পারবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close