ওয়েলকাম শাবনূরএক সময়ের 'বিউটিকুইন'খ্যাত নায়িকা শাবনূর অনেক দিন ধরে বড় পর্দা থেকে দূরে থেকে বেশ মুটিয়ে গেছেন। তাই নিজেকে ফিট করতে নিয়মিত ব্যায়াম করছেন। দৈনিক খাবারেও এনেছেন পরিবর্তন। পর্দায় আসার আগে নিয়মিত ডায়েটিং করছেন তিনি। ওজন কমিয়ে অচিরেই শুটিংয়ে ফেরার আভাস দিলেন শাবনূর। আরও আগেই ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু শুটিংয়ের জন্য নিজেকে এর মধ্যে প্রস্তুত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। সেভাবেই পরিচালকের সঙ্গে বসে শিডিউল সাজিয়েছেন।শখ সামিরাহ শাবনূরচার বছর পর রম্নপালি পর্দায় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। তার অভিনীত 'পাগল মানুষ' ছবিটি আগামীকাল দেশজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাহের খান।
২০১২ সালের শেষের দিকে 'পাগল মানুষ' চলচ্চিত্রে কাজ শুরম্ন করলেও শুটিংস্পটে পরিচালক এমএম সরকার মারা গেলে অসমাপ্ত ছবিটি শেষ করেন পরিচালক বদিউল আলম খোকন।
এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, 'ছবির ৯০ ভাগ কাজ পরিচালক এমএম সরকার সমাপ্ত করে গেছেন। ছবির তিনটি গান ও এডিটিং বাকি ছিল। সেগুলোই বদিউল আলম খোকন সমাপ্ত করেছেন। নানা জটিলতায় অবশেষে ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে এতেই আমি খুশি। আমার দর্শকদের ছবিটি হলে গিয়ে দেখার আহ্বান করছি। ছবিটি সবার ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।'
নতুন করে তিনটি গানে শুটিংয়ে শারীরিক অবয়বের কোনো পরির্বতন করতে হয়েছে কি- এমন প্রশ্নের জবাবে শাবনূর বলেন, 'পাগল মানুষ'-এর শুটিং শুরম্ন করার সময় আমার ফিটনেস যেমন ছিল এরপর লম্বা বিরতির পর এ ছবির গানের শুটিংয়ের সময়েও আমি তেমনই ছিলাম। তাই শারীরিক অবয়ব পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন হয়নি।'
শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। মাঝখানে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করলেও কয়েকবার ঘোষণা দেয়ার পরও সিনেমার শুটিংয়ে তাকে দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে শাবনূর অভিনীত মোস্ত্মাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত 'কিছু আশা কিছু ভালোবাসা' ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। মোস্ত্মাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত 'এতো প্রেম এতো মায়া' সিনেমায় কাজ করার কথা রয়েছে শাবনূরের। মূলত তার পর্বের শুটিংয়ের জন্যই আটকে আছে ছবিটির বাকি অংশের কাজ। এ ছাড়া ২০১৬ সালে দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এগুলো হচ্ছে- মোস্ত্মাফিজুর রহমান মানিকের 'কতদিন দেখিনি তোমায়' ও পিএ কাজলের 'মন যারে চায়'। মন যারে চায় চলচ্চিত্রে তাকে একজন নারী নেত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে।
বর্তমান চলচ্চিত্রের হালচাল নিয়ে শাবনূর বলেন, 'চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সবাই মিলে একজোটে কাজ করে সিনেমার সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে।'
সম্প্রতি চলচ্চিত্রের পেস্নব্যাক করেছেন এই জনপ্রিয় নায়িকা। 'এতো প্রেম এতো মায়া' ছবির শিরোনাম সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গানটির সুর করেছেন প্রীতম।
অভিনয়ের পাশাপাশি শাবনূর এখন ছবি প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন। মনের মতো চিত্রনাট্য পেলে অচিরেই প্রযোজক হিসেবে নাম লেখাবেন তিনি।
এক সময়ের 'বিউটিকুইন'খ্যাত এই নায়িকা অনেক দিন ধরে বড় পর্দা থেকে দূরে থেকে বেশ মুটিয়ে গেছেন। তাই নিজেকে ফিট করতে নিয়মিত ব্যায়াম করছেন। দৈনিক খাবারেও এনেছেন পরিবর্তন। পর্দায় আসার আগে নিয়মিত ডায়েটিং করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, 'এরইমধ্যে খানিকটা ওজন কমেছে। আরও ওজন কমানোর চেষ্টায় আছি। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করেছি। নিয়ম মেনে সকালে সবজি, কোনো দিন সু্যপ, দুপুরে এক টুকরো মাছ বা মুরগি, সঙ্গে ফলমূল-এই তো আমার খাবারের তালিকা। আপাতত ভাত-রম্নটি খাচ্ছি না।'
অচিরেই শুটিংয়ে ফেরার আভাস দিলেন শাবনূর। আরও আগেই ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু শুটিংয়ের জন্য নিজেকে এর মধ্যে প্রস্তুত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। সেভাবেই পরিচালকের সঙ্গে বসে শিডিউল সাজিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শাবনূরের ভাষ্য, 'আরও আগেই কাজ শুরম্ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করে আমি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত্ম হই। এতে প্রায় এক মাস ভুগেছি তাই আর শুটিংয়ে ফেরা হয়নি। তবে আশা করি অচিরেই সবাইকে জানিয়ে শুটিং শুরম্ন করব।'
শাবনূরের পারিবারিক নাম 'কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর'। যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শাবনূরের বাবার নাম শাহজাহান চৌধুরী। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনি। স্বনামধন্য নির্মাতা এবং তার মেনটর এহতেশাম তার নাম রাখেন শাবনূর। শাবনূর শব্দের অর্থ রাতের আলো। এরপর শাবনূর নামেই পরিচিতি লাভ করেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ৯০ দশক থেকে এ পর্যন্ত্ম আসা চিত্র তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্র তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। মূলত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার এহতেশাম পরিচালিত চাঁদনী রাতে সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন শাবনূরের। প্রথম ছবি ব্যর্থ হলেও পরে সালমান শাহের সঙ্গে জুটি গড়ে একেবারেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসেন তিনি। একে একে এ জুটি সুপারহিট ছবি দিতে থাকেন। সালমানের অকাল মৃতু্যতে সাময়িকভাবে শাবনূরের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়লেও তার অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতা তাকে দর্শকদের হৃদয়ে শক্ত আসন গড়তে সাহায্য করে। পরে রিয়াজ, মান্না, শাকিল খান, ফেরদৌস ও শাকিব খানের সঙ্গে জনপ্রিয় জুটি গড়ে অসংখ্য ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় ছবি উপহার দেন। ২০০৫ সালে মোস্ত্মাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত 'দুই নয়নের আলো' ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে ছিপছিপে গঠন ও সুশ্রী চেহারার এই অসম্ভব সুন্দরী নায়িকা মুটিয়ে গেলে সমালোচিত হন।
সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার প্রায় সবই ছিল ব্যবসায়িক মানদ-ে সফল। সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম ছায়াছবি জহিরম্নল হক পরিচালিত 'তুমি আমার' মুক্তি পায়। একই বছর শাহ আলম কিরণ তাদের নিয়ে চিত্রনায়ক ফারম্নক-কবরী জুটির 'সুজন সখী' চলচ্চিত্রের পূর্ণ রঙ্গীন, 'রঙিন সুজন সখি' নির্মাণ করেন। এরপর সালমানের সঙ্গে জুটি হয়ে 'স্বপ্নের ঠিকানা', 'স্বপ্নের পৃথিবী', 'তোমাকে চাই' ও শিবলি সাদিক পরিচালিত 'আনন্দ অশ্রম্ন এ চলচ্চিত্র তৈরি হয়। পরে সালমান শাহর মৃতু্যর পর তিনি চিত্রনায়ক রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করে দারম্নণ সফলতা অর্জন করেন। এর পরে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের সঙ্গেও সফল হন। এ ছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করে শেষ পর্যন্ত্ম তিনি নিজের সাফল্য ধরে রাখেন তিনি। এ ছাড়া সর্বশেষ শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে 'স্বপ্নের বিদেশ' চলচ্চিত্রটি শুটিং শুরম্ন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত্ম আর আলোর মুখ দেখেনি
২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী ও চিত্রনায়ক অনিক মাহমুদকে বিয়ের পর সিনেমায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় বাস করছিলেন। শাবনূর-অনিক দম্পতির একমাত্র পুত্র আইজান নিহান। ছেলে এখন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চাইল্ড কেয়ারে পড়ছে। পুত্রকে নিয়ে আপাতত চিন্ত্মা নেই তার। তাই এবার নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগী হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close