পরীক্ষায় ক্ষতিপূরণ দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের 'না'এস এম মামুন হোসেন আসন জটিলতায় পরীক্ষা দিতে না পারা ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর বড় অংশই রাজধানী ঢাকার বাইরে থেকে আগত। যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার জন্য এরই মধ্যে তাদের বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে আগামী ২০ জানুয়ারি তাদের আবারও ঢাকায় আসতে হবে। এ অবস্থায় পরীক্ষার্থীরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে যাতায়াত খরচ দাবি করছেন। তবে শিক্ষার্থীদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ।
চাকরি প্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পিএসসির মতো ব্যাংকগুলোর পরীক্ষাও দেশের বিভাগীয় শহরে নেয়া হোক। যাতে তাদের যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার ভোগান্ত্মি লাঘব হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, পিএসসির মতো তারা আবেদনের ক্ষেত্রে কোন ফি নেয় না। ফলে তাদের পক্ষে সারাদেশে পরীক্ষা নেয়া কষ্টসাধ্য। কিন্তু এবার কর্তৃপক্ষের ভুল আসন বিন্যাসের কারণে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ৫ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, 'সামান্য অব্যবস্থাপনার কারণে এত পরীক্ষার্থীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এজন্য আমরা আন্ত্মরিকভাবে দুঃখিত। মিরপুর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রে চার হাজার এবং মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার ৬০০ চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষা দিতে পারেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির জরম্নরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত্ম হয়েছে ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা একই কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত্ম অন্য কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।'
তিনি আরও বলেন, '২০ তারিখ আমি নিজে উপস্থিত থেকে সব দিক তদারকি করব। এ দিনে কোনো সমস্যা হবে না।'
কিন্তু ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ঢাকায় আসতে হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে আবার ঢাকায় এসে পরীক্ষা দেয়া কষ্টসাধ্য। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত মানবিক বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে টিএ-ডিএ দেয়ার ব্যবস্থা করা।
দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা থেকে পরীক্ষা দিতে আসা রাহুল দাস যায়যায়দিনকে বলেন, 'তার যাতায়াতে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া থাকা-খাওয়ার বিষয়তো রয়েছেই। এক সপ্তাহ তিনি কোথায় থাকবেন? তাকে বাড়িতে চলে যেতে হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আবার আসতে হবে। নিয়ম অনুসারে একবার এসেছেন। এর খরচও বহন করেছেন। কিন্তু এবারতো কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে তাদের আবার আসতে হবে। তারা যারা পড়াশোনা শেষ করে বেকার হয়ে বসে আছেন তাদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত কিছু করা।'
কক্সবাজার থেকে পরীক্ষা দিতে আসা আফসানা বলেন, খুবই খারাপ লাগছে। আব্বু তাকে নিয়ে একদিন আগে এসেছেন। এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। এক সপ্তাহ ধরে এখানে বসে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দুজনের একবার ঢাকায় আসতে ও যেতে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। এটি যেহেতু কর্তৃপক্ষের ভুল তাই পরীক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোঝা উচিত।
এ বিষয়ে ব্যাংকার্স সিলেকশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা শিক্ষার্থীদের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি বাংলাদেশ ব্যাংক পরীক্ষার ফি বাবদ কোনো টাকা নেয় না। ফলে পরীক্ষার্থীদের টিএ বা ডিএ দেয়ার সুযোগ নেই। শুক্রবার দুটি কেন্দ্রে যা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও নতুন করে পরীক্ষা নিতে হবে। যাতে ব্যাংকেরও ক্ষতি হবে। এখানে কেউ কোনো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও ক্যাশ অফিসার পদে নিয়োগের এই সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি তাদের বিষয় নয়। তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যদি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে হয় তবে তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেবে।
এর আগে এক রিট আবেদনে এ পরীক্ষা হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের আদেশে সবগুলো ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার পথ তৈরি হয়। আগের ঘোষণা অনুযায়ীই শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত্ম পরীক্ষা চলে। যাতে প্রায় আড়াই লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close