গ ণ বি শ্ব বি দ্যা ল য়প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাসবিধান মুখার্জি ও রনি খাঁ প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাসে আমরা কয়েকজনলাল-সবুজ! না জানি কি অপরূপ মাধুরীতে গড়ে তোলা বন্ধন, যে বন্ধনে প্রতীয়মান হয় একটি দেশ, একটি জাতি কিংবা মা-মাটির আত্মত্যাগের মহিমা। যে আত্মত্যাগের মহিমায় একটি দেশ পেয়েছে স্বাধীনভাবে চলার, মতামত প্রকাশ করার, স্বাধীনভাবে আত্মপ্রকাশ করার অধিকার, যা বাঙালি জাতিকে পরিচিত করেছে বিশ্ব-মানবতার দরবারে, দিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট মানচিত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রধান বিষয় বিজয়ের মাস। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বরে বিজয়ের ভাবনা। ক্লাস শেষে বিজয় দিবসের আলোচনায় মেতে উঠতে দেখা গেলো সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরম্নণকে। তাদের একেকজনের কণ্ঠে বিজয়ের চেতনা, ভালোবাসা, ভালোলাগা, শ্রদ্ধা একেকরকম।
আইন বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কৌশিক জানান, ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর এই ৯ মাস বাঙালি জাতির জন্য চরম দুর্দশার ছিল, শত জননী হারিয়েছেন তাদের সন্ত্মান, বোন হারিয়েছে ভাইয়ের স্নেহ, সন্ত্মান ভুলে গিয়েছিল বাবা বলার আনন্দ, বিধবা রমণী করেছে স্বামী হারিয়ে আর্তনাত, বাঙালি মা-বোন হারিয়েছিল তাদের সম্মান। যদিও সহজ ছিল না এই ৯ মাসের পথ চলা, তবুও বাঙালি জাতি মাথা নত করেনি, হেরে যায়নি পাকিস্ত্মানি হানাদার বাহিনীর শক্তির সামনে।
তার কথার সুর ধরে একই ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসরিন লতা বলেন, বিজয়ের এই ৪৭ বছরেও বাঙালি জাতি তার বীর সন্ত্মান, যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য নিজের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন তাদের নিকট পরিপূর্ণভাবে দায়হীন হতে পারেনি। যদিও এ পর্যন্ত্ম ছ'জন যুদ্ধাপরাধীর মৃতু্যদ- কার্যকর হয়েছে। তবুও বাঙালির বিজয়ের ইতিহাস এমন এক ইতিহাস, যা জাতিবর্ণ, ধনী গরিবের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে একত্রে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। আর নিশুর ভাষায়, বিজয়ের চেতনা আমাদের সংগ্রামী করে তোলে। আর এই চেতনা লালন করে প্রতিটি বাঙালি তাদের অন্ত্মরে।'
এদের সঙ্গে আরও যোগ দিলেন আয়েশা আক্তার, সুলতান চৌধুরী, সূচনা জামান জেসিকা, নাসির উদ্দিন, এমিসহ আরও অনেকেই। প্রসঙ্গক্রমে কথা হয় বিজয়ের ৪৭ বছরে আমাদের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি নিয়ে।
দেশ স্বাধীন হয়েছে আমরা এখন মেতে উঠি বিজয়ের উলস্নাসে, এই স্বাধীন দেশে আমরা নিজেদের আজো স্বাধীন দাবী করতে পারিনা বলছিলেন নাসির উদ্দিন। আমার মনে হয় স্বাধীনতা মানে খুব ভোরে সুন্দর একটা ফুলের ঝুরি নিয়ে ফুল কুড়ানো কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে খুব ভোরে ফুল কুড়াতে যাওয়াও আমাদের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয় বললেন এমি। আয়েশা সিদ্দিকার ভাষায়, আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছি বিভিন্ন ভাবে। আজ যারা খুনি, ধর্ষক তারাও আমার তোমার আপনার মতো কারও ভাই, বাবা, চাচা, মামা।
সূচনা জামান জেসিকার ভাষায়, আমরা তরম্নণরাই পারি একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে থাকবেনা কোন প্রকার সহিংসতা মারামারি, খুনখারাবি, রাহাজানি থাকবে স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের প্রত্যয়। আর এটি করতে পারার মূলমন্ত্র দেশকে ভালোবাসা। দেশের মানুষকে ভালোবাসা। তবে বিজয়ের এই ৪৭ বছরে সকলের একটাই প্রত্যাশা আমাদের সোনার বাংলাদেশ যেন বিজয়ের লাল-সবুজ চেতনা বুকে লালন করে এগিয়ে যাক, আরও বহু দূরে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close