নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য ১৫ দফা নীতিমালাআইন ও বিচার ডেস্ক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রতি ১৫ দফা নীতিমালা দেয়া হয়েছে।
দায়রা আদালতের বিচারকদের ফৌজদারি রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধীনস্থ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনায় শুধু সম্মত বা অসম্মত উলেস্নখ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। সংশিস্নষ্ট মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে জড়িত আইনগত প্রশ্নের গভীরে ঢুকে অনুসন্ধান এবং তারপর তাদের মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে তারা কাঠামোগতভাবেই বাধ্য, তাদের অবশ্যই বিচারিক মনোভাবসম্পন্ন হতে হবে এবং যে কোনো আদেশের বিরম্নদ্ধে দায়ের করা রিভিশনাল বিষয়গুলো দ্রম্নত নিষ্পত্তি করতে হবে। যাতে করে সাধারণ জনগণ আদালতের দুর্বল ও শস্নথ গতির কারণে কোনো মামলার তদন্ত্ম অথবা বিচার বিলম্ব হচ্ছে বলে দোষারোপ করতে না পারে, অবসরে যাওয়ার আগে এ দেশের অনেক সরকারি কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব পালনের প্রতি অনীহা দেখানোর প্রবণতা ধারণ করে এবং ঢিলেঢালাভাবে কাজ শুরম্ন করে।
বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজদের ওই ধরনের মানসিকতা ধারণ করা যাবে না। উপরন্তু তাদের দায়িত্বপালনে আরও আন্ত্মরিক হতে হবে, সৎ, মেধাবী, সজাগ এবং দক্ষ অফিসারদের দ্বারা পরিচালনার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গতিশীল ও দেশপ্রেমী অঙ্গ হিসেবে জনগণের স্বীকৃতি আদায়ে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এবং মুখ্য বিচারিক হাকিমের (সিজেএম) সহযোগিতায় সব বিচারক এবং হাকিমদের নিয়ে জেলা/ মহানগর দায়রা জজের অফিসে মাসে কমপক্ষে একবার জুডিশিয়াল কনফারেন্স (বিচারিক সম্মেলন) করতে হবে।
নারাজি পিটিশনে যেসব সাক্ষীর নাম উলেস্নখ করা হয় তাদের কাছ থেকে বক্তব্য নেয়া হচ্ছে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেসব সাক্ষী প্রাসঙ্গিক মনে হয়, তাদের বক্তব্যও নিতে হবে। যদি নারাজি পিটিশনে করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মনে হয় তা হলে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্ভব হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে হবে, বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান কালে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি কোনো বিষয় গুরম্নত্বপূর্ণ মনে হয়, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে কোনো মতামত বা ফাইন্ডিংস যোগ করতে হয়, তা হলে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক সাক্ষীদের আচরণ/ মানসিক অবস্থা রেকর্ড করতে হবে, একজন বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে তার অনুসন্ধান অবশ্যই যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রসিকিউশন ম্যাটেরিয়ালস (বিচার্য বিষয়সমূহ) যেমন, এফআইআর, স্কেচ ম্যাপ, ইনডেক্স, সিজার লিস্ট, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট, বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় সাক্ষীদের দেয়া জবানবন্দি, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কেস ডায়েরি গভীরভাবে নিরীক্ষা করতে হবে। যদি সেখানে কোনো বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান থাকে, তা হলে আমলে নেয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে ওই বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সব বিষয় অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। একটি সিআর মামলার ক্ষেত্রে যখন একজন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বক্তব্য নেয়, তখন তাকে সংক্ষিপ্তভাবে বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করতে হবে যাতে যে কেউ সহজেই অভিযোগের ধরন বুঝতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় নেয়া বক্তব্য থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, তাতে অপরাধ আমলে নেয়ার মতো যথেষ্ট প্রাথমিক উপাদান (প্রাইমাফেসি) রয়েছে। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা হলে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই 'আলেয়া বনাম রাষ্ট্র' মামলায় দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যে কোনো ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে অপরাধ আমলে নেয়ার আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই আমলে নেয়ার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে হবে। আমলে গ্রহণকারী হাকিমকে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা মামলার তদন্ত্ম কর্মকর্তার প্রস্ত্মাব বা সুপারিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
মামলার তদন্ত্ম কর্মকর্তা বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদনে কোনো অভিযুক্তের নাম সুপারিশ না করে থাকলেও আমলে গ্রহণকারী হাকিমের ওই অভিযুক্তের বিরম্নদ্ধে অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে। কোনো আসামির বিরম্নদ্ধে চার্জশিট দাখিল হলে অথবা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিম সুপারিশ করলে আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওই আসামিকে বাদ দেয়ার কোনো ক্ষমতা থাকবে না বলে নীতিমালায় উলেস্নখ করা হয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close