পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়এক দশক পূর্তিফারম্নক হোসেন চৌধুরী বিজ্ঞান, প্রকৌশল আর প্রযুক্তি শিক্ষার গুরম্নত্ব সারাবিশ্বে সমাদৃত ও অনস্বীকার্য। একটি দেশকে উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে তাকে আধুনিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হয়। আর দক্ষ জনশক্তি গড়ার অন্যতম মাধ্যম হলো বিজ্ঞান শিক্ষা। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন তার অন্যতম হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা বলতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুরদর্শী চিন্ত্মা, আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা, বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বিশ্বের পর্যায়ে সমতা অর্জনের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বাস্ত্মবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপের ফসল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ৫ জুন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্তি হয়। দেখতে দেখতে দশটি বছর পেরিয়ে ১১ বছরে পদার্পন করছে এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়। পাবনার মতো অবহেলিত একটি জেলার শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক তথা সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অতীব জরম্নরি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। গত দশ বছরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় পাবনা তথা সারাদেশে আলো ছড়াতে শুরম্ন করেছে। জ্ঞান অর্জনের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞানমুখী শিক্ষার প্রসার, সারাদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরম্নত্ব প্রদানসহ পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০৯ সালের ৫ জুন শিক্ষা কার্যক্রম শুরম্ন হয়। তারপর থেকেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি মেরম্নদ- সোজা করে দাঁড়িয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের উপযুক্ত কর্মী তৈরি হচ্ছে এখানে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নের দক্ষ কর্মী তৈরি করছে।
শুরম্ন থেকেই এখানে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পাঠদান কার্যক্রম সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। আট সেমিস্টারের সময়সীমায় প্রতি বছর দুটি সেমিস্টার। মাত্র চারবছরেই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছে। ইতিমধ্যে চারটি ব্যাচ শিক্ষাজীবন শেষ করেছে। নেই কোনো সেশনজট।
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার ঊর্বর ক্ষেত্র। রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল। লাইব্রেরিতে ই-বুক ও ই-জার্নাল এর সুবিধা ছাড়াও যুগোপযোগী ২৫ হাজার বই আছে। কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার সর্বশেষ প্রযুক্তি সরঞ্জাম সমৃদ্ধ। বর্তমান যুগ অনলাইন সংবাদপত্রের যুগ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের রয়েছে 'ঢ়ঁংঃ হবং্থি পোর্টাল। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি নব উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নে অনন্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবক ছাড়াও পাঠকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংবাদ জানতে পারছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাধীনতা চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত্ম স্থাপন করেছে। রয়েছে জার্নালসহ বিভিন্ন প্রকাশনা।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম রোস্ত্মম আলী ও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারম্নল ইসলামের তত্ত্ব্বাবধায়নে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
হমাত্র দশ বছরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' হিসেবে গড়ে উঠেছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ১৫০ জন শিক্ষক আপ্রাণচেষ্টা করছেন শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মানসম্মত শিক্ষা দিতে, যাতে তারা আন্ত্মর্জাতিক মানের শিক্ষা পায় এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদেরকে যোগ্য 'পণ্য' করে তুলতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে পাবনা তথা এই এলাকার মানুষের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম হয়েছে। পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক পরিম-লে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা এই বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তিময় জ্ঞানে সমৃদ্ধ, যুগোপযোগী, দক্ষ ও মানবিকতাবোধ সম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টি করে সারাবিশ্বে অনন্য গৌরব অর্জন করবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close