একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনমান্নান ভূঁইয়ার আসনে নজর বড় দুই দলেরনরসিংদী-৩ (শিবপুর)এস.এম আরিফুল হাসান শিবপুর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মাঠে নেমেছেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসব প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকার হাটবাজার ও গ্রামগুলোতে গণসংযোগ, কর্মিসভা এবং সামজিক কর্মকা-ে অংশ নিয়ে ব্যস্ত্ম সময় পার করছেন। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড এবং তোরণ শোভা পাচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক, হাটবাজার, গুরম্নত্বপূর্ণ স্থান ও রাস্ত্মার মোড়ের দেয়ালে দেয়ালে। প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচার-প্রচারণার বাইরেও রয়েছে সৌজন্য প্রচারণা। নিজ নিজ এলাকায় নেতাদের অনুসারিরা তাদের প্রিয় নেতার মনোনয়নপ্রত্যাশায় টানিয়েছেন পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড। প্রধান দুই দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীই চাইছেন আসনটি পুনরম্নদ্ধার করতে।
একটি পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন। এই আসনের মোট জনসংখ্যা তিন লাখ ১৫ হাজার ৬৬৭ জন
(২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী)। মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ১৩১ জন (২০১৪ সালের হাল নাগাদ অনুযায়ী)। এর মধ্যে পুরম্নষ ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ৪২৯ জন, মহিলা ভোটার এক লাখ দুই হাজার ৫৭ জন।
বিএনপির সাবেক মহাসচিব এলজিআরডিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার এলাকা হওয়ায় আসনটির রাজনৈতিক গুরম্নত্ব অনেক। তিনি এখান থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৫ জুন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে সংস্কার প্রস্ত্মাব দেয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে বিএনপির মহাসচিব ও সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেন খালেদা জিয়া। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হাঁস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সহযোগী নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরম্নল হক মোহন আসনটি দখলে নেন। হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছিল আলোচনার ঝড়।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করেন জহিরম্নল হক ভূঁইয়া মোহন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও অপর আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোলস্না হাঁস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহনকে পরাজিত করলে নতুনভাবে আলোচনার ঝড় উঠে রাজনৈতিক মহলে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোলস্নাকে সম্প্রতি দলে ফিরিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হয়ে এবারও মাঠে রয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি সিরাজুল ইসলাম মোলস্না। একই দল থেকে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জহিরম্নল হক ভূঁইয়া মোহন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান ভূঞা, শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারম্ননুর রশিদ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রনেতা সামসুল আলম ভূইয়া রাখিল, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ-বিষয়ক সম্পাদক ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আ.ফ.ম মাহবুবুল হাসান মাহবুব।
এমপি সিরাজুল ইসলাম মোলস্না বলেন, তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে যেমন মানুষের পাশে ছিলেন, তেমনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্ত্মাঘাটের উন্নয়নে অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে শিবপুর পৌর ভবন, উপজেলা মডেল মসজিদ এবং পৌর পানি শোধনাগার নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগত প্রায় দুই কোটি টাকায় জায়গা কিনে দিয়েছেন। এ ছাড়া নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ রিকশা, সেলাই মেশিন দিয়ে হাজারো নারী-পুরম্নষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সিরাজুল ইসলাম মোলস্না সমাজসেবা ফাউন্ডেশন। তার উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্যই দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্ত্মরের মানুষ আগামী নির্বাচনে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। আর জনগণের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। আশা করেন, দল এসব দিক বিবেচনা করে তাকে মনোনয়ন দেবে এবং আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন।
অপরদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারম্নণ্যের অহঙ্কার সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল। তিনি ১৯৮০ সালে শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান, ১৯৮১ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদক, ১৯৮৫ সালে শিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৭ সালে শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন, ১৯৯১ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০২ সালে শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৪ সালে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, ২০১৫ সালে শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল বলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রজীবন থেকে এখনো জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে আসছেন। শিবপুরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দল যাকেই মনোনয়ন দেয়, তাকেই বিজয়ী করে আনতে প্রস্তুত।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউলস্নাহ মিয়া ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের অধ্যক্ষ এ কে আহসান মাহাবুব, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বাছেদ, নরসিংদী জেলা জাপার সহ-সভাপতি আলমগীর কবির, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. আলতাফ হোসেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ১/১১ পর দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন। দলের দুঃসময়ে প্রার্থী হয়ে বিএনপির মুখ রক্ষা করেছিলেন বলেই মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তখন মান্নান ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দলে ভাঙন দেখা দেয়। তিনি তখন ঘরে বসে না থেকে শিবপুর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ শুরম্ন করেন। দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিবপুর বিএনপিকে শক্তিশালী করতে মান্নান ভূূইয়ার অনুসারিদের দলে ফেরাতে পেরেছেন। বর্তমানে শিবপুর বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শিবপুরে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী। ফলে নেতাকর্মীরা তাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close