অমর একুশে১৪৪ ধারা ভঙ্গের সাহসী ঘোষণাযাযাদি রিপোর্ট আজ ভাষার মাসের ত্রয়োদশতম দিবস। এদিন অনুষ্ঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের গুরম্নত্বপূর্ণ বৈঠক। ওই সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য শরিক দলের বেশ কিছু প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক সভা চলে। অতঃপর গাজীউল হক সভাপতির ভাষণে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণা দেন। এ সময় যুবলীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদের প্রস্ত্মাবক্রমে সিদ্ধান্ত্ম হয়- ১০ জনের গ্রম্নপে গ্রম্নপে ছাত্রছাত্রীরা বিভক্ত হয়ে বের হবেন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করবেন। এভাবেই ২১ ফেব্রম্নয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছিল।
তবে সরকারি রক্তচক্ষুর ভয়ে ও অন্যান্য বিবেচনায় ভাষা আন্দোলনের অনেক সংগঠক ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ছিলেন না। তারা অন্য উপায়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছিলেন। ২০ ফেব্রম্নয়ারি রাতে তমদ্দুন মজলিসের রাজনৈতিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তমদ্দুন মজলিস, পূর্ব-পাকিস্ত্মান আওয়ামী মুসলিম লীগ, পূর্ব-পাকিস্ত্মান মুসলিম ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিষয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। তখন অধিকাংশ সদস্য মত প্রকাশ করেন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হলে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে সরকার জরম্নরি অবস্থার অজুহাতে সাধারণ নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে। সরকারকে সে সুযোগ দেয়া যাবে না। অলি আহাদ ও আব্দুল মতিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার পক্ষে যুক্তি দিতে থাকেন। এরই মধ্যে

সলিমুলস্নাহ হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল এসে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদকে জানিয়ে দেয়, ছাত্ররা পরদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করবে। এরপর ভোটাভুটি হয়। ভোটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণ করা হয়। কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত্ম ছিল না বলে মো. তোয়াহা ভোটদানে বিরত থাকেন।
তবে সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত্ম ছাত্ররা মেনে নিতে পারেনি। ২০ ফেব্রম্নয়ারি রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্ররা পৃথক পৃথকভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণ করে। ফজলুল হক হলের ভিপি শামসুল আলম, জিএস আনোয়ারম্নল হক খান, এসএম হলের এসএ বারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ব্যাপারে ছাত্রদের সংগঠিত করেন। তমদ্দুন মজলিসের অধ্যাপক আবুল কাসেমও ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ছিলেন। মজলিসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং চৌধুরী শাহাবউদ্দিন খালেদকে আমতলায় বক্তব্য রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।
এদিকে ২০ ফেব্রম্নয়ারি রাতেই ১১ জন ছাত্রনেতা ২১ ফেব্রম্নয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ব্যাপারে ঢাকা হল ও ফজলুল হক হলের মধ্যবর্তী পুকুরপাড়ে এক গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল মোমিন, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারম্নল হক খান, গাজীউল হক, হাবিবুর রহমান শেলী, এম আর আখতার মুকুল, মোহাম্মদ সুলতান, মঞ্জুর হুসাইন, এসএ বারী, সৈয়দ কামরম্নদ্দীন হোসেন শহুদ ও জিলস্নুর রহমান। তারা সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণ করেন, পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসমাবেশে পূর্ব পাকিস্ত্মান মুসলিম ছাত্রলীগের কাউকে সভাপতিত্ব করতে দেয়া যাবে না। গাজীউল হক সভাপতিত্ব করবেন। তিনি গ্রেপ্তার হলে এমআর আখতার মুকুল এবং মুকুল গ্রেপ্তার হলে তমদ্দুন মজলিসের কামরম্নদ্দীন শহুদ সভাপতিত্ব করবেন।
১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রশ্নে কমিউনিস্ট পার্টি কর্মীদের বার্তা দেয় যে, পার্টির সিদ্ধান্ত্ম বিবেচনায় রেখে কর্মীরা ২১ ফেব্রম্নয়ারি সকালে ছাত্র-জনতাকে তাদের বক্তব্য বুঝাতে চেষ্টা করবেন। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গা সম্পর্কে জনতার মনোভাব লক্ষ্য করে উপস্থিত কর্মীরাই কর্মস্থলে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণ করবেন।
কমিউনিস্ট পার্টি পাকিস্ত্মানের সকল ভাষাকে সমমর্যাদা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে লিফলেটও বিলি করে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করতে ২০ ফেব্রম্নয়ারি উত্তেজনায় কেটে যায়। ২১ ফেব্রম্নয়ারি সকালেই মুখের ভাষা-বর্ণমালার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ) সমবেত হতে থাকে ছাত্র-জনতা।
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেডিক্যাল কলেজের পার্শ্ববর্তী দেয়াল ভেঙ্গে বিপুলসংখ্যক ছাত্রজনতা বের হয়ে পড়েন। পুলিশের মারমুখী অবস্থান ও গুলির প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতার মধ্যে যুবলীগ নেতা-কর্মীরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। বিশেষভাবে অলি আহাদের অগ্রণী ভূমিকা ও কৌশলী নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেদিনের ভাষা আন্দোলন পরিচালিত হয়। জনতার উত্তেজিত শক্তিকে ভাষা আন্দোলনে কাজে লাগিয়ে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অলি আহাদ সেদিন সত্যিকার দেশপ্রেম ও মাতৃভাষা প্রেমের পরিচয় দেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close