নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপ চায় বিএনপিযাযাদি রিপোর্ট সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, পাশে আবদুল মঈন খান -যাযাদিজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে আলোচনা করতে সংলাপ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা এখনও হাজির না করার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের এই প্রতিক্রিয়ায় দৃশ্যত দলটির নরম সুর ফুটে উঠল।
শুক্রবার ভাষণের পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এতে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হলো।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পরও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই সরকারের রূপরেখা দেবেন বলে জানালেও এখনও তা আসেনি।
এদিকে বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসার পর সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও 'নির্বাচনকালীন সরকার' গঠনের প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে তাতে সব দলের অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের বছরের শুরম্নতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যদি আন্ত্মরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে তার উচিত হবে এ নিয়ে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেয়া।
আমাদের দল মনে করে, একটি আন্ত্মরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল যাবত সব বিরোধী দল ও সুশীল সমাজসহ সব দলের অংশ গ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সরকার গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা। এবার কেমন হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তাছাড়া বিএনপি এখন সংসদে নেই।
দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা অংশ নেয়নি। শেখ হাসিনা বলে আসছেন, অংশ নিলে বিএনপিকে স্বরাক্র মন্ত্রণালয় দেয়া হতো।
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিএনপির রূপরেখা 'যথাসময়ে' উপস্থাপন করা হবে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান ফখরম্নল।
তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নাই। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে বাস্ত্মবতাকে মেনে নিয়ে জনগণের শান্ত্মি ও স্বস্ত্মির জন্য সকল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করম্নন।
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে 'দায়িত্বশীলতার পরিচয়' দিতে আহ্বান জানান ফখরম্নল। বিএনপি সংলাপের কথা বারবার বলে এলেও শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এক্ষেত্রে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আলোচনায় বসতে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেও সাড়া না পাওয়াকে কারণ দেখাচ্ছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরম্নল বলেন, দেশবাসী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিদ্যমান সঙ্কট উত্তরণে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা পায়নি।
আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ ও বিভ্রান্ত্মিকর। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ, বিস্ময়-বিমূঢ় ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গতকাল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফখরম্নল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে ফিরিস্ত্মি দিয়েছেন, তাতেও ভিন্নমত জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, পাকিস্ত্মানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান তার শাসনামলের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উন্নয়ন দশক পালন করেছিলেন। গণতন্ত্রহীন তথাকথিত উন্নয়ন জনগণ গ্রহণ করেনি। পরিণতিতে তার মতো লৌহমানবকে গণঅভু্যত্থানের মুখে বিদায় নিতে হয়েছে।
বর্তমান সরকারও উন্নয়ন মেলা করছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস পাকিস্ত্মানি আমলের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে ধরনের চমকের আশ্রয় নিয়েছিল, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তার শাসনামলে উন্নয়নের এক চোখ ধাঁধানো বয়ান পেশ করেছেন। যার সঙ্গে বাস্ত্মবতার কোনো মিল নেই, বলেন বিএনপি মহাসচিব।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরম্নল ইসলাম খান ও আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close