কালিয়াকৈরে বনের জমি দখল করে বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণদেখেও না দেখার ভান কর্তৃপক্ষেরমো. ইমারত হোসেন কালিয়াকৈর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি বন বিভাগের জমি জবরদখল করে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি, কলোনি, দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। সংরক্ষিত বনের জমিতে বিভিন্ন জেলার লোকজন ঘরবাড়ি তৈরি করে বিভিন্ন জেলার নামে নামকরণ করে ছোট-বড় পাড়া-মহলস্না, বাজার, মৎস্য আড়ৎ স্থাপন করছে। এতে উজাড় হচ্ছে সরকারি বনভূমি আর ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন এখানে বসবাস করে। এসব লোকজন স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বিট কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরে দুটি রেঞ্জের আওতায় প্রায় ২২ হাজার একর বন রয়েছে। এসব বন ও বনভূমিকে কালিয়াকৈর ও কাচিঘাটা দুটি রেঞ্জে ভাগ করা হয়েছে। এ দুটি রেঞ্জের আওতায় কাশিমপুর, সাভার, বাড়ইপাড়া, মৌচাক, জাথালিয়া, খলিশাজানি, বোয়ালী, রঘুনাথপুর, চন্দ্রা, গবিন্দপুর নামে বিট অফিস রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিটের আওতায় প্রায় অনেক বনভূমি জবরদখল হয়ে গেছে। পাকুলস্নার টেকের স্থানীয় জনৈক দালাল জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে লোক এসেই পাকুলস্নার টেকে বনের জমিতে ঘর নির্মাণ করে। কিছুদিন গেলে তারাও বিট অফিসের দালাল হয়ে যায়। এভাবে টাকার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনের ঘরবাড়ি তুলে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। দালালদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত্ম প্রায় দুইশ' ঘরবাড়ি, দোকান অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বনের জমিতে। দালালরা নিজেরাও বনের জমিতে কলোনি করে এখন মাসে প্রায় ২০-৩০ হাজার টাকা ভাড়া পায়। এই দালালদের মাধ্যমে বিট অফিসে টাকা দিয়ে এই বিটে প্রতিদিন বনের জমিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। চন্দ্রা অফিসের মাত্র ৩০০ গজ পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বন বিভাগের জমি থেকে গজারি গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে বসতবাড়ি।
ওই বনের জমিতে বসবাসকারী একজন জানান, প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দিতে হচ্ছে বিট অফিসকে। রাঙ্গামাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় লালু সরদারের বাড়ির পাশে অনেকেই বনের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করছে। ওই বিটের আওতাধীন পশ্চিম চান্দরা কারিকর পাড়ার মজিবরের ছোট ভাই রেকর্ডীয় জমির সঙ্গে সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বনের জমি দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছে অথচ পাশেই ছামে ওরফে ছামাদ নামের এক প্রতিবন্ধীর ঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার ভুলুয়া গ্রামের বড় একটি অংশ রংপুরের টেক। এই টেকে অধিকাংশ রংপুরের লোকজন স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বনের জমি দখল করে বসতি স্থাপন করেছে বলে ওই টেকের নাম এখন রংপুরের টেক। কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিট অফিসের আওতায় রংপুরের টেক অবস্থিত। এই টেকে গত ছয় মাসে বনের জমি দখলের হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার করে টাকা নিচ্ছে স্থানীয় বিট অফিস। কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন খলিশাজানি বিট, এ বন বিটের আওতায় রামচন্দ্রপুর এলাকায় বনের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ভোলা নগরী। এখানে সব জবরদখলকারী ভোলা জেলার লোক। এ বিটে শত শত বিঘা বনের জমি জবরদখল হয়ে গেছে। জাথালিয়া বিটেরও একই চিত্র। এ ছাড়া চন্দ্রা বিট অফিসের প্রতিদিন বনের জমিতে নির্মিত হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। এ বিষয়টি চন্দ্রা বিট অফিসার মাহমুদুল হক মুরাদকে জানালে তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আজাহারম্নল ইসলাম জানান, সরকারি বন রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।  
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close