রাজধানীতে বাড়ছে শিশুশ্রমযাযাদি রিপোর্ট বাসে আমড়া বিক্রি করছে এক শিশুশ্রমিক _যাযাদি'ধুর আইজকা খরচই উঠবো না। বৃষ্টির লাইগা রাস্তায় যাত্রীই নাই। দুইডা টাকা বেশি দেন আইজকা। নাইলে হারাদিন না খায়া থাকতে হইবো।'
কথাগুলো বলছিল বিআরটিসির দোতলা বাসের হেলপার বেলাল। বয়স ১১-১২ বছর হবে, বাবার সঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় গাড়ির গ্যারেজে থাকে। তার বাবাও ওই গ্যারেজে কাজ করেন।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরও পড়তে ভালো লাগেনি বেলালের। তাই বাসের হেলপারের কাজ করছে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায়। কিন্তু যে কাজ সে করছে বয়স ও শারীরিক সামর্থ্যে যেমন সে যোগ্য নয়, তেমনি শিশুশ্রম আইন অনুসারেও বেআইনি, তবে বেলালের এটি জানা নেই।
কিন্তু বাসটির ড্রাইভার, বেলালের বাবাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন যে, শিশুশ্রম বেআইনি। তারপরও তাদের কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ, আইন থাকলেও তার যে কোনো প্রয়োগ নেই, সেটিও জানেন তারা।
বিআরটিসির ওই বাসটির ড্রাইভার রেজা বলেন, 'আমরাও ছোটবেলা থেকেই হেলপারি করে পরে ড্রাইভার হইছি। ওদেরও এভাবেই আসতে হবে। ওদের দিয়ে কাজ করায়ে সুবিধা। কম টাকায় যেভাবে বলি, সেভাবেই কাজ করে দেয়। আর শিশুশ্রমের ব্যাপারে ধরার মতো প্রশাসন বা সরকারের কাউরে তো দেখি না।' পড়াশোনা না করেও ছোটবেলা থেকে কাজ করে কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'স্কুলের সার্টিফিকেট পাওয়া কোনো ঘটনা না। এটা পাওয়া যাবেই। আমরা ওদের সময় হইলে ম্যানেজ কইরা দিমু। আমারে যেমন আমার ওস্তাদে দিছে।'
বেলালের স্বপ্নও ওই ড্রাইভার হওয়া- 'এইখান থেকাই কাজ করতে করতে আমি গাড়ি চালামু। ওস্তাদে কইছে, পরে সব ব্যবস্থা করে দিবো।'
মিরপুর-ধানম-ি, ফার্মগেট-কারওয়ানবাজার- নাখালপাড়া, মিরপুর-গাবতলীসহ পুরান ঢাকার সব রুটের লেগুনা ও অন্য পরিবহনগুলোর প্রায় সব ড্রাইভার ও হেলপারই শিশু। হেলপাররা একেবারেই ছোট হলেও ড্রাইভাররা কিছুটা বড়, তাও গড়ে ১৪-১৫ বছর। কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করায় তারা শিশু হলেও গাড়ি চালাচ্ছে এবং ১৪ বছর বয়সী লেগুনার ড্রাইভার লেকু বলে, 'আগে লোকাল বাসের হেলপার ছিলাম। এখন মিরপুর-শ্যামলী রোডে লেগুনা চালাই। বয়সটা আরেকটু বাড়লেই একটা সার্টিফিকেট ম্যানেজ কইরা ড্রাইভিং লাইসেন্সটা নিয়া নিমু।'
বিভিন্ন খাবারের হোটেল, গাড়ির গ্যারেজ ও লেদমেশিন কারখানায়ও শিশুশ্রম দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। আর এসব দেখার কেউ নেই। জুরাইনের একটি হোটেলে এক বছর ধরে কাজ করছে ৮ বছরের শিশু আলম। এই হোটেলবয়কে নিজের শরীরের সমান হাড়ি ও অন্য সামগ্রী বহন করতে দেখা গেছে। আলম বলে, 'মায় এহানে কাজে দিয়া গেছে। কাজ করতাছি। টাকা দিয়া বাসার খরচ চলে। মাও কাজ করে। কিন্তু তার একার টাকায় সংসার চলে না। তাই আমারে কাজে পাঠাইছে।'
'কিন্তু আমার পড়তে ভালো লাগে। আমি পত্রিকা পড়তে পারি। সুযোগ পাইলে আমি পড়বো'- আক্ষেপ আলমের। আবার এসব শিশুশ্রমিক ও রাস্তাঘাটের পথশিশুরা নেশাসহ বিভিন্ন অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।
গণপরিবহনে পানি বিক্রিরত সফর মিয়া বলে, 'পানি বিক্রি কইরা যা পাই, তা দিয়া নিজেই উড়াই। বাপ-মা কই থাকে জানি না। বগুড়া থেকে ঢাকায় একলগে আইছিলাম। আমি হারায়া গেছি আরও এক বছর আগে। টাকা দিয়া ভাত খাই আর গাম (নেশাদ্রব্য) কিনা খাই। গাম খাইতে ভালা লাগে'।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin