ডিজিটাল বাংলাদেশ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আয়োজিত 'ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড'-এর উদ্বোধনে শেখ হাসিনা এ দেশের অগ্রগতিতে প্রযুক্তির অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।মিল্টন বিশ্বাস ১১ মে (২০১৮) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘোষিত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' পৌঁছে গেছে নতুন এক উচ্চতায়। আমাদের কৃষিভিত্তিক সমাজের সাংস্কৃতিক মানকে ডিজিটাল যুগের স্ত্মরে উন্নীত করা একটি কঠিন কাজ ছিল। তার জন্য সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার দরকার পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজটি সুনিপুণ পরিকল্পনায় বাস্ত্মবায়ন করে চলেছেন। তার মতে, 'দীর্ঘদিন এ দেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। মানুষের অনেক কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সমস্যাগুলো দেখার ও জানার সুযোগ পেয়েছি। সরকার গঠন করার পর সেগুলো চিহ্নিত করা ও সমাধানের চেষ্টা করছি।' (ভূমিকা, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন) মনে রাখতে হবে এ দেশে আমরা সর্বপ্রথম শেখ হাসিনার মুখেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কথা শুনেছি। তার নেতৃত্বেই সম্পন্ন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্ত্মরের ইতিহাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে বোঝায় দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারার সক্ষমতা তৈরি করা। উপরন্তু তার চারপাশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে তার জীবনধারাটি যন্ত্র-প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিভাত হয়। শিক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা ও সেবাকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এতে দেশের মানুষের জীবনধারা ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে।   
২.
২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আয়োজিত 'ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড'-এর উদ্বোধনে শেখ হাসিনা এ দেশের অগ্রগতিতে প্রযুক্তির অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে দেশকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন তিনি। গত নয় বছরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে আট কোটিতে। দেশকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তৃণমূল পর্যায় থেকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ত্মার হয়েছে। এখন গ্রামীণ মানুষও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। প্রতিটি জেলায় হাইটেক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ২৮টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মধ্যে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও যশোরে সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। এ ছাড়া ১২টি বেসরকারি সফটওয়্যার পার্কও গড়ে উঠেছে। ওই দিন তিনি আরও জানিয়েছিলেন, জাপানের মতো উন্নত দেশের ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্টকে স্মার্ট করার কাজটা তারা আমাদের তরম্নণদের হাতে তুলে দিয়েছে ২০১৭ সালে। এই খাতটিকে আরও যোগ্য করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা আমরা সরবরাহ করছি।
এর আগে ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রম্নয়ারি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলায় ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে ২০০ রকমের সেবা দেয়া হচ্ছে। এতে মানুষ ডিজিটালাইজড হয়ে উঠছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠা করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। ওই একই অনুষ্ঠানে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন তরম্নণ প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠা করা আমাদের অঙ্গীকার। তরম্নণ সমাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তার সরকার স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা চালু, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরম্নম প্রতিষ্ঠা, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও ভ্রাম্যমাণ আইটি ল্যাব চালু করেছে। নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সক্ষম করে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তির লাগসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য করা। কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, বেতার, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মতো মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে তা জনগণের কাজে লাগানো। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে মোবাইল ফোন সংযোগের মনোপলি ভেঙে দিয়েছিলাম। যার ফলে আজ ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১২ কোটির বেশি সিমকার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। ই-গভর্ন্যান্সের বাস্ত্মবায়ন অনেকটাই হয়ে গেছে। দুই বছরের (২০১৭) মধ্যে বাংলাদেশ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে। আগের মেয়াদে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক ও কর তুলে দিয়েছিলাম সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে। জয়ের কাছেই আমার কম্পিউটার মানে ডিজিটাল প্রযুক্তির হাতেখড়ি।' প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে চলতি বছর (২০১৮)। আর ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদু্যৎ বিলসহ ট্যাক্সও দিতে পারে। ২০১৮ সালে দেশে ফোরজি চালু হয়েছে।
৩.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রযুক্তিভিত্তিক রূপান্ত্মরিত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার মতে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। বিশ্বের প্রায় দুইশত দেশের মধ্যে মাত্র ৫৬টি দেশ মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের অভিজাত ক্লাবের সদস্য। আর বাংলাদেশ এ ক্লাবের ৫৭তম সংযোজন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ একটি ভূ-স্থির যোগাযোগ (এবড়ংঃধঃরড়হধৎু ঈড়সসঁহরপধঃরড়হ) স্যাটেলাইট। যা থেকে মূলত তিন ধরনের সেবা পাওয়া যাবে- ১. সম্প্রচার, ২. টেলিযোগাযোগ, তিন. ডাটা কমিউনিকেশনস। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে কম খরচে আরও বেশি সংখ্যক টেলিভিশন চ্যানেল দেখা যাবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০টি টিভি চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের মালিকানাধীন স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দেশীয় চ্যানেলগুলোর বিদেশ নির্ভরতা কমাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে। এরপর ২৯ পৃষ্ঠায়

০০ পৃষ্ঠার পর
আবার অভ্যন্ত্মরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশি চ্যানেলগুলোকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে। দুর্গম এলাকা এবং আপদকালীন বিকল্প হিসেবে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা এবং মোবাইল ফোন  চালানো সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নের লক্ষ্য পূরণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ অত্যন্ত্ম কার্যকর হবে। সব অঞ্চলের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তির সমান সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কিন্তু এ দেশে ৭৫০টি ইউনিয়ন দুর্গম এলাকায়। সাধারণত ডাটা সার্ভিসের জন্য অপটিক্যাল ফাইবারকে পছন্দের শীর্ষে রাখা হয়। তবে দুর্গম এলাকা বিশেষ করে দ্বীপ এবং পার্বত্য অঞ্চলে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল লাইন পৌঁছানো দুরূহ ও ব্যয়বহুল। সেখানে ইন্টারনেট লিঙ্কড যোগাযোগ ও ডাটা সার্ভিসের বিকল্প উপায় হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এ ছাড়া জরম্নরি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে ভূমিভিত্তিক যোগাযোগ সেবায় বিঘ্ন ঘটলে ডাটা ও টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট থেকে বাড়তি সুবিধা নেয়া যাবে। বিষয়টি আগে একবার উলেস্নখ করলেও পুনরায় বলা দরকার, বর্তমানে দেশে টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাজে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করায় বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেণের ফলে এই অর্থ সাশ্রয় হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-গবেষণা, ই-লার্নিং, ভিডিও কনফারেন্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হবে। অন্যদিকে এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। 'ট্রান্সপন্ডার লিজের' মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে এবং ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে বিনিয়োগের অর্থ তুলে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
৪.
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন মেটাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ হাজার জনবলকে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা গ্রহণ করেছে। ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় এবং জিডিপিতে সফটওয়্যার ও সেবা খাতের অবদান ১ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগেই জানানো হয়েছে যে, হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের কাজ শুরম্ন হয়েছে এবং প্রতি জেলায় ক্রমান্বয়ে এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।  
টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি কমাতে ইতোমধ্যে সরকারি অফিসে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হয়েছে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনতে শিগগিরই সব মন্ত্রণালয়ে ই-টেন্ডার কার্যক্রম চালু করা হবে। দেশে  ফোর-জি সেবা দেয়া হয়েছে। ফোর-জি বিপস্নব ঘটিয়েছে প্রযুক্তিতে। বর্তমানে বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাড়ে ২৫ হাজার কম্পিউটার ল্যাব সারাদেশের স্কুলগুলোতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েব পোর্টাল করেছি আমরা। যেখান থেকে যে কোনো তথ্যসেবা আমরা দিতে সক্ষম। আইটি সেক্টরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আরও এগিয়ে যাবো। নয় বছর আগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বলে কিছু ছিল না। তখন আইটি খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এখন ২৫০ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। শিগগিরই তৈরি পোশাকশিল্পের চেয়ে আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়বে। নেপাল-ভুটানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোকে পরস্পরের মধ্যে সংযুক্তির (কানেকটিভিটি) আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  বাংলাদেশকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে বেকারত্ব দূর করাকে অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এজন্য জোর দেয়া হয়েছে দ্রম্নত আইটি পার্ক স্থাপনের ওপর, পাশাপাশি আইটি ইনস্টিটিউট, আইটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় আইটি খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরম্ন করেছে। বাংলাদেশের অনেক তরম্নণ-তরম্নণী সফটওয়্যারের কাজ করে নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়েছে; অন্যের কাজের সংস্থান করেছে এবং বিদেশ থেকে নিয়ে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যখন কম্পিউটার ব্যবহারে সাবলীল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশকে আর তৈরি পোশাক শিল্পের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। কুটির শিল্পের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের কাজ করে দেশের মাটিতে বসে এ দেশের যুবসমাজ নিয়ে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা। আর এর মাধ্যমে মাত্র দশ থেকে পনের বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নাম স্থান পাবে উন্নত দেশের তালিকায়।
ইতোমধ্যে সারাদেশে তৈরি করা হয়েছে ১ লাখের বেশি ওয়াইফাই জোন। ৫টি ধাপ বা পর্যায়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া হচ্ছে। প্রথমত, ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি চালু করা। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের সব কাজকর্ম ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। এতে সরকারের কাজকর্ম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) নামের প্রকল্পটি আন্ত্মর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে, স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা। এ প্রক্রিয়ায় পাঠ্যসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্ত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় পর্যায় হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। চতুর্থত, আইটি পার্ক গড়ে তোলা। পঞ্চম পর্যায়ে, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সব মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কম-বেশি জ্ঞানার্জন করতে হবে। সে লক্ষ্য নিয়েই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম নামিয়ে আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে দেশের জনগণ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের সুফল সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে, 'ডিজিটাল আইন' প্রবর্তন করা হয়েছে। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে দেশের প্রতি প্রান্ত্মে পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। খুব দ্রম্নতগতিতেই বাংলাদেশের সব সেক্টর ডিজিটালাইজড হবে। 
ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টান্ত্ম হলো আর্থিক খাতে লেনদেনে এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনে পেমেন্টের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা। ব্যাংক-এ না গিয়ে ঘরে বসেই অসংখ্য গ্রাহক মোবাইলে পরিশোধ করছে ইউটিলিটি বিল। এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা তুলে খরচ করছে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে কতটা সহজ করেছে তার উদাহরণ শহর থেকে প্রত্যন্ত্ম গ্রামের কৃষক পরিবারে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় প্রায় অর্ধ শত ব্যাংক অনুমতি পেয়েছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সও আসছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আন্ত্মঃলেনদেন সম্পূর্ণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ স্থাপন করেছে। এ সিস্টেমে এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস), ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যাংকিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে সব ব্যাংকের মধ্যে একটি কমন পস্ন্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ ও কেনাকাটা চালু রয়েছে। এ নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত হয়েছে ৩৮টি ব্যাংক। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মাসে প্রায় ২১ লাখ চেক প্রসেসিং হচ্ছে। উপরন্তু ইলেকট্র্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকার ও কর্পোরেট বডির মধ্যে বেশি অর্থের আদান-প্রদান চলছে। আর ই-কমার্স পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহক তার নিজ একাউন্ট থেকে অনলাইনে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক নিজের একাউন্ট থেকে অর্থ সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের একাউন্টে ট্রান্সফার করছেন। তবে এ সিস্টেমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত্ম ট্রান্সফার করা হচ্ছে। এম-কমার্সে সোয়া ৫ লাখ গ্রাহক ইউটিলিটি বিল দিচ্ছে এবং এ পদ্ধতির মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহারকারীরা রেলওয়ের টিকিট, ক্রিকেট ম্যাচের টিকিট কিনতে পারছেন। এ ছাড়া পানি, গ্যাস ও বিদু্যৎ বিলও পরিশোধ করছেন।
৫.
