পূর্ববর্তী সংবাদ
কিংবদন্তি বোল্টের এমন বিদায়!ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে জ্যামাইকাকে জেতাতে পারলেন না গতিদানব উসাইন বোল্ট। পায়ের ব্যথা যেন শেষের ভালোটা কেড়েই নিল তার কাছে থেকে। তাই ইভেন্ট শেষে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন সতীর্থরা, বোল্ট নিজেও দলের সৈনিকদের শোনাচ্ছেন কিছু সান্ত্বনার বাণী _ওয়েবসাইটবছরের পর বছর ধরে ক্রীড়াবিশ্বকে যিনি দিয়ে গেলেন উজার করে, ভাগ্যদেবী তার জন্যই কিনা আর মাত্র সেকেন্ড দশেক সময় বরাদ্দ রাখতে পারলেন না! তার বিমাতাসূলভ আচরণেই শেষবারের মতো ট্র্যাকে নামা কিংবদন্তি সপ্রিন্টার উসাইন বোল্ট দৌড়টাই শেষ করতে পারলেন না। তাতে শুধু এই জ্যামাইকানের নয়, হৃদয় ভেঙেছে ক্রীড়ামোদি সবার। সবারই ভাবনা মিলে গেছে একটা জায়গায়- এমন বিদায় প্রাপ্য ছিল না বিশ্বের দ্রুততম মানবের।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাস্টিন গ্যাটলিন এবং ক্রিশ্চিয়ান কোলম্যানের কাছে পরাজিত হয়ে ১০০ মিটারে নিজের শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি বোল্ট। তবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতাটি নিয়ে তাকে ঘিরে পুরো বিশ্ব আশাবাদী ছিল। সে কারণেই রিলের জন্য ম্যাকলিওড, ফোর্টে, বোল্ট এবং ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইয়োহান বেস্নককে নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেছিল জ্যামাইকা। লন্ডন স্টেডিয়ামে আগত সমর্থকরা নিজ নিজ দেশকে বাদ দিয়ে যেন বোল্টকে দেখতে এবং তাকে শেষবারের মতো সমর্থন দিতেই উন্মুখ ছিলেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনও আটকে ছিল বোল্টের দিকেই।
লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার রিলেতে ফিনিশিং লাইন পর্যন্ত পেঁৗছাতে পারেননি বোল্ট। শেষ ল্যাপে ফিনিশিং লাইন থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে থাকতে চোট পান তিনি। সতীর্থ ইয়োহান বেস্নকের কাছ থেকে ব্যাটন নিয়ে যখন দৌড়াচ্ছেন, তখন কিছুটা এগিয়ে ব্রিটেন আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের পেছনে ফেলতে গতি বাড়াতেই ঘটে বিপত্তি। অগত্যা ব্যথায় চিৎকার করে উঠেন গতিদানব। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বা পা ধরে লুটিয়ে পড়েন ট্র্যাকেই। এই ইভেন্টে জ্যামাইকার সোনা ধরে রাখার স্বপ্নটাও শেষ হয়ে যায় সেখানে।
এই সুযোগে মিচেল বেস্নক জয় নিশ্চিত করেন ব্রিটেনের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার রিলেতে এই প্রথম সোনা জিতল দেশটি। ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে চিজিনডু উজা, অ্যাডাম জেমিলি, ড্যানিয়েল টালবোট এবং মিচেল বেস্নককে নিয়ে গঠিত স্বাগতিক দল। ৩৭.৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য জিতেছে জাস্টিন গ্যাটলিনের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র। চমক দেখিয়ে ৩৮.০৪ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জয় করেছে জাপান। ওই চমকের দিকে তখন অবশ্য তেমন নজর ছিল না লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৬০ হাজার দর্শকের। তারা যে বোল্টের জয় দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু দেখলেন গ্রহের দ্রুততম মানবের ক্যারিয়ারের দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি।
ট্র্যাকে লুটিয়ে পড়া বোল্টকে তার সতীর্থরা উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। সমবেদনা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরাও। জ্যামাইকান কিংবদন্তিকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আনা হয়েছিল হুইল চেয়ার। শেষতক অবশ্য নিজের হাঁটুতে ভর দিয়েই ট্র্যাক ছেড়েছেন তিনি। বিশ্ববাসী অবিশ্বাস্য চোখে দেখেছে সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদের এমন করুণ বিদায়! ৮ বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং ১১ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে কিনা ট্র্যাক ছাড়তে হলো দৌড় শেষ না করেই। এর আগে ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। এ ছাড়া ২০০৯ থেকে চলতি আসরের আগ পর্যন্ত ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ১০০ মিটার রিলেতে সোনার পদক জিতেছেন তিনি।
জ্যামাইকান দলের চিকিৎসক কেভিন জোনস জানিয়েছেন, 'বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়েছে বোল্টের। প্রচ- ব্যাথার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত আর দৌড়াতে পারেননি। গত তিন সপ্তাহ তার ওপর দিয়ে ভীষণ চাপ গেছে। এখন তার সুস্থতার জন্য সবাই আশাবাদী।' জ্যামাইকান দলে বোল্টের সতীর্থ জাস্টিন ফোর্টে বলেছেন, 'আসলেই কি ঘটেছিল সে সম্পর্কে বোল্ট আমাদের কিছুই বলেনি। কিন্তু আমি যতটুকু দেখেছি তার পেশীতে টান পড়েছিল। এ জন্য সে আমাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাকে জানিয়েছি এখানে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। ইনজুরি খেলারই একটি অংশ।'
ইনজুরি নিয়েই শেষ হয়ে গেল অ্যাথলেটিক্সের একটা অধ্যায়। সমাপ্তি ঘটল একটা যুগেরও। বোল্ট যুগ, ক্রীড়াবিশ্বের কাছে যে যুগটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যেমন স্মরণীয় হয়ে আছেন কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। বোল্ট তো এটাই চেয়েছেন। শেষটাতেই কেবল চাওয়াটা অপূর্ণ থাকল তার।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin