তালেবানকে অস্ত্র যোগাচ্ছে রাশিয়া!যাযাদি ডেস্ক কুলসুম নওয়াজ এবং মরিয়ম নওয়াজসাম্প্রতিক হামলাগুলোতে আফগানিস্তানে তালেবান বিদ্রোহীদের হাতে 'উন্নত অস্ত্র' দেখা যাচ্ছে, যেগুলো দৃশ্যত রুশ সরকার সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ ভিডিও হাতে আসার দাবি করে আফগান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এমন অভিযাগ করেছেন।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এক সময়ের শত্রু যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে মস্কো অস্ত্র সরবরাহ করছে। এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তারা উদ্বেগ দেখিয়েছিলেন এই বলে যে, আফগান বিদ্রোহীদের রুশ সরকার অস্ত্র দিতে চেয়েছিল।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার জেনারেল জন নিকলসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তালেবান বিদ্রোহীদের রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের খবর তিনি উড়িয়ে দেবেন কি-না। জবাবে তিনি বলেন, 'না আমি এই খবর একদম উড়িয়ে দিচ্ছি না।' তখন এক সংবাদ সম্মেলনে নিকলসন দাবি করেন, 'রাশিয়ার সহযোগিতার ব্যাপারে আমরা ক্রমাগত তথ্য পাচ্ছি। আমরা শান্তি প্রক্রিয়া অগ্রগতির ক্ষেত্রে সহায়তাকারী যে কাউকে সমর্থন করব। কিন্তু কেউ যদি তালেবান বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে আজীবন যুদ্ধ জিইয়ে রাখে, তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেটা সেরাপথ বলা যায় না।' আরেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বলেন, গত ১৮ মাস ধরে রাশিয়া মেশিনগান এবং হালকা যুদ্ধাস্ত্র তালেবান বিদ্রোহীদের সরবরাহ করে আসছে।
'ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড'র প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল গত মার্চে কংগ্রেস কমিটিকে বলেছিলেন, আফগানিস্তানে রুশরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় রয়েছে বলে তার বিশ্বাস।' তিনি বলেছিলেন, 'আমার মনে হয়, এটা ধারণা করাটা অত্যুক্তি হবে না যে, তারা অস্ত্রের মতো কিছু দিয়ে তালেবান বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে, অথবা অন্য কোনো বিষয় থাকতে পারে।'
দুটি ভিডিওতে স্নাইপার রাইফেল ও হরেক রকম কালাশনিক ও ভারী মেশিনগান দেখা যায়, যেগুলোতে উৎপাদন বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সব চিহ্ন তুলে ফেলা হয়েছে, যাতে উৎস দেশের নাম না জানা যায়।
আফগানিস্তানের হেরাতের কাছে তালেবান বিদ্রোহীদের বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠী বলছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী মূলধারার একটি তালেবান গোষ্ঠীকে হারিয়ে এই অস্ত্রগুলো দখলে পেয়েছে। অন্য গোষ্ঠীটির বক্তব্য, তারা এসব অস্ত্র তাজিকিস্তানের সীমান্ত থেকে বিনামূল্যে পেয়েছে এবং যেগুলো 'রুশরা' তাদের দিয়েছে।
একটি ভিডিওতে হেরাত গ্রুপকে অস্ত্রগুলো ঘষামাজা করতে দেখা যায়। তারা বলছিল, মোল্লা হায়বাতুল্লাহর নেতৃত্বে মূলধারার গ্রুপকে পরাজিত করে দখল করেছে। এই গ্রুপের উপনেতা মোল্লা আবদুল মানান নিয়াজি বলছিলেন, আইএসের সঙ্গে লড়াই জোরদারে ইরানের মাধ্যমে রাশিয়া এসব অস্ত্র মোল্লা হায়বাতুল্লাহর গোষ্ঠীকে দিয়েছিল। তারা এসব অস্ত্র এখন আমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছে।'
কাবুলের আশপাশে ধারণ করা দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক তালেবানযোদ্ধা অস্ত্র নিয়ে মহড়ারা সময় বলছে, তাজিক সীমান্ত দিয়ে কুন্দজের উত্তরাঞ্চল থেকে বিনামূল্যে তারা এসব পেয়েছেন। তিনি বলছিলেন, এগুলো সম্প্রতি আমাদের হাতে এসেছে। রাশিয়ার তৈরি এগুলো, খুব ভালো জিনিস।'
তবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'স্মল আর্মস সার্ভে' এই ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে বলেছে, এসব অস্ত্র যে রুশ সরকারের সম্পর্কিত তার প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ নেই। এগুলো আধুনিক বা বিরল নয়। এমনকি এগুলোর কোনোটা চীনের তৈরি, যেগুলো অনলাইনেও কিনতে পাওয়া যায়। তবে সংস্থাটির একজন বেঞ্জামিন কিং বলেন, 'অবশ্য এই অস্ত্রগুলোতে উৎপাদনের তথ্য ছিল না, যেটা আমরা জানতে চেয়েছিলাম।'
এসব ভিডিওতে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নাতীত প্রমাণ নেই। মস্কোও সুনির্দিষ্টভাবে এসবের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম দিককার অস্ত্রের প্রবাহের যেসব প্রমাণ এসেছে, তাতেই মস্কোর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে আফগান ও মার্কিন সরকার।
আফগান সরকারের মুখপাত্র সেদিক সেদিকি বলেন, 'রুশরা বলছে, তারা তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। অনেকের মাধ্যমেই আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া তালেবান বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে। সে কারণেই তালেবানের প্রতি ওই সমর্থনের মাত্রা কোন্ পর্যায়ে রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ করছে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।'
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও এর আগে তালেবান বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের দাবি 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। সেইসঙ্গে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা ঢাকতেই এসব গল্প ফাঁদা হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিতান্তই শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সংবাদসূত্র : সিএনএন
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close