নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফিবাংলাদেশ ব্যাংক বিপক্ষে হলেও পক্ষে পিএসসিএস এম মামুন হোসেন দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় আবেদনের জন্য যে উচ্চ ফি নেয়া হয় তার বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক অবস্থান নিলেও এর পক্ষে অনড় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। তাই কমিশনের এ অবস্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দেশের উচ্চশিক্ষিত বেকাররা।
দেশে শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু চাকরি প্রত্যাশীদের বৃহৎ অংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসায় এবং শিক্ষাজীবন শেষ করেও চাকরিতে প্রবেশ করতে দীর্ঘ সময় লাগায় নানা আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে থাকতে হয় তাদের। বয়সের এ পর্যায়ে এসে পরিবার থেকেও টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। এদের একটি বড় অংশই টিউশনি বা কোচিং করিয়ে কোনো মতে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এর পর প্রতি মাসেই ৫ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে একাধিক আবেদন করা তাদের জন্য প্রায়ই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় এ ধরনের ফি মওকুফের জন্য বিভিন্ন সময় ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়াম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক অবশ্য যায়যায়দিনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ার উচ্চ আবেদন ফির পক্ষে তার জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দেয়ার পাশাপাশি যুবকদের মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়েরও উদাহরণ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনের জন্য কোনো ফি না রেখেও পরীক্ষা নিতে পারলে পিএসসি কেন পারবে না এমন প্রশ্নেরও জবাবে ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, 'দেশের প্রতিটি বিভাগে প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষার আয়োজন করতে হয়। খাতা দেখার জন্য দুইজন শিক্ষককে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টাকা দিতে হয়। এসব অর্থ আসবে কোথা থেকে? আমি যদি সরকারি বাজেট থেকে এটা করি তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক-শ্রমিক বা আগারগাঁও বস্তির মসলা বাটা মহিলার দেয়া করের টাকায় যে বাজেট হয় তার উপর চাপ সৃষ্টি হবে। এ টাকাতো ব্যবসায়ী, ধনী বা কোনো কোটিপতিরা দেবে না। দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর টাকা দিয়ে এটা করা ঠিক হবে না। বরং যে বা যারা চাকরি পেতে চান তাদেরই এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।'
পড়াশোনা শেষ হয়েছে এখনো চাকরির কোনো ব্যবস্থা হয়নি, বয়সও বেড়ে গেছে এ সময়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নিতে চাকরিপ্রত্যাশীদের তীব্র বেগ পেতে হয়। চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশই টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালান। এ অবস্থায় এসব বেকারদের কাছ থেকে ৫শ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় না করে ফি ছাড়াই আবেদন করতে দেয়া যায় কিনা বা নিলেও তা একশ থেকে দেড়শর মধ্যে আনা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির এ কর্ণধার জানান, 'এখন তরুণদের একটি বড় অংশই প্রতি মাসে মোবাইল ফোনের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করে থাকে। সে তুলনায় ৭০০ টাকা আবেদন ফি বেশি নয়। এছাড়া প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে উচ্চ আবেদন ফি প্রদান করতে হয়।'
বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের আবেদনের ক্ষেত্রে ফি নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে। সেখানে পিএসসি কেন এত উচ্চ আবেদন ফি রাখবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সাদিক বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও বেতন কাঠামো আমাদের সঙ্গে এক নয়। তারা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আমার জানা নেই। তবে সেখানে আমার ব্যাচের অনেকেই আছে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।'
উল্লেখ্য, গত রোববার বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের লোক নিয়োগের আবেদন ফি ২০০ টাকা করার এক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা প্রত্যাখ্যান করে। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ফির জন্য অনেক মেধাবীয় আবেদন করতে পারে না। যা মেধাবীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।
এদিকে চাকরির আবেদন ফির পক্ষে পিএসসির চেয়ারম্যানের এমন অবস্থান দেশের উচ্চশিক্ষিত বেকারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দেশের চাকরিপ্রত্যাশীদের সবচেয়ে বড় ফেসবুক গ্রুপ 'বিসিএস: আওয়ার গোল' এ আবেদন ফির পক্ষে পিএসসি চেয়ারম্যানের অবস্থান তুলে ধরে মতমত জানতে চাইলে অসংখ্য ব্যক্তি তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তাদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান তাদের আর্থিক দুর্দশার ভয়াবহতাকে অনুভব করতে পারছেন না। আবার অনেকেই জানিয়েছে কিছু বেকার হয়তো বা ফোনে টাকা অপচয় করে থাকলেও বেশিরভাগই তা করে না। আবার অনেকে টাকা বাঁচাতে বিভিন্ন প্যাকেজের ইন্টারনেট বিনা মূল্যে ব্যবহার করে তাতে কথা বলে থাকে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে অনেকেই এ ফির পরিমাণ ১০০/২০০ এর মধ্যে আনারও দাবি করেছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে শিক্ষার্থীদের দুরবস্থাকে মানবিক বিবেচনায় নিয়েছে অনেকেই তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। পিএসসিকেও তাদের অবস্থান আরেকবার পুনর্বিবেচনা করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করেছে অনেকে।
এমনই কয়েক জনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো: সালাহউদ্দিন জসীম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, 'বেকারদের শূন্য পকেট না কেটে রাষ্ট্রের টাকা ব্যয় করাই ভালো। সাদিক স্যারের যুক্তির সাথে আমি একমত নই।'
রানা দেবনাথ লিখেছেন, 'এরকম করতে পারে: একবারই টাকা দিব এক/দেড় হাজার। পরিবর্তে পিএসসি একটা আইডি দিবে। সেই আইডির মেয়াদ পাঁচ বছর থাকবে। এটলিস্ট বয়স ত্রিশ হওয়া পর্যন্ত। এই আইডি দিয়ে পিএসসির সকল এক্সামে অংশ নেয়া যাবে। বার বার টাকা জমা দেয়ার, প্রসেসিং করার ঝামেলাও কমবে।'
আফজাল হোসেন ইমরান লিখেছেন, 'আমি মনে করি বিসিএসসহ পিএসসির অন্য পরীক্ষাগুলোতে নূ্যনতম একটা ফি রাখা উচিত। সেটা ১০০-২০০ টাকার মধ্যে রাখলে ভালো। কারণ সম্পূর্ণ ফ্রি থাকলে গরজ কম থাকে পরীক্ষার্থীদের। অনেকের প্রস্তুতি নেই অথচ ফ্রি হওয়ার কারণে আবেদন করে থাকনে। আবার ফ্রি হওয়ার কারণে অনেকে আবেদন করেও পরীক্ষা দিতে যায় না। যাতে আয়োজকদের খরচ বাড়ে। তাই একেবারে ফ্রি করা উচিত হবে না।'
আলিমুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, 'পিএসসিকে চলার জন্য সরকার একটা বাজেট দেয়, ফলে ৭০০ টাকার মত এত বড় অ্যামাউন্ট অতিরিক্ত হয়ে যায়। যে টাকা খরচ হয় সেটা পিএসসি নিতে পারে। যেমন ১০০/২০০ টাকা।'
দেব্রত ম-ল দেবুদেভ লিখেছেন, 'অর্থমন্ত্রীর কাছে ৮০০ কোটি টাকা কিছুই নয় আর পিএসসির কাছে জনগণের টাকা এত বড়? আমাদের কাছে এই মুহূর্তে ৭ টাকা অনেক দামি।'
স্বপন পাল লিখেছেন, 'সাদিক স্যারের যুক্তি অযৌতিক নয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন বেকাররা যদি রাতদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলে তাহলে তার ভ্যাট তো সরকারও নিচ্ছে। আর সব বেকার এ রকম নয়। ফলে কয়েক জনের জন্য সকলকে এক কাতারে ফেলাটা সুবিচার হবে না বলেই মনে হয়।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close