রা জ শা হী বি শ্ব বি দ্যা ল য়সুবিধাবঞ্চিতদের ভরসা যখন 'ইচ্ছে'শাহীন আলম ও রেদওয়ান বিজয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেইট দিয়ে প্রবেশ করে হাতের বাম দিকের রাস্ত্মা দিয়ে একটু সামনে যেতেই চোখে পড়ে একটি পুরাতন খামারবাড়ি। বাড়িটির বারান্দায় দেখা গেল কয়েকজন শিশু বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের প্রত্যেকের হাতেই খাতা-কলম। শিশুদের সব হাসি-তামাশা-দুষ্টুমিকে সামলে নিয়ে তাদের পড়াচ্ছেন কিছু তরম্নণ। পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ক্লাস শেষ হওয়ার পর দেওয়া হচ্ছে খাবার। এভাবেই এগিয়ে চলছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়ে তোলা 'ইচ্ছে স্কুলে'র কার্যক্রম।
'মেধা দেই, শ্রম দেই, আর্ত-মানবতার সেবা করি, পৃথিবীকে বদলে দেই' স্স্নোগানকে বুকে ধারণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মেধাবী তরম্নণের নিরলস পরিশ্রমের ফল এই স্কুলটি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মির্জাপুর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে পাঁচ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্র্থী মিলে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরম্ন থেকে জায়গার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার বাড়ির বারান্দায় স্কুলটির পাঠদান কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা চৌদ্দ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পনেরো জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন তিন জনের একটি দল করে সপ্তাহে ছয়দিনই তারা স্কুলটিতে ক্লাস নেন।
অবাক করার বিষয় হচ্ছে, স্কুলটি পরিচালনার জন্য তারা কারও কাছ থেকে কোনো প্রকার আর্থিক সহযোগিতা নেন না। অর্থের জোগানের জন্য বিভিন্ন দিবসে ক্যাম্পাসে ফুল, পিঠা, বই ইত্যাদির দোকান দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে তারা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিক্রি করেন। এই লাভের পুরো টাকাই ব্যয় করা হয় স্কুল পরিচালনার কাজে।
স্কুলের প্রতি শিশুদের আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্ন সময় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি ঈদের সময় তাদের নতুন জামা-কাপড় দেয়া হয়। পড়া শেষে পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককেই খাবার দেওয়া হয়। এতে করে স্কুলমুখী হচ্ছে শিশুরা। এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি মির্জাপুরের একটি স্কুলের এখন ওরা নিয়মিত শিক্ষার্থী। 'ইচ্ছে স্কুল'-এ আসার আগে এসব শিশুরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি করে বেড়াতো।
স্কুলের এক শিশু শিক্ষার্থী জানায়, সে প্রতিদিনই স্কুলে আসে। প্রতিদিন ক্লাস করে। তার এই স্কুলে আসতে ভালো লাগে। স্যারেরাও তাকে অনেক আদর করে। ঈদের সময় জামা কাপড় কিনে দেয়। স্কুলটি আজ তাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এমনটিই জানান ইচ্ছের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'আমরা হয়তো বাচ্চাগুলোকে পুরোপুরি শিক্ষিত করতে পারবো না। তবে এটা আশা করি এখান থেকে তারা অন্ত্মত নৈতিক মূল্যবোধটা শিখবে। আর তারা তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় ওরা যদি সামান্যতম জ্ঞানও অর্জন করে তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।'
জানতে চাইলে 'ইচ্ছে'র উপদেষ্টা অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ওমর ফারম্নক বলেন, 'আমরা চেষ্টা করি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে জাগিয়ে তোলার। আমাদের মতো যদি বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষিত সমাজ এবং সরকার এগিয়ে আগে তাহলে এই পথশিশুদের শিক্ষার আলো দিয়ে একদিন বাংলাদেশ আলোকিত হবে।''ইচ্ছে'র কার্যক্রমের প্রশংসায় সংগঠনটির উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, 'কোন ধরনের অনুদান না নিয়ে নিজেদের প্রচেষ্টায় যেভাবে সংগঠনটি চলছে সেই ধারণাটি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। এই ধারণাকে লালন করে তরম্নণরা এগিয়ে এলে আমাদের সমাজের সব অপকর্ম একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ জন্ম নেবে বলেও আমি আশাবাদী।'
২০১২ সালে ১২ ফেব্রম্নয়ারি স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি। সমাজের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক ও অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close