নববর্ষের প্রত্যাশাবর্তমান সরকারই পারবে এ দেশকে উন্নত করতে। এই দেশ প্রথমে একটি মধ্য আয়ের দেশে এবং পরে উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশ ও জাতির মঙ্গলে জনগণের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বাংলা নববর্ষে এই হোক আমাদের প্রত্যাশাতারাপদ আচার্য্য অনেক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে আবারও আমাদের মাঝে এলো আরও একটি নতুন বছর। আজ নতুন সূর্যের উদয় ঘটবে তা হবে ১৪২৪ সালের প্রথম দিনের নতুন সূর্য। এই সূর্য উঠবে নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে। আমাদের চোখেমুখে আনন্দ খেলা করবে। উৎসবের আনন্দই আলাদা। যারা উৎসবে যোগদান করেনি তারা এর মাহাত্ম্য বুঝতে পারবে না। উৎসবের আনন্দ মানেই বাঙালির আনন্দ। কারণ উৎসবপ্রিয় জাতি হিসেবে বাঙালির খ্যাতি ও ঐতিহ্য আছে বিশ্বসমাজে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উৎসবগুলো বাঙালি ঘটা করেই পালন করে থাকে। উৎসব পালনের ক্ষেত্রে বাঙালি খুবই আন্তরিক এবং অকৃপণ। এ উৎসবপ্রিয়তা বাঙালির ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবন সমৃদ্ধ করেছে। উৎসব পালনের উৎসাহে এতটুকু ভাটার টান পরিলক্ষিত হয় না কখনো। উৎসব পালন রীতিমতো আজ এক লৌকিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেকোনো উৎসব পার্বণে রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে। মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। কী আনন্দ আকাশে বাতাসে। বাংলা নববর্ষ এর উজ্জ্বল অংশ।
বাংলা নববর্ষ এখন আমাদের সংস্কৃতির প্রধান দিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অনুষ্ঠানের মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যিক উপাদানকে উদ্ভাবনাময় এবং সমাজ ও রাজনীতি ক্ষেত্রের অপশক্তিকে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় সদাসতর্ক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অসাধারণ। বাংলাদেশে বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ এই মঙ্গল শোভাযাত্রা জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, তখন তা অত্যন্ত সুখকর এবং ইতিবাচক। বলাই বাহুল্য, তালিকায় স্থান করে নেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চার দশকের এই ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল। নববর্ষ কেন্দ্র করে সারাদেশে যে মেলা বসে তা বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতিরই একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ। যার মধ্যে জড়িয়ে আছে মানবজীবন প্রবাহ।
সারাদেশে বাংলা নববর্ষ নিয়ে নানা বর্ণালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আর একটি বছরের সমাপ্তি তো অনেকাংশেই একটি ইতিহাসের সমাপ্তি। নববর্ষের নতুন প্রভাত। নতুন বছর মানে নতুনের আবাহন। নতুন করে স্বপ্ন দেখা। জীর্ণ ও পুরাতনকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরের শুভাগমনে দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ১৭ পৃষ্ঠার পর
কামনা করা। সব রকম গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে থেকে দেশের সবার সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মেলবন্ধন এ প্রত্যাশা করা। গড়ে উঠুক সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গিমুক্ত সমাজ এটাও চাওয়া। দেশের সর্বত্র শান্তি বিরাজ করুক। নতুন বছরে এসবই আমরা একান্তভাবে কামনা করছি। কারণ দেশের শান্তি মানেই আমাদের শান্তি।
প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে আসে নতুন বার্তা নিয়ে। এই বিশেষ দিনকেই আমরা বরণ করে নিই মনের মাধুরী দিয়ে। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে বাঙালি হৃদয়ে আবর্তিত হয় পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরে নতুন দিন আসে, আমরা জাগ্রত হই। নতুন জীবনের জয়গান গেয়ে অন্তত ওই দিন উজ্জীবিত হই। উল্লাসেও ফেটে পড়ি। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছরে নতুনভাবে চলতে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার এর মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। এসবই বিগত বছরের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে নতুনভাবে, স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পথচলার অঙ্গীকার। প্রাসঙ্গিক কারণেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি আমাদের ব্যক্তিচরিত্র ঠিক করতে পারছি? আর ব্যক্তিচরিত্র ঠিক না হলে জাতীয় চরিত্র কীভাবে ঠিক হবে।
নতুন বছরে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, দেশ ও জাতির সুনাম আন্তর্জাতিক পরিম-লে আরও বিস্তার লাভ করুক এ প্রত্যাশা আমাদের। আমরা চাই বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা, আবেগ ও অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।
যতই দিন যাচ্ছে উৎসবপ্রিয়তা বাঙালিদের মধ্যে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌভ্রাতৃত্ব ও গভীর মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। ব্যক্তিক ও সামাজিক যোগাযোগ বেড়েছে। মানুষ নিজেকে চেনা-জানার সুযোগ পেয়েছে। নিজস্ব কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারছে। আর এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, সত্তরের দশকে পুরোপুরিই সাহায্যনির্ভর থাকা দেশটি নব্বইয়ের দশকে ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে শুরু করে। সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ বাণিজ্যনির্ভর বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করে। আর বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক সাহায্য জিডিপির ২ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে রপ্তানি আয় অনেক বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশের এবং রেমিট্যান্স ১০ শতাংশের বেশি। সাহায্যনির্ভর থেকে বাণিজ্যনির্ভর হওয়াটাও স্বাধীন বাংলাদেশের গত ৪৬ বছরের অন্যতম অর্জন। আমরা আরও আশাবাদী এ কারণে যে, আজ থেকে ৪৬ বছর আগে রিক্ত হস্তে যাত্রা শুরু করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি, অভাব-অনটনে জর্জরিত সাড়ে ৭ কোটি মানুষের এ দেশে সে সময়ে ছিল না সচল কোনো শিল্প-কারখানা। রাজকোষ ছিল একেবারেই শূন্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ছিল একেবারে শূন্যের ঘরে। অথচ রিজার্ভ এখন সবচেয়ে বেশি। সে শূন্য থেকে মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, সংগ্রাম আর নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তিল তিল করে গড়ে ওঠা অর্থনীতিই এখন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি ও প্রেরণা। যে শক্তির প্রশংসা বিদেশি অনেকেই করছেন। বাংলাদেশকে বলা হচ্ছে এশিয়ার বাঘ। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।
বর্তমান সরকারই পারবে এ দেশকে উন্নত করতে। এই দেশ প্রথমে একটি মধ্য আয়ের দেশে এবং পরে উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশ ও জাতির মঙ্গলে জনগণের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বাংলা নববর্ষে এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin