অশ্রম্নজলে বিদায় বুফনেরক্রীড়া ডেস্ক জিয়ানলুইজি বুফনরাশিয়া বিশ্বকাপে খেলে বিদায় নেয়ার ইচ্ছা ছিল। নিজের সেই ইচ্ছার কথা বলেও রেখেছিলেন জিয়ানলুইজি বুফন। কিন্তু কিংবদন্ত্মি এই গোলরক্ষকের সেই ইচ্ছাটা অপূর্ণ থেকে গেল। নিজেদের ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করে বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। ৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বকাপে থাকছে না আজ্জুরিরা। ইতালির ফুটবলে এমন অন্ধকার যুগের শুরম্নতেই আন্ত্মর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন বুফন।
সোমবার রাতে পেস্ন-অফের দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে সুইডেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ইতালি। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে আসার ফলে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় আজ্জুরিদের। এরপরই আন্ত্মর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছেন বুফনসহ ইতালির বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার। এই তালিকায় রয়েছেন জুভেন্টাসে বুফনের সতীর্থ আন্দ্রেয়া বারজাগলি এবং রোমার মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল ডি রোসি। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন জর্জো কিয়েলিনিও। এই চারজন ইতালির জার্সিতে মোট ৪৬১টি ম্যাচ খেলেছেন।
বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই ইতালির প্রতিনিধিত্ব করেছেন ৩৯ বছর বয়সী বুফন। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অধিনায়কত্ব করছেন ২০১১ সাল থেকে। ২০০৬ সালে ইতালির সবশেষ বিশ্বকাপজয়ী দলের গর্বিত সদস্য ছিলেন। ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তুলেছিলেন ফাইনালে। সুইডেনকে হারিয়ে ইতালি রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পেলে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যেতেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বুফন। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়েও নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন অনেক কষ্টে। বললেন, 'এটা হতাশাজনক। দেশের ফুটবলের জন্যই এটা হতাশাজনক। আমরা এমন একটা বিষয় অর্জনে ব্যর্থ হলাম, যা দেশের ফুটবলের জন্য খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ হতে পারত। এটিই আফসোস।' অবসরের সঙ্গে ইতালির বিশ্বকাপে যেতে না পারার ব্যর্থতা জড়িয়ে থাকাটাই বেশি পোড়াচ্ছে বুফনকে, 'আমার অবসর নেয়ার সঙ্গে ইতালির বিশ্বকাপে যেতে না পারা জড়িয়ে থাকল, এটা কষ্টের।'
অধিনায়কের অবসরের সঙ্গে আন্ত্মর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন বারজাগলি। ইতালির জার্সিতে ৭৩টি আন্ত্মর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। খেলেছেন দুটি বিশ্বকাপ, তিনটি ইউরো এবং একটি কনফেডারেশন কাপ। ৩৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারও প্রচ- হতাশ, বিশ্বকাপ বাছাই থেকে ইতালি ছিটকে যাওয়ায়, 'এটি আমার জীবনের সবচেয়ে হতাশার মুহূর্ত। কী ঘটেছে আমি জানি না। শুধু জানি, আমরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছি। এটা হতাশার আর এই ছেলেগুলোকে ছেড়ে যাওয়াটা কষ্টের।'
৩৪ বছর বয়সী ডি রোসির অভিষেক হয়েছিল ২০০৪ সালে। জাতীয় দলের হয়ে ১১৭ ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন তিনি। খেলেছেন ৩টি করে ইউরো ও বিশ্বকাপ এবং একটি কনফেডারেশন কাপ। যাওয়ার সময় তিনি অবশ্য আশার বাণীই শুনিয়েছেন, 'আমরা আবার শুরম্ন করব। আগের হতাশার মুহূর্তগুলো শেষে যেমন ফিরেছি, এবার তেমনটাই করার চেষ্টা থাকবে। এই জার্সি পরে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়িয়েছি। শেষবারের মতো এটা খুলে রাখতে কেমন অদ্ভুত লাগছে।'
কোচ জামপিয়েরো ভেনতুরা ম্যাচ শেষে অবশ্য সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেননি। ২০২০ ইউরো পর্যন্ত্ম চুক্তি আছে তার। তবে পরিস্থিতি বলছে, ব্যর্থতার দায় নিয়ে সড়ে যেতে হবে তাকে। ভেনতুরা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত্মটা নেবেন ইতালিয়ান ফুটবলের প্রধানকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে, 'আমি এখনও পদত্যাগ করিনি। কারণ আমি এখনও বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলিনি।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close