রবীন্দ্র ভাবনায় কৃষিকবি রবীন্দ্রনাথ খুবই সহজ, সরল ভাষায় আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি (জাতীয় সংগীত) গানটি রচনায় তার মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। আজ থেকে প্রায় একশ বছরেরও বেশি সময় আগেও আম ছিল বাংলাদেশের প্রধান মৌসুমি ও সবার কাছে প্রিয় একটি ফল, যেমন আছে এখনো। তেমনি বাঙালির প্রধান খাবারে সুনামের সঙ্গে যুক্ত যে ভাত- তার উৎস যে ধান, সেই সময়ের আমন ধানও ছিল এদেশের কৃষকের প্রধান মাঠ ফসল। মাঠভরা ধানের ফলন দেখে কৃষকের মুখেও ফুটে উঠত তৃপ্তির হাসি। তাই আমরা বলতেই পারি, আমাদের জাতীয় সংগীতে বাংলাদেশের আসল চিত্রটিই ফুটে উঠেছে।কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম পঁচিশে বৈশাখ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে এদেশের প্রকৃতি, গাছপালা, ফসল, নদ-নদী, পশুপাখী আর মানুষ তাকে এত বেশি মুগ্ধ করেছিল যে তিনি তার লেখায় এই বাংলার একটি অকৃত্রিম ছবিই ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশকে আমরা বলে থাকি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের কৃষি এদেশের মানুষের আয়-উপার্জনের ভিত্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা যে দিক দিয়েই চিন্ত্মা করি না কেন সব কিছুর মূলেই কিন্তু কৃষির অবদানের কথা চলে আসে। এ দেশের চারিদিকে তাকালে আমাদের চোখের সামনে যে দৃশ্য ভেসে ওঠে তার প্রায় সবটুকু জুড়েই কৃষি। বাংলাদেশ যেন আগাগোড়া কৃষিভিত্তিক এক দেশ। তাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও আমরা দেখা পাই এই কৃষিরই একটি চিরন্ত্মন ছবি। জাতীয় সংগীতে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-
" ওমা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে "
(এখানে আমের রাজা ও বাঙালির প্রিয় ফল আমের কথা বলেছেন তিনি),
"ওমা অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি"
(এখানে তৎকালীন বাংলার প্রধান উৎপন্ন ফসল ও বাঙালির প্রধান খাবার ভাতের উৎস ধানক্ষেতের কথা বলেছেন তিনি)
"কি শোভা, কি ছায়া গো, কি স্নেহ, কি মায়া গো
হকি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে"
(পরিবেশবান্ধব বটগাছের কথা বলেছেন তিনি)
প্রথম উলেস্নখ করা দুটি লাইনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের ফলের রাজা আম আর প্রধান মাঠ ফসল ধানের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আসলেই বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি বিষয়। আর এ দেশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো একটি অতি পরিচিত গাছ "বট", যেটি আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন নতুন গাছ আমরা প্রতি বছরই লাগাই কিন্তু বট, পাকুরের কথা ভুলেই যাচ্ছি দিন দিন। রাস্ত্মা কিংবা নদীর ধারে এখনো শতবর্ষ পুরনো বট-পাকুরের দেখা মিললেও নতুন করে লাগানো হয়েছে এমন বট-পাকুরের দেখা মেলে কদাচিৎ। যদিও বটগাছ আমাদের জাতীয় সংগীতে উলেস্নখিত একটি গাছ। এই গাছ একটি ঐতিহ্যও বটে! বৃক্ষ রোপণ মৌসুম আসে আর যায় কিন্তু এ গাছ রোপণের কথা এখন আর কেউ বলে না।

কবি রবীন্দ্রনাথ খুবই সহজ, সরল ভাষায় আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি (জাতীয় সংগীত) গানটি রচনায় তার মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। আজ থেকে প্রায় একশ বছরেরও বেশি সময় আগেও আম ছিল বাংলাদেশের প্রধান মৌসুমী ও সবার কাছে প্রিয় একটি ফল, যেমন আছে এখনো। তেমনি বাঙালির প্রধান খাবারে সুনামের সঙ্গে যুক্ত যে ভাত-তার উৎস যে ধান, সেই সময়ের আমন ধানও ছিল এ দেেেশর কৃষকের প্রধান মাঠ ফসল। মাঠভরা ধানের ফলন দেখে কৃষকের মুখেও ফুটে উঠত তৃপ্তির হাসি। তাই আমরা বলতেই পারি, আমাদের জাতীয় সংগীতে বাংলাদেশের আসল চিত্রটিই ফুটে উঠেছে। যাতে আছে এ দেশের মানুষের কাছে প্রিয়-প্রধান দুটি ফসলের কথা। একটি ফলের রাজা আম ও অন্যটি এদেশের মানুষের প্রধান খাবার ভাতের উৎস ধান। আর কর্মঠ-পরিশ্রমী কৃষকের শ্রান্ত্মি নিরসনের জায়গা বটের সুশীতল ছায়া, যদিও আজ সেই গাছ সংখ্যায় অনেক কমে গেছে।

ধানের কথা রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন গানে ও কবিতায় তুলে এনেছেন কখনো প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে আবার কখনো আধ্যাত্মিক বিষয়ের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে। যেমন ধানক্ষেতের সৌন্দর্য এঁকেছেন-
"আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র-ছায়ায় লুকোচুরি খেলারে ভাই" গানে।
আবার সোনার তরী কবিতায় তিনি লিখেছেন
"রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হলো সারা,
হকূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা"
এই কবিতায় তিনি ইহলৌকিক জীবনে কি করেছেন বা পারলৌকিক জীবনের জন্য কি সঞ্চয় করেছেন তার সেই ভাবনার কথা ক্ষেতের ধান ফসলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মন পড়ে থাকত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের প্রতি। তাই তিনি বলেছেন, "মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে"। এই প্রকৃতির একটি অংশ হলো গাছ। গাছকে নিয়ে তার উৎসুক মনে আগ্রহের কমতি ছিল না। "বলাই" গল্পে বলাই নয়, যেন রবীন্দ্রনাথই প্রবল আগ্রহ নিয়ে নতুন অঙ্কুরিত চারা গাছের দিয়ে চেয়ে মনে উদিত হওয়া হাজার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন- "নতুন অঙ্কুরগুলো তাদের মাথাটুকু নিয়ে আলোতে ফুটে উঠছে এই দেখতে তার ঔৎসুক্যের সীমা নেই। প্রতিদিন ঝুঁকে পড়ে পড়ে তাদের যেন জিজ্ঞাসা করে 'তারপরে? তারপরে? তারপরে?' তারা ওর চির-অসমাপ্ত গল্প! সদ্য গজিয়ে ওঠা কচি কচি পাতা, তাদের সঙ্গে কী যে একটা বয়স্যভাব তা ও কেমন করে প্রকাশ করবে!"
প্রকৃতিতে কখন পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে তাও রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। কখন আমের মুকুল বের হয়, কখন কাঞ্চন, হেনা ফুল ফোটে, কখন তিসি ধরে, শন গাছ হয় তাও রবীন্দ্রনাথের অনুসন্ধানী দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। তাই কবি বলেছেন,
"ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল" (ফাল্গুন)
"শুক্ল সন্ধ্যা চৈত্র মাসে, হেনার গন্ধ হাওয়ায় ভাসে" (সোজাসুজি)
"আমাদের এই গ্রামের গলি পরে
হআমের বোলে ভরে আমের বন
হতাদের ক্ষেতে যখন তিসি ধরে
হমোদের ক্ষেতে তখন ফোটে শন" (এক গাঁয়ে)
এখন আমরা গ্রামের বন-বাদাড়ে আর খুঁজে পাই না যে বৈঁচি ফলের গাছ রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সেই গাছের কথাও এসেছে এইভাবে,
"মরা নদীর বাঁকে দাম জমেছে বিস্ত্মর
হবক দাঁড়িয়ে থাকে ধারে
হদাঁড়কাক বসেছে বৈঁচিগাছের ডালে
হআকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খচিল" (ছেলেটা)
"পুকুর ধারে" কবিতায় কবি তুলে এনেছেন তখনকার দুটি শাক, চারটি ফুল, তিনটি ফল আর একটি বেড়া হিসেবে ব্যবহৃত মেহেদি গাছের কথা।
