পূর্ববর্তী সংবাদ
আ'লীগের বিতর্কিত এমপিদের আসনে শরিকদের নজরআওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বর্তমান এমপিরা বাদ পড়তে পারেন, এ রকম প্রায় ৫০টি আসন চিহ্নিত করে প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে বলেছে শরিক দলগুলো। তাদের প্রত্যাশা, আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কোন্দলের মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারলে তারা সহজেই জোটের মনোনয়ন পেয়ে যাবেনইয়াছিন রানা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এরই মধ্যে প্রকাশ্যে দরকষাকষিতে নেমেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দলগুলো। জোটের মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার জন্য তারা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ও বয়োবৃদ্ধ এমপিদের আসনকে টার্গেট করেছে।
শরিক দলগুলোর ধারণা, যে আসনে শাসকদলের প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা চালিয়ে লাভ নেই। কারণ, জোটের মনোনয়ন না পেলে জয়ী হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সে জন্য যে আসনগুলোতে প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেখানে ভালো প্রার্থী দিতে পারলে জোটের মনোনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোরালোভাবে দাবি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যদি ১০০ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী তারা দিতে পারেন, তাহলে অন্ত্মত ৭০টি আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে জাসদের একজন কেন্দ্রীয় নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, যেসব আসনে তাদের প্রার্থী শক্তিশালী এবং যেসব আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বার্ধক্যজনিত কারণে কিংবা বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে বাদ পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেসব আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হয়েছে। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রচারণার জন্য বলা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন জোটের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। কারণ, দলের শক্তিশালী প্রার্থী তৈরি হতে সময় লাগে। এছাড়া চাইলেই তো প্রার্থী পরিবর্তন করা যায় না। কেউ কাউকে ছাড়ও দিতে চায় না। তাই যেসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, যেসব আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়া সহজ হবে বিধায় এই কৌশল ঠিক করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাজোট থেকে ঢাকায় জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিকে আসন দেয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদও (ইনু) ঢাকায় কমপক্ষে একটি আসনে জোটের মনোনয়ন চায়। জোটভুক্ত না হলেও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জোট-বিএনএ ঢাকায় একটি আসন দাবি করছে।
জাতীয় পার্টিও ঢাকায় আরও অন্ত্মত দুটি আসন চায়। বর্তমানে ঢাকায় তাদের এমপি রয়েছেন তিনজন। এরা হলেন- ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম; ঢাকা-৪ আসনে আবু হোসেন বাবলা এবং ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশিদ।
হএক্ষেত্রে তাদের টার্গেট ঢাকা-৫ ও ১৭ আসন। কারণ, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোলস্না বার্ধক্যজনিত কারণে হয়তো আর নির্বাচন করবেন না; তবে তার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন। আর ঢাকা-১৭ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেও বিএনএফ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এলাকায় কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। তাই ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করতে চান জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ।
আর ঢাকা-৫ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী করতে ইচ্ছুক দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুস সবুর আসুদকে। এ ব্যাপারে আবদুস সবুর আসুদ যায়যায়দিনকে বলেন, তিনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এই আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে আশ্বস্ত্ম করেছেন।
অন্যদিকে ঢাকা-৫ আসনে জাসদের সম্ভাব্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম। তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী হয়েছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কথায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মেয়র সাঈদ খোকনকে সমর্থন দেন। দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে ঢাকা-৫ আসনে তার প্রচারণার অনুমতি নিয়েছেন। আশা করেন, জোটের মনোনয়ন পাবেন।
অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পাশাপাশি বিএনএ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এবং জাসদের সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার নির্বাচন করতে আগ্রহী। তারা ইতোমধ্যেই এই আসনে প্রার্থিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
এ রকম আরেকটি আসন চট্টগ্রাম-১৫। এখানকার এমপি আবু রেজা মু. নেজামুদ্দিন নদভী। তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা নদভীর বাবা জামায়াতে ইসলামীর নেতা। গত বছর রিজিয়া রেজা নদভী প্রথমে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা লীগের এবং পরে মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় পদ পাওয়ায় সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় হয়। এখন আবু রেজা নদভীকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক দুই আমির গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামীর নানা ছবি। জামায়াত-সংশিস্নষ্টতার কারণে আগামী নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন নাও পেতে পারেন- এমন প্রচারণা আছে। এনিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিভক্তিও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় এখানে জাসদ এবং সাম্যবাদী দল মনোনয়নের সুযোগ নিতে চাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
পাশাপাশি বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে এমএ লতিফের চট্টগ্রাম-১১ আসনেও প্রার্থী দিতে চাচ্ছে ১৪ দলের শরিকরা।
একইভাবে ময়মনসিংহ-৬ আওয়ামী লীগ এমপি মুসলিম উদ্দিনের আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাসদের ময়মনসিংহ মহানগরের আহবায়ক এবং ময়মনসিংহ পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু। এমপি মুসলিম উদ্দিনের বিরম্নদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত্মাধীন। স্থানীয় আওয়ামী লীগও নেই তার পাশে। তার বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য 'তিনিও এমপি, তার বউ-ছেলে-মেয়েও এমপি। তাদের ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগ দিশেহারা।' এ অবস্থায় সহজেই মিন্টু জোটের মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন জাসদ নেতারা। এ ব্যাপারে মিন্টু বলেন, এ আসনের জনগণ এমপির দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের কারণে অতিষ্ট। স্থানীয় আওয়ামী লীগও এমপির দ্বারা নির্যাতিত হয়ে এখন তার পাশে। জোটের মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে বিশ্বাস করেন।
যশোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম। জোটের মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দলকে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন তিনি।
ঢাকা-১১ আসনের এমপি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউলস্নাহ। সম্প্রতি তার আসনের বেরাইদ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্ত্মার ও ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটে। যার জন্য প্রত্যক্ষভাবে রহমতউলস্নাহর ভাগিনা ফারম্নককে এবং পরোক্ষভাবে তাকেই দোষারোপ করছে তার প্রতিপক্ষ। এ ঘটনাকে পুঁজি করে এমপির অপশাসনসহ নানা অসংগতি তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়ে জনমত গঠন করতে চাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সল চিশতী। তিনি বলেন, এলাকাবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। এ বিষয়গুলোর সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে জনমত গঠন করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান এমপির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা গেলে মহাজোট থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।
যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি রণজিৎ কুমার রায়ের স্থানে জোটের মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট বু্যরোর সদস্য ও জেলা সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ। দলে অবস্থান শক্ত না থাকা, কোন্দল ও বিতর্কিত কাজের জন্য এবার তিনি নৌকার মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন। তাই জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি এ আসনে মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের স্বতন্ত্র এমপি মকবুল হোসেনের আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট বু্যরোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল। তিনি জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
নাটের-২ শফিকুল ইসলাম শিমুলের আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইব্রাহিম খলিল।
দিনাজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালের স্থানে মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আব্দুল হক। এমপির বিরম্নদ্ধে অবস্থান নিয়েছে নিজ দলেরই একটি অংশ। এছাড়া তার নানা দুর্নীতি, অপকর্মের অভিযোগ দলের নেতাদের। ফলে সংগঠনে কোন্দল ও এমপির বিতর্কের কারণে জোটের মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আব্দুল হক।
পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ এমপি একেএমএ আউয়াল দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরণ ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত্মের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানোর কারণে বিতর্কিত। তাই এ আসনে সহজে জোটের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দৌড়ঝাঁপ করছে জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং জাতীয় পার্টি এরশাদ। তবে এখানে এখনো নির্দিষ্ট প্রার্থী ঠিক করে প্রচারণা শুরম্ন করেনি তারা।
একইভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বর্তমান এমপিরা বাদ পড়তে পারেন, এ রকম প্রায় ৫০টি আসন চিহ্নিত করে প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে বলেছে শরিক দলগুলো। তাদের প্রত্যাশা, আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কোন্দলের মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারলে তারা সহজেই জোটের মনোনয়ন পেয়ে যাবেন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close