লেখক-প্রকাশককে হত্যাদোষীদের দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্ত্মি নিশ্চিত হোককিছুতেই যেন থামছে না হত্যাকা-ের ঘটনা। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটি দেশে একের পর এক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্যও পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হলেও এমন ভয়ঙ্কর কর্মকা-কে প্রতিহত করা অপরিহার্য। কেননা, তা না হলে সর্বস্ত্মরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন আশঙ্কা এড়ানো যায় না। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল- বস্নগার, কবি ও প্রকাশক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মুন্সীগঞ্জ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে হত্যা করা হয়। শাহজাহান বাচ্চু বিশাখা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য যে, এবারই প্রথম নয় এর আগেও প্রকাশক খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন বছর আগে আরেক প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপন রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের অফিসে খুন হন।
আমরা বলতে চাই, শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি আমলে নিতে হবে। কেননা যখন এভাবে একজন মানুষকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা হত্যা করছে, তখন কতটা ভয়ানক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে তা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে এর পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরম্নরি। সংশিস্নষ্টদের মনে রাখতে হবে যে, যখন দুর্বৃত্তরা এরকমভাবে খুন করতে উদ্যত হচ্ছে, তখন তা সামগ্রিকভাবেই ভয়াবহ বাস্ত্মবতাকে স্পষ্ট করে। তথ্য মতে, সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকালদী গ্রামের তিন রাস্ত্মার মোড়ে শাহজাহানের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বদিকে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ও পরিদর্শক (তদন্ত্ম) হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ থানায় নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কাকালদী (মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়কের) তিন রাস্ত্মার মোড়ে আনোয়ার হোসেনের ফার্মেসির সামনে বসে কথা বলছিলেন শাহজাহান বাচ্চু। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন লোক এসে তাকে ধরে রাস্ত্মায় নিয়ে আসে। তারা লোকজনকে সরে যেতে বলে এবং একটি ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। শাহজাহান বাচ্চুকে রাস্ত্মায় এনে তার বুকের ডান পাশে একটি গুলি করে। এ সময় সিরাজদিখান থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুম ওই রাস্ত্মা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে থানার দিকে যাচ্ছিলেন। এএসআই মাসুম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পান। সামনে এসে দেখেন একজন লোক পড়ে আছেন। তিনি প্রথম ভেবেছিলেন, বিদু্যতের তারে সমস্যা হয়েছে কিনা। একজন ব্যাগ থেকে একটি ককটেল ছোড়ে তার দিকেও। তিনি দৌড়ে পিছিয়ে যান। এরপর এই এএসআই পিস্ত্মল বের করতেই আরেকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনি বসে গুলি করার চেষ্টা করলে বিপরীত রাস্ত্মায় সন্ত্রাসীরা দৌড়ে দুই মোটরসাইকেলে চারজন কেটে পড়ে।
আমরা বলতে চাই, পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালেই জানা যায় একের পর এক হত্যাকা-ের খবর, অথচ তা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। টার্গেট কিলিং, লেখক-প্রকাশক হত্যা, রাজনৈতিক হত্যা থেকে শুরম্ন করে নানান শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিনিয়ত হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে যা অত্যন্ত্ম ভয়ানক। এটা মনে রাখা দরকার যে, খুনের মতো ভয়ানক ঘটনা রোধ করতে না পারলে তার পরিপ্রেক্ষিতে যে অধ্যায় সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে তা জনজীবনের স্বাভাবিকতাকেই বিঘ্নিত করবে এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়। আমরা বলতে চাই, শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগেও নানা সময়ে যারা খুনের শিকার হয়েছে, সেগুলো আমলে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্ত্মির আওতায় আনতে হবে।
সর্বোপরি সরকার সংশিস্নষ্টদের বলতে চাই, প্রতিনিয়ত যেভাবে খুনসহ নানা রকম অপরাধমূলক ঘটনাগুলো সামনে আসছে সেগুলো আমলে নিন। আমরা চাই, যে কোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যেমন দোষীদের দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্ত্মি নিশ্চিত হবে, তেমনিভাবে কেন মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে সেটিও আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে এমনটি কাম্য।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close