পূর্ববর্তী সংবাদ
শ্রীলংকা সিরিজের আগেও 'ভাববেন' সাকিবএমন তো নয় যে দু-একদিন খেলেই ছেড়ে দিচ্ছি। ১০-১১ বছর হয়ে গেল, একটি বিরতি তো নিতেই পারি। এটা আমার প্রাপ্যক্রীড়া প্রতিবেদক সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান _সৌজন্যবিশ্রাম মিলেছে। চাওয়ার পুরোটা না হলেও অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুটো টেস্টে সাকিব আল হাসান মাঠে নামছেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু বছরের শেষভাগে ঘরের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে পাওয়ার বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যেই। সাকিব নিজেই জানিয়ে রাখলেন, শ্রীলংকার বিপক্ষে যদি খেলেনও, খেলবেন অনেক ভাবনা-চিন্তার পর শরীর এবং মন সাই দিলে।
কিছুদিনের বিশ্রাম পাওয়ার স্বস্তি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাসায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব। সেখানেই জানালেন বিশ্রামের পেছনের কারণ, তরতাজা হয়ে ফেরার পরিকল্পনা এবং নিজের ক্রিকেটীয় ভবিষ্যতের অনেক কিছুই। যা থেকে স্পষ্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলার কথা মাথাতেই আনছেন না তিনি। যদিও বিসিবি তার ফেরার একটা পথ খোলা রেখেছিল। কিন্তু সাকিব নিজে সেটা নিয়ে না ভেবে পাওয়া অবকাশেই মনোযোগী।
বিশ্রামের কারণ সম্পর্কে সাকিব বলেন, 'সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, আমি মনে করি আমার আরও অনেকদিন খেলা বাকি আছে। আমি যদি ওটা খেলতে চাই এবং ভালোভাবে খেলতে চাই, তাহলে এই বিশ্রামটা আমার জরুরি। আমি চাইলেই খেলতে পারি। কথা হচ্ছে, আপনারা কি চান যে আমি আরও ৫-৬ বছর খেলি নাকি ১-২ বছর? নির্ভর করছে সেটার ওপর। আমি যেটা অনুভব করি, এভাবে খেলতে থাকলে ১-২ বছরের বেশি খেলতে পারব না। ওভাবে খেলা থেকে না খেলা আমার কাছে ভালো। যতদিন খেলব, ততদিন যেন ভালোভাবে খেলতে পারি। সেটিই লক্ষ্য আমার।'
বিরতি পেলে আবার তরতাজা হয়ে উঠবেন সাকিব। শারীরিকভাবে যতটা না, তার চেয়ে বেশি মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ফিরলে পরের ৫ বছর হয়তো আরও ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারবেন, সাকিবের অন্তত এমনই বিশ্বাস। এক্ষেত্রে দুটি টেস্টের বিরতি কি পুরোপুরি বিশ্রাম দেবে? এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, 'দুটি টেস্টের পরও যদি যাই, প্রায় এক মাসের একটি বিরতি হয়ে গেল কিন্তু। এরকম বিরতি আমি গত ৩-৪ বছরে পাইনি। আমার জন্য এটি অনেক বড় বিরতি আমি মনে করি। আমি বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমার ব্যাপারটি বুঝতে পেরেছেন।'
অনুমতি দিলেও বিসিবি পথ খোলা রেখেছিল দ্বিতীয় টেস্টের আগে সাকিবের প্রোটিয়া সফরের দলে যোগ দেয়ার। সেটি তো হচ্ছেই না, বিসিবির আরেকটি চাওয়াও থাকল অনিশ্চয়তার মুখেই। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘরের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সাকিবকে খুব করেই চায় বোর্ড। চাওয়া-পাওয়ার সেই সিরিজকে সাকিবও রেখে দিলেন ধোঁয়াশাই। খেলবেন না কথাটি সরাসরি না বললেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জানিয়ে দিলেন তখনও নিজের মর্জির ওপরই নির্ভর করবে তার মাঠে নামা।
সাকিব বলেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ যখন শেষ হয়ে যাবে, তারপর বিপিএল, পরে শ্রীলংকা সিরিজ। আমি ছয় মাসের জন্যই আবেদন করেছিলাম, সময়টার মাঝে আছে ওই শ্রীলংকা সিরিজও। এখন দুই টেস্টে বিশ্রাম পেয়েছি। শ্রীলংকার আগে চিন্তা করব ওই দুটো টেস্টে খেলতে পারব কি না, সেভাবেই তাদের সাথে (বিসিবি) কথা বলব। যদি তারা মনে করে আমার খেলা দরকার, আমিও ভেবে দেখব যে মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় আছি কি না, পুরোটা দিতে পারব। তাহলে আমি অবশ্যই খেলব।'
বিশ্রামটা টেস্ট সিরিজ থেকে না হয়ে কি সীমিত ওভারে নিতে পারতেন না? জবাবে সাকিব জানালেন, 'সীমিত ওভারের খেলা ১ ঘণ্টার হয় বা ৩ ঘণ্টার হয়। টেস্ট ম্যাচ ৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি আরও ১০-১৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি ম্যাচ ৩ দিনের থাকে। তো একটি টেস্ট সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় এক মাসের বিরতি। টি২০ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় ৩ দিনের বিরতি, ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যাবে ৭ দিনের বিরতি। আমার একটু বড় বিরতি দরকার। এই কারণেই টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম।'
বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়ে নাকি বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলেন সাকিব। নিজেই জানালেন, 'বেশ কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে (বিশ্রামে যাওয়ার কথা)। এটা আমি আগে আলোচনাও করেছি। এমনকি এই টেস্ট সিরিজের আগে কথা বলে রেখেছি। আমার পরিবারের সঙ্গে পরিবার বলতে স্ত্রীর সঙ্গে এবং আমার কাছের যারা আছে, সবাই জানত যে আমি এরকম চিন্তা করছি। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য উপকারী হবে।' সঙ্গে যোগ করেছেন, 'এমন তো নয় যে দু-একদিন খেলেই ছেড়ে দিচ্ছি। ১০-১১ বছর হয়ে গেল, একটি বিরতি তো নিতেই পারি। এটা আমার প্রাপ্য।'
বিশ্ব ক্রিকেটে অনেকেই টেস্ট ছেড়ে দিয়ে শুধু রঙিন পোশাকে খেলছে। বিষয়ে কোনো ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে সাকিব বলেন, 'এমন তো নয় যে আমি আর ক্রিকেটই খেলছি না! অবশ্যই খেলব। কেন খেলব না! আমার ইচ্ছে আছে, সবার পরে টেস্ট থেকে অবসর নেব। তার আগে টি২০ ও ওয়ানডে থেকে অবসর নেব। সবার শেষে টেস্ট থেকে। কিন্তু আমার মনের কথা সবসময় সবাইকে বলার দরকার আছে বলে মনে হয় না। আমার ভেতরে কি আছে, আমি জানি। এবং লোকে যেমন সচেতন, আমিও সচেতন যে কী করলে ভালো হয়, কী করা যায়। আমি ওভাবেই চেষ্টা করব।'
ছুটির সময়টুকু কিভাবে কাটাবেন জানতে চাইলে সাকিব বলেন, 'জানি না। পরিবারের সঙ্গে সময় দেয়া, ঘুরতে যাওয়া..। পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া। মাঝেমধ্যে ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকা খুবই জরুরি। চেষ্টা থাকবে যত বেশি বাইরে থাকতে পারি। যেহেতু ওয়ানডে ও টি২০ আছে, সেটির প্রস্তুতিও শুরু করব। কিন্তু কয়েক দিন পর।'
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close