পূর্ববর্তী সংবাদ
ভোটের হাওয়া যশোর ১চ্যালেঞ্জে আফিল উদ্দিন তৃপ্তি আবার আলোচনায়জিএম আশরাফ বেনাপোল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মাঠ গরম করতে শুরম্ন করেছেন শার্শার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন দলের নেতারা। তারা ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন। দর্শনীয় স্থানে দলীয়প্রধানের এবং স্থানীয় নেতাদের ছবি-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন পোস্টার এবং তোরণ নির্মাণ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত্মের এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি মনে করেন, শার্শার শতভাগ উন্নয়নের দাবিদার তিনি। তিনিই এই আসন থেকে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন। অপরদিকে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনও এই আসন থেকে মনোনয়নের জন্য জোর লবিং করছেন বলে জানা গেছে। তিনি মনে করেন, শার্শা বেনাপোলের মাটিতে তার জন্ম এবং তিনিই স্বাধীনতার ৪৫ বছরের মধ্যে মাত্র ছয় বছরে যে উন্নয়ন করেছেন, তা কোনো নেতা করতে পারে নাই। এলাকার একটি অংশ মনে করেন, শার্শায় উন্নয়নের জন্য আশরাফুল আলম লিটনকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হবেন এবং বেনাপোলের মতো শার্শার উন্নয়ন করতে পারবেন।
অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এতদিন কারও নাম শোনা না গেলেও সম্প্রতি মফিকুল হাসান তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ায় তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে শার্শার ত্যাগী বিএনপি নেতারা মনে করেন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি বিগত ১০ বছর মাঠে-ময়দানে নেই। এলাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো কাজে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি অতিথি পাখির মতো এসে জুড়ে বসলে তারাও বসে থাকবেন না। অপরদিকে একটি অংশ মনে করেন, মফিকুল হাসান তৃপ্তিই শার্শার একমাত্র নেতা, যিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। তবে মাঠে-ময়দানে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতা শার্শা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হাসান জহির এই আসন থেকে মনোনয়নের জন্য লবিং করছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হাসান জহির বলেন, তিনি দলের জন্য বারবার জেল খেটেছেন। ২০০৯ সালের পর থেকে বিএনপির নেতারা মাঠ ছেড়ে দিলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। তিনি দলের জন্য সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাঠে রয়েছেন। কাজেই দল যদি ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে, তবে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাবেন।
জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশি আবদুস সবুরের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তার এলাকায় রাজনীতিতে পরিচিতি নেই। তবে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনের জন্য আবদুস সবুর এলাকায় বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ফেস্টুন-ব্যানার দিয়ে নির্বাচনের জন্য আগাম জানান দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর তেমন কারও নাম এখনো শোনা যাচ্ছে না।
সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল মিটিয়ে একক প্রার্থী হিসেবে যিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন, তিনি নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। যদি কোনো কারণে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী থাকেন, তা হলে বিএনপির প্রার্থীর জয়লাভ সহজ হবে।
আবার অনেক রাজনৈতিক বিশেস্নষক মনে করেন, বিএনপি যদি মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেয়, তার কাছে অন্য কোনো দলের প্রার্থীর জয়লাভ করা কঠিন হবে।
সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, আওয়ামী লীগের তরম্নণ নেতা আশরাফুল আলম লিটন যদি মনোনয়ন পান, তাহলে তিনিও ভালো করবেন। তরম্নণ এই নেতা বেনাপোল পৌরসভার মেয়র হওয়ার পর থেকে বেনাপোলের উন্নয়ন করে মাত্র ছয় বছরে বেনাপোল পৌরসভাকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নয়নের খেতাব পেয়েছেন।
অন্যদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের বিরম্নদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এই এলাকায় সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ৪২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এ নিয়ে চলছে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন। যদি দল তাকে ফের মনোনয়ন দেয়, তবে তার বিজয়ের জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close