ধানের ক্রেতা না থাকায় লোকসান গুনছেন কেশবপুরের কৃষকরাতন্ময় মিত্র বাপী, কেশবপুর যশোরের কেশবপুরে হাটে ধান বিক্রি না হওয়ায় বাড়ি ফিরছেন এক কৃষক -যাযাদিযশোরের কেশবপুর বাজারে আমদানি করা চাল থাকায় চালকলমালিকরা ধান কিনছেন না। এ কারণে ধান বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কেশবপুর উপজেলায় বোরো ধানের দাম কম। এতে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে উঠলেও সেই ফসল বাজারে বিক্রি করতে এসে মুখ মলিন হয়ে যাচ্ছে তাদের। বিক্রি করে ধানের উৎপাদন খরচও তাদের উঠছে না। সোমবার কেশবপুরে ব্যবসায়ীরা ধান না কেনায় কৃষকরা বাজারে আনা ধান আবার বাড়িতে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর চালকলমালিকরা বাজারে ধান কিনতে আসছে না। তাই বাজারে ধান বিক্রি নেই বললেই চলে। বাজারে আমদানি করা চাল থাকায় চালকলমালিকরা ধান কিনছে না। বুধবার কেশবপুর শহরে ধানহাটায় গিয়ে দেখা গেছে, ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকেরা চরম হতাশ। বোরো ধান মোটা ৭০০ আর চিকন ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বাজারে এসে দেখতে পাচ্ছেন ধানের বাজার পড়ে গেছে। এদিন আলতাপোল গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ (ভ্যানচালক) বলেন, পরের জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধানের চাষ করি। ধান নিয়ে আসছিলাম কেশবপুর বাজারে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ধান না কেনায় বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যে ধান এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮৫০ টাকা, এখন তা ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। তাও বাজারে ব্যবসায়ীরা নিতে চাচ্ছেন না। আরেক কৃষক শাহিনুর রহমান বলেন, তিনি লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করেছেন। তার এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ মণ ধান হয়েছে। খরচ পড়েছে ২২ হাজার টাকার মতো। তিনি আরও বলেন, এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। সেই হিসাবে ২৫মণ ধান বিক্রি করে তার এসেছে ২০ হাজার টাকা। এতে লাভের চেয়ে উল্টো ২ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। হাবাসপোল গ্রামের কৃষক শওকত আলী বলেন, এ বছর ধান কাটার সময় প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মাঠ থেকে ধান আনা ও ঝাড়াই করতে দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, আবহাওয়ার কারণে কৃষি শ্রমিকরা মজুরি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়ায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। একেকজন শ্রমিককে দিনপ্রতি মজুরি ১১০০ টাকা পর্যন্ত্ম দিতে হয়েছে। কৃষকরা জানান, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার মতো কৃষকের সর্বনাশ হয়েছে ব্রি ২৮ জাতের ধানে। এ বছর নেকবস্নাস্টে কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যারা এ জাতের ধান লাগিয়েছিলেন, তাদের দুঃখের সীমা নেই। ভোগতী গ্রামরে কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ২২ কাঠা জমিতে ২৮ জাতের ধান লাগিয়েছিলেন। পেয়েছেন মাত্র ৩ মণ ধান। অথচ তার ২৫ মণের বেশি ধান পাওয়ার কথা ছিল।
জানতে চাইলে কেশবপুর ধান বাজারের ব্যবসায়ী কামরম্নজ্জামান বিশ্বাস বলেন, এ বছর চালকলমালিকরা বাজারে ধান কিনতে আসেনি। সাধারণত এ সময় তারা পাবনা, কুষ্টিয়া খাজানগর ও ঈশ্বরদী থেকে এসে ধান কিনে নিয়ে যেতেন। এ বছর তাদের কারও কোনো খোঁজ নেই। তাই বাজারে ধান বিক্রি নেই বললেই চলে। অনেকে বুধবার ধান নিয়ে বাজারে এনে বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে আমদানি করা চাল আছে বলে চালকলমালিকরা ধান কিনছে না। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এ বছর উপজেলার ১৬ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন ধান। তিনি আরও বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়া একটি সমস্যা। এ কারণে কৃষকরা লাভবান হবেন না। তিনি ব্রি ২৮ জাতের ধান সম্পর্কে বলেন, যেসব কৃষক স্প্রে করেননি, তাদের ধানে নেকবস্নাস্ট লেগেছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close