"তীরে তীরে কলমি শাক আর হেলঞ্চ
ঢালু পাড়িতে সুপারি গাছ কটা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
এধারের ডাঙ্গায় করবী, সাদা রঙ্গন, একটি শিউলি
দুটি অযত্নের রজনীগন্ধা ফুল ধরেছে গরিবের মতো
বাখারি বাঁধা মেহেদির বেড়া
তার ওপাড়ে কলা পেয়ারা নারকেলের বাগান"
গ্রামের ক্ষেতের আইলে বা পুকুর পাড়ে আগে তাল গাছ জন্মাতো বেশি। সেই তাল ফলের গাছ দেখে কবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,
"তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে" (তাল গাছ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৈত্রিক সূত্রে জমিদারী পেয়েছিলেন। কিন্তু জমিদারীর মালিক হয়েও তিনি অন্য আর দশজন জমিদারের মতো প্রজাদের উপর অন্যায় অবিচার করেননি। তিনি তার প্রজাদের সঙ্গে অর্থাৎ কৃষকদের স্বার্থে অনেক কল্যাণমূলক কাজে হাত দিয়েছিলেন। যা তিনি নিজের ঘর থেকেই শুরম্ন করেছিলেন। এ বিষয়টি বোঝা যায়, কবির নিজের বড় ছেলেকে এন্ট্রান্স পাস করার পর মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে ১৯০৬ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি বিষয়ে লেখাপড়া শেখার জন্য পাঠাবার মধ্য দিয়ে। এদের সঙ্গে বন্ধু পুত্রকেও একই উদ্দেশ্যে পাঠান। কবির বড় ছেলে রথীন্দ্রনাথ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিতে বিএসসি ডিগ্রি নিয়ে ১৯০৯ সালে দেশে ফিরে বাবার সাথে যোগ দিয়েছিলেন বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি কাজের মাধ্যমে এদেশের কৃষির উন্নয়েনে। তিনি নিজের সম্মানের কথা চিন্ত্মা না করে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষে চাষিকে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশের মাটিতে নিজেই প্রথম চালিয়েছিলেন ট্রাক্টর। আর এই কাজ করার প্রেরণাও তিনি পেয়েছিলেন বাবা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে। কারণ কবি তার লেখায় বলেছিলেন,"মান্ধাতা আমলের হাল-লাঙ্গল নিয়ে আল-বাঁধা টুকরো জমিতে ফসল ফলানো আর ফুটো কলসীতে জল আনা একই কথা"।

চাষিদের পুঁজির অভাবের কথা রবীন্দ্রনাথ জানতেন। জানতেন এই পুঁজির অভাবের সুযোগ গ্রহন করে মহাজনদের শোষনের ইতিবৃত্ত। তাই তিনি তার জমিদারীতে একটি কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেন এবং সহজ ও কম সুদে চাষির জন্য ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
তিনি বাংলাদেশের কৃষিতে শস্য বহুমুখীকরনের পথিকৃৎ। বিদেশি নতুন নতুন ফসলের এ দেশে চাষবাসের চিন্ত্মাই তিনি শুধু করেননি, সে গুলোর বীজ জোগাড় করে তার জমিদারী এলাকায় চাষের ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন। যেমন, ভুট্টা চাষের জন্য আমেরিকা থেকে বীজ এনে নিজ জমিতে লাগিয়েছিলেন।
রেশম চাষ লাভজনক, খুব সহজে ও কম খরচে করা যায় বলে রেশম চাষের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রেশম কাপড় উৎপাদনের জন্য কারখানাও বসিয়েছিলেন তার কাছারিবাড়ির পাশেই। বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্প ও মৃৎশিল্প স্থাপনের জন্য অভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়ে আসেন। চাষিদের ধান ভাঙ্গানোর সুবিধার্থে ধান ভাঙ্গানোর কলও স্থাপন করেন তার জমিদারী এলাকায়। বৈশাখের শেষে স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে বনভোজন করার পাশাপাশি এমন একটা দিনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেদিন বৃক্ষরোপণের জন্য নির্ধারিত থাকবে। অর্থাৎ বৃক্ষরোপণেও রবীন্দ্রনাথ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে।
চাষিদের মনে ফুল চাষ করার শখ জাগানোর উদ্দেশ্যে তিনি তার জমিদারী এলাকার গৃহস্থদের প্রত্যেকের আঙ্গিনায় দুই-চারটি করে বেল ফুল ও গোলাপ গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ফুল ভালোবাসতেন বলেই দেখেছিলেন ফুল কোথায় কোথায় হতে পারে আর বিভিন্ন ফুলকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তাঁর লেখায়।
" তোমার কুটিরের পুকুর পাড়ে
হফুলের চারাগুলি যতনে বাড়ে" (কুটিরবাসী)
"চাঁপার কাঞ্চন আভা সেযে কার কণ্ঠস্বরের সাধা
হনাগকেশরের গন্ধ সেযে কোন বেনী বন্ধে বাঁধা
হরঙ্গনের চামেলী যে
হকালো আঁখি জলে ভিজে
হকরবীর রাঙ্গা রঙ কঙ্কন ঝংকার সুরে মাখা
হকদম্ব কেশরগুলি নিদ্রাহীন বেদনার আঁকা " (নীলমনিলতা)
কৃষকের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় শাক-সবজি এবং ক্ষেতের আইলে কলা এবং আনারস চাষের জন্যও তিনি তাদের উৎসাহিত করতেন। আর অবসর সময়ে বিকল্প কাজ হিসেবে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কুটির শিল্পের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতেন। যাতে তার জমিদারী এলাকার কৃষকরা অতিরিক্ত কিছু টাকা রোজগার করতে পারে।

বাঙালির খাবার-দাবারে সবজির যে কদর বা সবজি ব্যবহারের যে প্রচলন ছিল ব্যাপক, তা তার লেখায় উঠে এসেছে অত্যন্ত্ম সাবলীলভাবে। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে সবজি ব্যবহার কিভাবে হতো তার একটি নমুনা তিনি তুলে ধরেছেন তার "শ্রাদ্ধ" কবিতায়। রবীন্দ্রনাথের সেই সময়ে নীলফামারী তথা রংপুর অঞ্চলে যে সবজি চাষ বেশি হতো এবং তার দামও কেমন ছিল তার একটা চিত্রও তুলে ধরেছেন এই কবিতায়।
"শ্রাদ্ধের যে ভোজন হবে কাঁচা তেঁতুল দরকার
হবেগুন মূলোর সন্ধানেতে ছুটল ন্যাড়া সরকার
হবেগুন মূলো পাওয়া যাবে নিলফামারীর বাজারে
নগদ দামে বিক্রি করে তিন টাকা দাম হাজারে"
সেচ কাজের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তিনি নদী থেকে পানি নিয়ে কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। কারণ তিনি দেখেছিলেন যে, পানি সেচের অভাবে কৃষকের ক্ষেতের ধান গাছ ক্ষেতেই শুকিয়ে যেত। এতে খরা মৌসুমে চাষিদের চাষবাসের বেশ সুবিধা হয়েছিল।

সবশেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে এই কথাটি বলা যায় যে, তিনি তৎকালীন বাংলায় অবস্থানকালে এদেশের কৃষি ও কৃষককে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে তার ভাবনায় ও লেখায় বাংলার লোকজ রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন বলেই ভুলে যাননি এদেশের শিকড়ে জমে থাকা কৃষির কথা, কৃষকের কথা। তিনি বলেছিলেন, "কুঁড়ির মধ্যে যে কীট জন্মেছে সে জানে না ফুলকে। জানে বাইরে থেকে যে পেয়েছে আনন্দ"। রবীন্দ্রনাথের এই কথাতেই পরিষ্কার হয়ে যায় জীবন দর্শন তথা কৃষি ও কৃষকের প্রতি তার মনোভাবের প্রকাশ। যেখানে তিনি জন্মাননি, যেখানে তিনি বড় হয়ে ওঠেননি, সেখান থেকেই তিনি সংগ্রহ করেছেন তার আনন্দ তথা যাবতীয় উপাত্ত। তাই তার ভাবনায় ও লেখায় ফুটে উঠেছে মাটি ও মানুষের কথা এবং সেসব মানুষের নিত্যদিনের কৃষিকর্মের চিত্র।

তথ্য সূত্র : ১. রবীন্দ্রবিশ্বে পতিসর, আব্দুস সাত্তার, সঞ্চয়িতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close