এক মেসিতেই ছত্রখান জুভেন্টাসক্রীড়া প্রতিবেদক জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেন লিওনেল মেসি। তার জোড়া গোলের সুবাদেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জুভেন্টাসকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা _ওয়েবসাইট'তাকে আমার দলে পেয়ে আমি ভাগ্যবান'- লিওনেল মেসিকে নিয়ে ম্যাচ শেষে এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বার্সেলোনার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ভালভার্দে যদি ভাগ্যবান হোন, মঙ্গলবার রাতে তাহলে বড় দুর্ভাগা ছিলেন ম্যাসিমিলানো আলেগ্রি। ন্যু ক্যাম্পে জুভেন্টাস কোচ অসহায় দৃষ্টিতে দেখলেন, প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকা মেসি একাই কীভাবে ছত্রখান করে দিলেন তার দলকে।
ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মেসি নিজে জোড়া গোল করেছেন, সতীর্থ ইভান রাকিতিচের করা গোলেও রেখেছেন বড় ভূমিকা। আর্জেন্টাইন খুদেরাজের নৈপুণ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের মৌসুমে শুভ সূচনা পেয়েছে বার্সেলোনা। গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে যে জুভেন্টাস তাদের বিদায় করে দিয়েছিল, সেই জুভেন্টাসকেই উড়িয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলে। ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত, কিন্তু জুভেন্টাসের গোলদ্বারে জিয়ানলুইজি বুফন নামক এক প্রাচীর থাকায় সেটা হয়নি।
মেসির অসাধারণ দুটো প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন বুফন। একবার লুইস সুয়ারেজকেও গোলবঞ্চিত করেছেন। ম্যাচের শুরুর দিকে তাই গোল পাওয়া হয়নি বার্সার। কিন্তু যে ম্যাচে মেসি নিজের সেরাটা নিংড়ে দেন, সেই ম্যাচে তাকে রুখবার সাধ্য কার? বুফনও পারেননি। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মাঝ মাঠ থেকে সুয়ারেজের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করে জুভেন্টাসের বক্সে ঢুকে কোনাকুনি যে শটটা মেসি নিলেন, সেটা রুখবার সাধ্য ছিল না বুফনের (১-০)।
বিরতি থেকে ফিরে মেসি হয়ে ওঠেন আরও দুর্বার। শুরু থেকেই জুভিদের রক্ষণে ত্রাস ছড়াতে থাকেন তিনি। ৫৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডার পিয়ানিজকে হলুদ কার্ড দেখানোর আবেদন করে নিজেই হলুদ কার্ড দেখা মেসি ২ মিনিট পর বল নিয়ে চিতার ক্ষীপ্রতায় ঢুকে পড়েন জুভেন্টাসের বক্সে। তার নেয়া শটে বুফন পরাস্ত হলেও গোলমুখ থেকে বল ফিরিয়ে দেন স্টেফানো। ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে জালে পাঠাতে ভুল হয়নি ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার রাকিতিচের (২-০)।
৬৯তম মিনিটে আবার জাদুর ঝাঁপি খুলে দিলেন মেসি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পাসে বল পেয়ে জুভেন্টাসের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কোনাকুনি শটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল তুলে নেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার (৩-০)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল তার ৯৬তম গোল। মৌসুমে ইতোমধ্যেই ৭টি গোল পেয়ে যাওয়া আর্জেন্টাইন ক্ষুদেরাজ হ্যাটট্রিকটাও পেয়ে যেতেন, যদি ৫১ মিনিটে তার বুলেট গতির শট পোস্টে প্রতিহত না হতো।
মেসির সেটা নিয়ে আক্ষেপ থাকতেই পারে। ম্যাচ শেষে এমন আক্ষেপে পুড়েছে জুভেন্টাসও। ন্যু ক্যাম্পে বার্সা রাজত্ব করলেও গোল পাওয়ার মতো বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল আলেগ্রির শিষ্যরা। দ্বাদশ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে মিরালেম পিয়ানিচের নেয়া শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর গঞ্জালো হিগুয়েনের শট ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান। ৮১তম মিনিটে পাওলো দিবালার দূরপাল্লার নিচু শটও ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন এই জার্মান।
স্টেগানের নৈপুণ্যে নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে বার্সা, অন্যদিকে চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে কাতালান ক্লাবটিকে মেসি উপহার দিয়েছে দুর্দান্ত এক জয়। 'ডি' গ্রুপের অন্য ম্যাচে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close