২০১৩ সালের জুন-জুলাই মাসে হাটহাজারিসহ দেশের অনেক ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মেখল, গড়দুয়ারা কিংবা দক্ষিণ মাদার্শার দূরত্ব বিশ কিলোমিটার। আর নাজিরহাটের সীমানা ঘেঁষে যে ইউনিয়নটি তার নাম ফরহাদাবাদ। তার দূরত্ব ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার। ২০১৩-এর মে মাস থেকে হাটহাজারির কওমি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে সবার ধারণা জন্মেছে ওই এলাকাটি রক্ষণশীলদের চারণভূমি। সেখানে জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি এবং মৌলবাদী মানুষের জাঁতাকলে পিষ্ট প্রগতিবাদীরা। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে দেখা গেল এখানকার মানুষ সহজ-সরল, নির্বিবাদী। সোজা পিচ ঢালা সরম্ন সড়ক চলে গেছে গ্রামের ভেতর দিয়ে। রাস্ত্মার ধারেই ইউনিয়ন পরিষদের অফিস। কিন্তু লক্ষ্য করলাম মাইলের পর মাইল অনাবাদী জমি পড়ে রয়েছে। জানলাম এখানকার মানুষের আত্মীয়-স্বজন অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকে। ফলে তাদের পাঠানো টাকায় সংসার চলছে বলেই অনেক এলাকার জমি আবাদের প্রয়োজন মনে করা হয় না। এই যে বিঘার পর বিঘা অনাবাদি জমি তাকে কেন্দ্র করে ফসল ফলানো ও স্বপ্ন দেখানোর কাজ চলছে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ে। কৃষি কাজকে আরও সহজ করে তোলার জন্য সরকারের ভর্তুকি বেড়েছে। এসবের বাইরে মানুষের রাজনৈতিক হঠকারিতা গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মধ্যে নেই বললেই চলে। কিন্তু হাটহাজারির মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির সরকারের বিরম্নদ্ধে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। গ্রামের ভেতর মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় বোঝা গেল সরকারের বিরম্নদ্ধ পক্ষ কি ঘটিয়েছে? সেখানে সাধারণের ধর্মবিশ্বাস জামায়াত ও হেফাজতের দ্বারা গঠিত হয়েছে। এজন্য বর্তমান সরকার ইসলামের বিপক্ষে এ প্রত্যয় দানা বেঁধেছে। গণজাগরণ মঞ্চ কেন্দ্রিক ঘটনাও দেখলাম এরা জানে। সব সংবাদই দ্রম্নত পৌঁছেছে টিভি ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে। প্রথম দিন শাহবাগে সবাই একত্রিত হয়েছিল অনলাইন/ইন্টারনেটের যোগাযোগের মাধ্যমেই। আবার সেই ফেসবুক ও বস্নগের প্রসার ঘটেছিল বর্তমান সরকারের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্মরণীয় উদ্যোগের কারণে। ডিজিটাল বাংলাদেশ একদল মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সচেতন করে তুলেছে। অন্যদিকে তার (শাহবাগের) প্রতিক্রিয়ায় আরেক দল মানুষ প্রগতি থেকে ছিটকে পড়েছে। মানুষের চেতনা নির্মাণে প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিবেচনার বিষয়টি পরে অন্য জায়গায় আলোচনা করা যেতে পারে।
প্রথমে আমাদের দেখা দরকার বাংলাদেশ কীভাবে দ্রম্নত পাল্টে গেছে। হেফাজতে ইসলামী আর গ্রামের বধূ সরলা, কুলসুম, মাজেদা এক নয়। এ ধরনের অনেক নারী ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে আসেন নিজের সন্ত্মানের জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে, একটা দরখাস্ত্ম টাইপ করতে। অথবা পাসপোর্ট ফরম কিনতে। এই নিম্নবর্গের মানুষের কাছে হেফাজতের বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই। বরং তারা বোঝে পঞ্চাশ বছর ধরে দেখা গ্রামের পরিবেশ বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি নানা কথা জিজ্ঞেস করি। কম্পিউটারে তাদের কি কি সুবিধা হচ্ছে? তারা নিঃসঙ্কোচে জবাব দিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করছে বলেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের জীবনে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার-২০০৮, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনবদলের সনদের 'মানব উন্নয়ন' অংশের শিক্ষা ও বিজ্ঞান-এর ১০.৫ ধারায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল : 'আইসিটি খাতের সম্ভাবনাকে সার্থক করে তোলার ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের প্রতিভাবান তরম্নণ ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সর্বোতভাবে সহায়তা দিয়ে সফটওয়্যার শিল্প ও আইটি সার্ভিসের বিকাশ সাধন করা হবে। এতে রপ্তানি বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ২০২১ সালের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক স্ত্মরে এবং ২০২১ সালে প্রাথমিক স্ত্মরে আইটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত এবং জোট সরকারের আমলে নিষ্ক্রিয় করা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক টাস্কফোর্স সক্রিয় ও কার্যকর করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইসিটি ইনকুবেটর এবং কম্পিউটার ভিলেজ স্থাপন করা হবে।'
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে অঙ্গীকার পূরণে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে, ইউনিয়ন পরিষদের অফিসগুলো সচক্ষে দেখে। তবে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে শাসনকাল শুরম্ন হয়েছিল সেই সময়ই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রাণ প্রবাহিত হয়েছিল। সে সময় কম্পিউটারের ওপর থেকে সম্পূর্ণ ট্যাক্স তুলে নেয়া হয়। দেশে প্রথম বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমতি দেয়া হয়। পূর্বেই বলা হয়েছে মোবাইল ফোনে বিএনপি সরকারের মনোপলি ভেঙে তিনটি কোম্পানি অনুমতি পায় তখন। আসে মোবাইলের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির বিপস্নব। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলে। তথ্যপ্রযুক্তিকে জনগণের দোরগোড়ায় নেয়ার পরিবর্তে নিজেদের ঘরের মধ্যে বন্দি করে। দেশের অগ্রগতির বিপক্ষে যায় তাদের নেয়া প্রতিটি পদক্ষেপ। তারা 'হাওয়া ভবন'কেন্দ্রিক দুর্নীতির মডেল তৈরি করে দেশ পরিচালনা করতে থাকে। বিস্ময়করভাবে উত্থান ঘটে জঙ্গিবাদের। দেখা গেছে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো তাদের নাশকতা সৃষ্টির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে। জোট সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে নিজেদের সংগঠিত করেছিল জঙ্গিরা ইসলামের নামে। কিন্তু তাদের কর্মকা- সবই ছিল সাধারণ জনতার বিরম্নদ্ধে। সারা দেশজুড়ে সেই সময়কার বোমা-গ্রেনেড হামলার ঘটনা কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবির মুখে দেশে আবার গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা হয়। যদিও মধ্যবর্তী দু'বছর আমাদের থাকতে হয় সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির প্রতি, রূপকল্প ২০২১-এর প্রতি, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশ পুনরায় ঘুরে দাঁড়ায়। গত মহাজোট সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় এক পর্যায়ে বলেন-
'প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থেকে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করি। এই চার বছরে আমরা ব্যাংকিংসহ সব অর্থনৈতিক কর্মকা-, সেবা প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করেছি। সব বয়সী জনগণ এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সার্ভিস ও তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেছি। এগুলো থেকে প্রতিমাসে ৪০ লাখ গ্রামীণ মানুষ ই-সেবা নিচ্ছেন। ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়েছি ও ব্যয় কমিয়েছি। ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা সাতগুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ১০ কোটি মোবাইল সিম বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। থ্রি জি মোবাইল ফোন চালু হয়েছে। গ্রাহকরা ভিডিও কল করাসহ উন্নত ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন।'
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের সঙ্গে আমার মাঠ পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা হুবহু মিলে যায়। ওই ঘটনার কিছুদিন পর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম-মিঠামইন-ইটনা উপজেলা ভ্রমণে একই ধরনের অগ্রসরমান ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখেছি। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ ব্যবহার করে সেখানে পৌঁছে দেখেছিলাম গ্রামের প্রত্যন্ত্ম এলাকায় বিদু্যৎ আছে, আছে ইন্টারনেট সংযোগ। অথচ একটি পাড়া থেকে অন্য পাড়া কিংবা একটি ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে নৌকা ব্যবহার করতে হয়। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো এই ভাটি এলাকার মানুষ এখন পৃথিবীর খুব কাছে চলে এসেছে কেবল মাত্র শেখ হাসিনা সরকারের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের বদৌলতে। সেখানে ভ্রমণ শেষে ঢাকায় পৌঁছানোর পর অষ্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতা মো. ওয়াহেদ যখন আমাকে ইমেল যোগে তার এবং অন্য কয়েকজন নেতার ছবি পাঠিয়ে দিলেন তখনই বোঝা গেল বাংলাদেশের কোনো এলাকাই আর দুর্গম নয়। সেখান থেকে লেখার উপকরণ জোগাড় ও ছবি সংগ্রহ মুহূর্তের ব্যাপার। কেবল গ্রাম-গঞ্জ নয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বর্তমান সরকারের প্রযুক্তিবান্ধব আচরণ লক্ষণীয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণা কাজে গত নয় বছরে প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানীকে প্রায় ৫০ কোটি ২৬ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষা উৎসাহিতকরণ ও বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার ৭৭৩ জনকে উচ্চশিক্ষা ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে। ২৫ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরম্নম প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর আর বঙ্গভবন-গণভবন থেকে গ্রামের জনগোষ্ঠীর কুটির পর্যন্ত্ম সর্বত্রই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্পর্শ রয়েছে।
স্কুলপর্যায়ে ছাত্রছাত্রীর কাছে কম দামে ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে ল্যাপটপ কম্পিউটার উৎপাদন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উৎপাদিত ল্যাপটপ দোয়েল বিতরণ ও বাজারজাতকরণ উদ্বোধন করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরের ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান, অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল, অনলাইন ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারের উলেস্নখযোগ্য কাজ হচ্ছে সহজে যে কোনো তথ্য পাওয়ার সুবিধা। বিরোধী পক্ষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের সব তথ্য ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। তারা উপকৃত হচ্ছে এবং বাধ্য হচ্ছে সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে। প্রতি মাসে কেবল গ্রামের অর্ধ কোটি মানুষ ই-সেবা পাচ্ছে এমন নয়; তথ্যসেবা কেন্দ্রে সাড়ে আট হাজার নারীসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকল্পে মুদ্রণ মাধ্যমসহ মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবাপ্রদান এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ 'সাপোর্টিং দি গুড গভর্ন্যান্স' প্রোগ্রাম বাস্ত্মবায়ন করেছে। সেবা প্রাপ্তিতে জনগণের হয়রানি বন্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। জেলাপর্যায়ে স্থানীয় জনগণের সব সরকারি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা ই-সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কোনো রকমে ঝামেলা, দুর্নীতি ও কালক্ষেপণ ছাড়াই সেবা পৌঁছে যাচ্ছে নাগরিকদের হাতে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা। ই-সেবাকেন্দ্র থেকে প্রতিমাসে গড়ে ৫০ হাজারের বেশি পরচা অনলাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে তৃণমূল জনগোষ্ঠী সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারের দ্বারা জীবনকে সহজ করতে পেরেছে। সহজ জীবনযাপনের জন্যই এ দেশ বিশ্বের মধ্যে ১১তম সুখী দেশের তালিকায় অন্ত্মর্ভুক্ত হয়েছে। আর এর সবই শেখ হাসিনা সরকারের অবদান।
৬.
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে সমাজের মানুষের চাহিদা মাথায় রেখে তা বাস্ত্মবায়ন করতে শেখ হাসিনা সরকার সচেতন রয়েছে। টানা ৪ বছর প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার 'ওয়ার্ল্ড সামিট অন দি ইনফরমেশন সোসাইট' (ডবিস্নউআইসিএস) পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন সেবা খাতে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনসাধারণের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্নমেন্ট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণের উন্নয়ন সরকার ও তার নাগরিকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের ফলে সামনে নতুন (চতুর্থ) শিল্পবিপস্নবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিপস্নবের দিকে ধাবিত হওয়ার ফলে শিল্পক্ষেত্রে ধীরে ধীরে মানুষের প্রয়োজন কমতে থাকবে। শিল্প-কারখানাগুলো অধিকাংশই প্রযুক্তি ও যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়বে। তবে আমরা মনে করি দেশের মেধাবী তরম্নণ প্রজন্মই তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল করার স্বপ্ন সার্থক করবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close